Lethal Injection

তেলেঙ্গানায় ৩০০ পঠকুকুরকে বিষাক্ত ‘লিথাল ইঞ্জেকশন’ দিয়ে খুনের অভিযোগ, তদন্তে পুলিশ

পারকাল এলাকার এসিপি সতীশবাবু জানিয়েছেন, পশু চিকিৎসকরা উদ্ধার হওয়া দেহগুলি থেকে নমুনা সংগ্রহ করছেন। ফরেনসিক রিপোর্ট এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে বিষপ্রয়োগের ধরন এবং প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করা আরও সহজ হবে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তদন্তকারী অফিসাররা।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১২ জানুয়ারি ২০২৬ ০৭:০০

তেলঙ্গানার হানুমকোন্ডা জেলায় ৩০০ পথকুকুরকে বিষাক্ত ‘লিথাল ইঞ্জেকশন’ দিয়ে খুনের অভিযোগ। ওই ঘটনায় শ্যামাপেট ও আরেপাল্লি পঞ্চায়েতের দুই প্রধান-সহ ৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে তদন্তে নেমেছে পুলিশ। ৬ থেকে ৮ জানুয়ারির মধ্যে ওই এলাকার কুকুরগুলিকে বিষপ্রয়োগ করে মারা হয় বলে অভিযোগ উঠেছিল। সূত্রের খবর, কুকুরের দেহগুলি মাটি খুঁড়ে পুঁতে দেওয়া হয়। বিষয়টি জানাজানি হতেই পুলিশ ও পশু চিকিৎসকদের একটি দল রবিবার ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। তাঁরা মাটির তলা থেকে একাধিক কুকুরের দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে।

করিমনগরের ‘স্ট্রে অ্যানিম্যাল ফাউন্ডেশন অফ ইন্ডিয়া’ নামে স্বেচ্ছাসেবী এক সংস্থার প্রতিনিধি এ গৌতম ওই ঘটনায় শ্যামপেট থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্তে নেমেছে পুলিশ। তদন্ত শুরু হতেই পুলিশ জানতে পারে, শ্যামাপেট ও আরেপাল্লি পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের মদতেই ভাড়াটে লোক লাগিয়ে পথকুকুরদের বিষাক্ত ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে। এর পর ওই দুই গ্রামের পঞ্চায়েত প্রধান-সহ মোট ৯ জনের বিরুদ্ধে পশু নিষ্ঠুরতা প্রতিরোধ আইনে মামলা রুজু করে পুলিশ। বর্তমানে অভিযুক্তরা পলাতক। তাঁদের খোঁজে তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে।

পুলিশি তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, গ্রামবাসীদের একাংশের চাপের মুখে পড়েই চরম পদক্ষেপ নিয়েছিলেন পঞ্চায়েত প্রতিনিধিরা। গ্রাম পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময়ে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছিলেন, যে কুকুরের সংখ্যা অত্যধিক বেড়ে যাওয়ায় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। সমস্যার সমাধানেই নাকি কুকুরগুলিকে মেরে ফেলা হয়। অভিযোগকারী গৌতমের দাবি, পথকুকুরদের মেরে না ফেলে সরকারের উচিত ছিল টীকাকরণের মাধ্যমে তাদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা।

পারকাল এলাকার এসিপি সতীশবাবু জানিয়েছেন, পশু চিকিৎসকরা উদ্ধার হওয়া দেহগুলি থেকে নমুনা সংগ্রহ করছেন। ফরেনসিক রিপোর্ট এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে বিষপ্রয়োগের ধরন এবং প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করা আরও সহজ হবে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তদন্তকারী অফিসাররা।


Share