Delhi Blast

দেশের চারটি শহরে ধারাবাহিক বিস্ফোরণের ছক, ইসলামি জঙ্গি উমরের ডায়েরির হদিশ পেল পুলিশ, দিল্লি বিস্ফোরণ কাণ্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য

বিস্ফোরণের জন্য হুন্ডাই আই২০ এবং লাল ইকো স্পোর্টস গাড়ি ছাড়া আরও দু’টি গাড়ি প্রস্তুত করা হয়েছিল বলে পুলিশ অনুমান করছে। ডায়েরিগুলি বাজেয়াপ্ত করে তার পরীক্ষা করা হচ্ছে। দফায় দফায় মুজাম্মিলকে জেরা করা হচ্ছে। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে।

দিল্লি বিস্ফোরণ কাণ্ডে অভিযুক্ত উমর নবি।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ১৩ নভেম্বর ২০২৫ ১২:০৫

দিল্লি বিস্ফোরণ কাণ্ডে ধৃত ইসলামি জঙ্গি মুজাম্মেল শাকিলের ডায়েরির হদিশ পেল পুলিশ। চলন্ত গাড়িতে বিস্ফোরণে মৃত উমর নবিরও ডায়েরির হদিশ পেয়েছে গোয়েন্দারা। সূত্রের খবর, সেই ডায়েরিতে বেশ কিছু সাংকেতিক ভাষায় অনের তথ্য লেখা রয়েছে। দেশের অন্তত চারটি শহরে নাশকতার পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে জানতে পেরেছেন তাঁরা। সেটাকে ডিকোড করার চেষ্টা করছেন দেশের গোয়েন্দারা।

দিল্লি পুলিশ সূত্রে খবর, ধারাবাহিক বিস্ফোরণের ষড়যন্ত্র করেছিল ৮ জন ইসলামিক জঙ্গি। চারটি শহরে একই সময়ে বিস্ফোরণের পরিকল্পনা ছিল তাদের। প্রতিটা দলে দু’জন করে মোট চারটি দলে ভাগ হয়ে বিস্ফোরণের ছক কষেছিল ইসলামি জঙ্গিরা। ওই চার শহরে রেকিও করেছিল তারা। প্রতিটি দলের কাছে একাধিক অ‍্যামোনিয়াম নাইট্রেট সমৃদ্ধ আইইডি রাখারও পরিকল্পনা করেছিল বলে জানতে পেরেছে পুলিশ।

‘এবিপি আনন্দ’-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই ইসলামি জঙ্গি চিকিৎসক মুজাম্মেল এবং মৃত উমরের থেকে পাওয়া ডায়েরিতে ৮ থেকে ১২ নভেম্বরের বিশেষ পরিকল্পনা উল্লেখ ছিল। তবে বিস্ফোরণ ঘটেছে ১০ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টা ৫২ মিনিটে। ৮ থেকে ১২ তারিখের মধ্যে আর কী পরিকল্পনা ছিল জঙ্গিদের? তা বিশ্লেষণ করে দেখছেন গোয়েন্দারা। ডায়েরিতেই ২৫ জনের নাম রয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। ওই দলের বাকিরা কোথায়, তাদের খোঁজে চলছে তল্লাশি অভিযান। এই ২৫ জনের বেশির ভাগই জম্মু-কাশ্মীর এবং ফরিদাবাদের বাসিন্দা।

দিল্লি বিস্ফোরণ কাণ্ডে আরও এক চিকিৎসককে আটক করেছে কানপুর এটিএস। আটক চিকিৎসকের নাম আরিফ। আরিফ কানপুর মেডিকেল কলেজে কর্মরত ছিল বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ সূত্রে এ-ও জানা গিয়েছে, দিল্লি বিস্ফোরণের দিন শাহিন শাহিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে আরিফ। শাহিনের ভাইয়ের সঙ্গেও যোগাযোগ আরিফের। কানপুর থেকে পালানোর সময় আটক আরিফ।

অন্যদিকে, দিল্লির লালকেল্লার কাছে ভয়াবহ বিস্ফোরণের আগে অর্থ সংগ্রহ করছিল ‘জঙ্গি ডক্টরর্স গ্যাং’।পুলিশ সূত্রে খবর, বিস্ফোরণে অভিযুক্ত চিকিৎসক মুজাম্মিল শাকিল, আদিল আহমেদ রাথারে, শাহিন শাহিদ ও উমর উন নবি যৌথভাবে প্রায় ২০ লক্ষ টাকা সংগ্রহ করেছিল। বিস্ফোরণের মাস্টারমাইন্ড উমর উন নবির হাতে পরে পুরো টাকা তুলে দেওয়া হয়। আইইডি তৈরির জন্য গুরুগ্রাম ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল থেকে ২০ কুইন্টালের বেশি এনপিকে সারও কেনা হয়, যার দাম তিন লক্ষ টাকা। টাকার হিসেব নিয়ে উমর উন নবির সঙ্গে মুজাম্মিল শাকিলের বিরোধ বেঁধেছিল  বলেও পুলিশ সূত্রে খবর। বিস্ফোরণের আগে একটি অ্যাপে দুই থেকে চার জনের গ্রুপ খুলেছিল মাস্টারমাইন্ড উমর।


Share