TMC Joins Hands With UDF

কেরলে কংগ্রেসের সঙ্গে হাত মেলাল তৃণমূল কংগ্রেস, কিন্তু তাতেও কী ফিরবে জাতীয় দলের তখমা? জোর চর্চা রাজনৈতিক মহলে

১৯৯৮ সালের ১ জানুয়ারি তৃণমূল প্রতিষ্ঠা হয়। ২০১৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর প্রথমবার জাতীয় দলের স্বীকৃতি পায় তৃণমূল কংগ্রেস। তবে পরবর্তী নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া বাকি রাজ্যগুলিতে আশানুরূপ ফলাফল না করায় দলটি জাতীয় রাজনৈতিক দলের তকমা পাওয়ার শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়।

কেরলের বিরোধী দলনেতা ভিডি সাত্তিসন।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ১০:৩৬

২০২৬ সালে কেরলে হবে বিধানসভা নির্বাচন। নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে কেরলে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (ইউডিএফ) এর সঙ্গে হাত মেলালো তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূল ছাড়া আরও একটি দল জোটবদ্ধ হওয়ার কথা থাকলেও, তাঁরা ইউডিএফ-এর সঙ্গে জোটে যাচ্ছে না। জোটে যাওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিয়েছে তাঁরা। তবে কেরলে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ-এর সঙ্গে হাত মিলিয়ে সর্বভারতীয় তখমা কী আদেও ফিরবে? তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

গত কয়েক দিন আগে তৃণমূলে যোগদান করেছেন প্রধান বামফ্রন্ট নেতা পিভি আনোয়ার। সোমবার কেরলের বিরোধী দলনেতা ভিডি সতীশন জানিয়েছেন, প্রাক্তন বিধায়ক পিভি আনোয়ার নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের ইউডিএফএফ-এর সহযোগী সদস‍্য হিসেবে যোগদান করেছে। একই সঙ্গে কেরলের আদিবাসী নেতা সিকে জানুর নেতৃত্বাধীন জনাধিপত্য রাষ্ট্রীয় সভা (জেআরএস) ইউডিএফ-এর সহযোগী সদস্য হিসেবে যোগ দিচ্ছে বলেও জানান তিনি।

তৃণমূল কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার পরে মণিপুর এবং ত্রিপুরায় রাজ‍্য-স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের তখমা পায়। জাতীয় স্বীকৃতি থাকলে তৃণমূল কংগ্রেস দেশের ভোট রাজনীতিতে বেশ কিছু অতিরিক্ত সুযোগ সুবিধা পেত। প্রধানত, জাতীয় রাজনৈতিক দল হিসাবে সমগ্র দেশে একটি অভিন্ন নির্বাচনী প্রতীক ব্যবহারের অধিকার পেত তারা। পাশাপাশি, সরকারি সম্প্রচার মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারের জন্য নির্ধারিত সময়ও বরাদ্দ হত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের জন্য। এ ছাড়াও, জনপ্রতিধিত্ব আইন অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের সর্বদলীয় বৈঠকে অংশগ্রহণের নিশ্চয়তা থাকত। এমনকি দিল্লিতে দলীয় কার্যালয়ের জন্য স্থান পাওয়ার অধিকারী ছিল পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল।

১৯৯৮ সালের ১ জানুয়ারি তৃণমূল প্রতিষ্ঠা হয়। ২০১৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর প্রথমবার জাতীয় দলের স্বীকৃতি পায় তৃণমূল কংগ্রেস। তবে পরবর্তী নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া বাকি রাজ্যগুলিতে আশানুরূপ ফলাফল না করায় দলটি জাতীয় রাজনৈতিক দলের তকমা পাওয়ার শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের আগে নির্বাচন কমিশন জাতীয় দলের স্বীকৃতি হারায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস । ২০২৩ সালের ১০ এপ্রিল ভারতের নির্বাচন কমিশন ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’-এর জাতীয় দলের স্বীকৃতি প্রত্যাহৃত হয়।

এ বার কেরলে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ-এর সঙ্গে সহযোগী হিসেবে কেরলে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে তাদের সহযোগী হিসেবে যোগ দিল তৃণমূল। কেরল বিধানসভার রয়েছে ১৪০টি আসন। কেরলের বিরোধী দলনেতা সতীশন দাবি করেছেন, তাঁরা রাজ্যে ১০০টি আসনে জেতার লক্ষ্যে ঝাঁপাবেন। কেরলে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ-এর সহযোগী হওয়ায় রাজনৈতিক মহল জোর চর্চা শুরু হয়েছে। তাঁরা মনে করছে, কংগ্রেসকে সামনে রেখে কেরলে খাতা খুলতে মরিয়া তৃণমূল। তবে জোট কতটা মজবুত হবে তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ। 

কেরলের বিরোধী দলনেতা বিষ্ণুপুরম চন্দ্রশেখরনের নেতৃত্বাধীন কেরল কামরাজ কংগ্রেস (কেকেসি) জোটে আসার কথা   বললেও কয়েক ঘন্টার মধ্যে কেকেসি তরফে চন্দ্রশেখরন জানিয়ে দেন, তাঁরা ইউডিএফ-এর সঙ্গে জোটে যাচ্ছেন না। তাঁর দাবি, বিজেপির সঙ্গে রাজনৈতিক কিছু সমস‍্যা থাকলেও, তা মিটে গিয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, “কেকেসি এখনও এনডিএ-র অংশ। বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে আমাদের কিছু অসন্তোষ ছিল, যা বিজেপির রাজ্য সভাপতি রাজীব চন্দ্রশেখরের মাধ্যমে মেটানো হচ্ছে। ব্যক্তিগত আলোচনায় আমি কংগ্রেসের কয়েকজন শীর্ষ নেতার কাছে এনডিএ নিয়ে আমার অসন্তোষের কথা বলেছিলাম। কিন্তু ইউডিএফে কেকেসিকে অন্তর্ভুক্ত করার কোনও অনুরোধ করিনি।”

বিরোধী দলনেতা বলেন, “কেরলে পিনারাই বিজয়ন সরকারের পুনরায় ক্ষমতায় আসার কোনও প্রশ্নই নেই। স্থানীয় সংস্থা নির্বাচনে ধাক্কা খাওয়ার পরও শাসক বামফ্রন্ট জনবিরোধী নীতি চালিয়ে যাচ্ছে এবং লোকদেখানো কিছু কল্যাণমূলক পদক্ষেপ নিচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, ইউডিএফ ২০২৬-এর জন্য ‘মিশন-২০২৬’ শুরু করেছে। জানুয়ারির মধ্যেই আসন বণ্টন ও প্রার্থী নির্বাচন শেষ হবে। ফেব্রুয়ারিতে কাসারগোদ থেকে তিরুবনন্তপুরম পর্যন্ত পদযাত্রার মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচার শুরু করা হবে।


Share