Delhi Blast

২০২২ সালে তুরস্ক ভ্রমণ! সেখান থেকেই ‘সেশন’ অ‍্যাপের মাধ্যমে ধৃত ইসলামি জঙ্গি চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ, বিপুল অর্থের লেনদেন মুজাম্মিলদের

তদন্তে জানা গিয়েছে, এই জঙ্গি মডিউল দুটি টেলিগ্রাম চ্যানেলে সক্রিয় ছিল, একটি “উমর বিন খত্তাব” ও “ফরজান্দ দারুল উলূম”। এই টেলিগ্রাম চ‍্যানেলগুলি জইশ-ই- মহম্মদের এর অনলাইন প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর জন‍্য ব‍্যবহৃত হয়। এই চ্যানেলগুলিতে জেইএম প্রতিষ্ঠাতা জঙ্গি মসুদ আজহারের বক্তৃতা ও “জিহাদ”-এর প্রচার করা হতো।

তুরস্ক থেকে বসে ভারতে নাশকতার পরিকল্পনা।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ১৪ নভেম্বর ২০২৫ ১২:০০

হরিয়ানার ফরিদাবাদের ভাড়া বাড়ি থেকে ২৯০০ কেজি অ‍্যামোনিয়াম নাইট্রেট বাজেয়াপ্ত করেছিল জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ। সেই ঘটনায় ইসলামি জঙ্গি সন্দেহে ‘চিকিৎসক’ মুজাম্মেল শাকিল-সহ তিন জন চিকিৎসকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, দেশের বাইরেও ইসলামি জঙ্গিদের যোগাযোগ রাখত এই মুজাম্মিল শাকিল। দেশজুড়ে নাশকতার পরিকল্পনা করেছিল। তা কীভাবে বাস্তবায়িত হবে বা কীভাবেই করতে হবে, গোটাটাই একটি ‘এনক্রিপ্টেড মেসেঞ্জার’ ব‍্যবহার করা হয়েছিল। তুরস্কে বসে থাকা এক জইশ-ই-মহম্মদ হ‍্যান্ডেলারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হত বলেও জানতে পেরেছে গোয়েন্দারা।

গোয়েন্দা সূত্র জানাচ্ছে, ফারিদাবাদ ‘ইসলামি সন্ত্রাস মডিউল’-এর সঙ্গে যুক্ত কয়েক জন ব্যক্তি গত ২০২২ সালের মার্চ মাসে ভারত থেকে তুরস্কের আঙ্কারা সফরে গিয়েছিল। আর তাতেই গোয়েন্দাদের সন্দেহ আরও জোরালো হচ্ছে। গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, সেখানে ‘আবু উকাসা’ নামে এক জনের সঙ্গে দেখা করে। এই ‘আবু উকাসা’ ছিল ধৃত ইসলামি জঙ্গি চিকিৎসকদের ‘হ্যান্ডলার’। পাকিস্তানের ওপরে ভারতের নজরদারি এড়াতে তুরস্ককে বেছে নেওয়া হয় বলে মনে করছে গোয়েন্দারা।

নিরাপত্তা সংস্থা সূত্রের খবর, গ্রেফতার হওয়া চিকিৎসক মুজাম্মিল শাকিল  এবং উমর উন নবি, তুরস্কে বসে থাকা হ্যান্ডলারদের ‘আবু উকাসা’  সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার জন্য “সেশন” নামের একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত এবং এনক্রিপটেড মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতেন। এই অ্যাপটির বিশেষত্ব হল— এটি রেজিস্ট্রেশনের জন্য কোনও মোবাইল নম্বর চায় না। সংরক্ষণ করে না মেটাডাটাও। একাধিক সার্ভারের মাধ্যমে বার্তা পাঠিয়ে ব্যবহারকারীর ‘আইপি এড্রেস’ লুকিয়ে রাখা যায়। 

জানা গিয়েছে, ‘সেশন’ অ‍্যাপ ব‍্যবহার করার আগে অভিযুক্তেরা তুরস্কের একটি ভার্চুয়াল নম্বর (+৯০) ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ করত। তাদের হ্যান্ডলার, যিনি “আবু উকাসা” নামে পরিচিত ছিলেন, প্রথম যোগাযোগের পর তাদেরকে আরও সতর্ক করে। নিরাপত্তার জন্য ‘সেশন’ এই অ্যাপ ব্যবহার করার নির্দেশ দেয়।

প্রতিবেদন বলছে, ইসলামি জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ-এর ‘অপারেশন’-এ তুরস্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। গত ২০২২ সালে এই দুই ইসলামি জঙ্গি চিকিৎসক তুরস্কে গিয়ে ওই সংগঠনের শীর্ষ অপারেটিভদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। যার মধ্যে একজন আবু উকাসাও ছিল। গোয়েন্দা কর্তাদের মতে, পাকিস্তানি ইসলামি জঙ্গি সংগঠনের হ্যান্ডলারদের সঙ্গে সরাসরি যোগসূত্র লুকাতে তুরস্ককে কৌশলগত ভাবে বৈঠকের কেন্দ্র হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। তুরস্কের ভার্চুয়াল নম্বর ও তথাকথিত “নিরপেক্ষ” অবস্থান ব্যবহার করে তাদের নেতৃত্ব ও ভারতের মাটিতে সক্রিয় স্লিপার সেলগুলির মধ্যে একটি ‘বাফার জোন’ তৈরি করার চেষ্টা করেছে।

পরবর্তী তদন্তে জানা গিয়েছে, এই জঙ্গি মডিউল দুটি টেলিগ্রাম চ্যানেলে সক্রিয় ছিল, একটি “উমর বিন খত্তাব” ও “ফরজান্দ দারুল উলূম”। এই টেলিগ্রাম চ‍্যানেলগুলি জইশ-ই- মহম্মদের এর অনলাইন প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর জন‍্য ব‍্যবহৃত হয়। এই চ্যানেলগুলিতে জেইএম প্রতিষ্ঠাতা জঙ্গি মসুদ আজহারের বক্তৃতা ও “জিহাদ”-এর প্রচার করা হতো। যা ধর্মীয় আলোচনার আড়ালে নতুন সদস্যদের মগজধোলাইয়ের উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছিল বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা।

বর্তমানে তদন্তকারীরা ভারতের বাইরে এই জঙ্গিরা ডিজিটালি কীভাবে যোগাযোগ করত, তুরস্ক ছাড়া আর কোথায় গিয়েছে, কীভাবে আর্থিক লেনদেন হয়েছে, তা বিশ্লেষণ করছেন।


Share