Punjab Election

পঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে এবিভিপিকে সমর্থন জানিয়েছে শিরোমণি অকালি দল! বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির সঙ্গে জোট জল্পনা

এই নির্বাচনে তাঁকে শিরোমণি অকালি দলের ছাত্র সংগঠন এসওআই সমর্থন করেছে। এই প্রথম এবিভিপি পরপর দু’বার পঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সভাপতির পদ দখল করল।

এবিভিপি নেতা অঙ্কিত বিধান।
নিজস্ব সংবাদদাতা, পঞ্জাব
  • শেষ আপডেট: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:১৭

পঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের নির্বাচনে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের প্রার্থীকে সমর্থন করেছে শিরোমণি অকালি দলের ছাত্র সংগঠন এসওআই। বিজেপি আগে জানিয়েছিল, তারা আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে একাই লড়বে। কিন্তু এবিভিপিকে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে শিরোমণি অকালি দলের সমর্থন করা নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু করেছে। আগামী বছরে পঞ্জাবের বিধানসভা নির্বাচনে কী ফের বিজেপির সঙ্গে জোট করতে চলেছে শিরোমণি অকালি দল? তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে।

অতীতে বিজেপি ও শিরোমণি অকালি দল দীর্ঘদিন জোটসঙ্গী ছিল। পরবর্তীতে কৃষি বিল পাস করানো নিয়ে দুই দলের সম্পর্কে অবনতি ঘটে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভা থেকে ইস্তফা শিরোমণি অকালি দলের প্রধান সুখবীর বাদলের স্ত্রী হরসিমরত কউর বাদল দেন। তার দু’বছর পরে বিধানসভা নির্বাচনে পৃথক ভাবে লড়াই করে বিজেপির ভরাডুবি হয়েছিল। বিধানসভা নির্বাচনে মায়াবতীর বিএসপি-কে সঙ্গী করে ১১৭টি আসনের মাত্র তিনটি আসনে জিতেছিল শিরোমণি অকালি দল। কংগ্রেস-ত্যাগী প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিংহের পঞ্জাব লোক কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বেঁধে বিজেপি মাত্র দু’টি কেন্দ্রে জেতে। এর পরে ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে আলাদা ভাবে লড়ে পঞ্জাবের ১৩টি লোকসভা আসনের মধ্যে একটিতে শিরোমণি অকালি দল জেতে। ওই আসনটি সুখবীরের স্ত্রী হরসিমরত জেতেন। বিজেপির ঝুলি ছিল শূন্য।

এরই মধ্যে গত ৭ অগস্ট প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দেখা করেন শিরোমণি অকালি দলের প্রধান সুখবীর সিংহ বাদল। আধ ঘণ্টা ধরে সেই বৈঠক হয়েছিল। কী নিয়ে আধঘন্টা প্রধানমন্ত্রীর মোদীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে তা নিয়ে কোনও পক্ষই কিছু জানায়নি। তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে এখনও জল্পনা রয়েছে। পঞ্জাবের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজেপি নেতা সতীশ পুনিয়ার বক্তব্য ছিল, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ১১৭টি আসনেই একা লড়াই করবে। তিনি বলেন, “বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতিনিধিত্ব করছি। দলের স্পষ্ট বার্তা হল, নির্বাচনে একাই লড়তে হবে।”

সতীশ আরও বক্তব্য ছিল, বিভিন্ন দলের নেতাদের মধ্যে বৈঠক হলে তা কখনওই জোটের ইঙ্গিত নয়। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় অন‍্য দলের নেতারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অন‍্য দলের নেতারা বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করতেই পারেন। তাই এমন বৈঠককে রাজনৈতিক সমঝোতার লক্ষণ হিসেবে দেখা উচিত নয় বলেও জানিয়েছিলেন বিজেপি নেতা সতীশ পুনিয়া।

জানা গিয়েছে, ভোটগ্রহণের আগের দিন শিরোমণি অকালি দলের ছাত্র সংগঠন এবিভিপিকে সমর্থন জানানোর কথা ঘোষণা করে। কেন এক দিন আগেই পটপরিবর্তন হল তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। তবে শিরোমণি অকালি দলের দাবি, তাঁদের নিজেদের প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়ে যায়। বাতিল হয়ে যাওয়ার পরই শেষ মুহূর্তে এসওআই অঙ্কিতকে সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নেয়।

তবে এবিভিপির এই জয়ের পরে পঞ্জাবের বিজেপি প্রাক্তন সভাপতি সুনীল জাখড়ের বক্তব্য জল্পনা আরও জোরালো করেছে। তিনি এই নির্বাচনে শিরোমণি অকালি দলের ছাত্র সংগঠনের ভূমিকা নিয়ে প্রশংসা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, “পঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই পরিবর্তনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। এই জয় নতুন প্রজন্মের নতুন চিন্তাভাবনার প্রতীক। শিরোমণি অকালি দলের ছাত্র সংগঠন এসওআইয় এই জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে।”

উল্লেখ্য, গবেষক ছাত্র অঙ্কিত বিধান ৫০৬ ভোটের ব্যবধানে পঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের সভাপতি পদে জয়ী হয়েছেন। তিনি মোট ৩,১৪৩টি ভোট পেয়েছেন। এই প্রথম এবিভিপি পরপর দু’বার পঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সভাপতির পদ দখল করল। এই জয়কে স্বাগত জানিয়ে বিজেপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) বিএল সন্তোষ। তিনি সমাজমাধ‍্যমে পোস্টে এসওআইয়ের শেষ মুহূর্তের সমর্থনের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি জানান, “অঙ্কিত বিধান পরপর দ্বিতীয় বারের মতো পঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। ভোটের শেষ ৪৮ ঘণ্টায় এসওআই অখিল ভারতীয় বিদ‍্যার্থী পারিষদের প্রার্থীকে সমর্থন করেছে।”

অখিল ভারতীয় বিদ‍্যার্থী পারিষদের এই জয় নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে চর্চা শুরু হয়েছে। একাংশ মনে করছে, বছর ঘুরলেই সালে বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে। বিজেপি সর্বশক্তি দিয়ে পঞ্জাবে ক্ষমতায় দখল করতে ঝাঁপাতে চাইছে। তাই নির্বাচনের আগে একসাথে লড়াইকে বিজেপি-অকালি দলের মধ্যে আসন সমঝোতার ‘ট্রেলার’ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।


Share