Telangana Media Row

মহিলা আইএএসদের ‘কুরুচিকর’ প্রচার! তেলঙ্গানায় একাধিক নিউজ চ্যানেলের বিরুদ্ধে এফআইআর

তেলঙ্গানায় আমলা-সংবাদমাধ্যম সংঘাত চরমে। মহিলা আইএএসদের নিয়ে কুরুচিকর, ভুয়ো খবরের অভিযোগে একাধিক টিভি চ্যানেলের বিরুদ্ধে এফআইআর। সব অভিযোগ অস্বীকার করলেন মন্ত্রী বেঙ্কট রেড্ডি।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, তেলেঙ্গানা
  • শেষ আপডেট: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ ০৩:৫৪

তেলঙ্গানায় নজিরবিহীন সংঘাতের মুখে রাজ্যের আমলা ও সংবাদমাধ্যমের একাংশ। কয়েকটি প্রাইভেট নিউজ চ্যানেলের বিরুদ্ধে ভুয়ো ও কুরুচিকর সংবাদ পরিবেশনের অভিযোগে হায়দরাবাদ পুলিশের কাছে এফআইআর দায়ের করেছে আইএএস ও আইপিএস অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, এনটিভি, তেলুগু স্ক্রাইব, এমআর মিডিয়া তেলঙ্গানা, প্রাইম৯ তেলঙ্গানা, পিভি নিউজ, সিগন্যাল টিভি, ভোলগা টাইমস, মিরর টিওয়াই অফিশিয়াল ও টি নিউজ তেলুগু- এই চ্যানেলগুলি রাজ্যের মহিলা আইএএস অফিসারদের নিয়ে ‘অসম্মানজনক, ভিত্তিহীন ও কুরুচিকর’ খবর সম্প্রচার করেছে। সংগঠনগুলির হুঁশিয়ারি, অবিলম্বে প্রকাশ্যে ক্ষমা না চেয়ে সমস্ত কনটেন্ট টিভি ও ডিজিটাল মাধ্যম থেকে সরানো না হলে আরও কড়া পদক্ষেপ করা হবে।

এই অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৭৫ (যৌন হেনস্থা), ৭৮ (স্টকিং), ৭৯ (শ্লীলতাহানি ও গোপনীয়তায় হস্তক্ষেপ), ৩৫১(১) (অপরাধমূলক ভয় দেখানো) ও ৩৫২ (শান্তিভঙ্গ) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এর আগেই আইএএস অ্যাসোসিয়েশন এক বিবৃতিতে জানায়, এই ধরনের সংবাদ পরিবেশন পাবলিক সার্ভিসে কর্মরত মহিলাদের মর্যাদা ও গোপনীয়তার অধিকারের পরিপন্থী। সাংবাদিকতার আড়ালে চরিত্র হনন করা হচ্ছে এবং সাংবিধানিক পদাধিকারীদের সম্মান ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়। পরে আইপিএস ও আইএফএস অ্যাসোসিয়েশনও একই সুরে কড়া অবস্থান নেয়।

অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে, রাজ্যের মন্ত্রী বেঙ্কট রেড্ডির সঙ্গে এক মহিলা আইএএস অফিসারের তথাকথিত ‘অ্যাফেয়ার্স’ নিয়ে রুচিহীন খবর। পাশাপাশি, ওই সম্পর্কের প্রভাব খাটিয়ে কয়েক জন মহিলা আইএএস নিজেদের পছন্দের পোস্টিং আদায় করেছেন, এমন দাবিও করা হয়। এই সব খবর ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্ক তীব্র হলে শেষ পর্যন্ত এফআইআর দায়েরের পথে হাঁটে সংগঠনগুলি।

এ বিষয়ে মন্ত্রী বেঙ্কট রেড্ডি সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ‘রাজনৈতিক নেতারা সব সময়েই টার্গেটেড। কিন্তু তা বলে মহিলা আইএএস অফিসার-সহ সিএমও নিয়ে টানাটানি ও ভুয়ো ও সারবত্তাহীন খবর দেখানো গর্হিত কাজ। তাঁদের সম্মানহানি করার অধিকার কারও নেই।’ তিনি জানান, রাজ্যের ডিজিপি-র সঙ্গে তিনি এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন ও কী ভাবে এমন রটনা ও মিথ্যে খবর ছড়ানো হলো পুলিশ তার তদন্ত শুরু করেছে। রিপোর্ট জমা পড়লে তিনি এই সব সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে গুরুতর পদক্ষেপ করবেন বলেও জানিয়েছেন।

মন্ত্রী আরও স্পষ্ট করেন, কারও বদলিতে শেষ কথা বলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। সেটাই রীতি। তাঁর কোনও অফিসারের পোস্টিংয়ে কোনও হাত নেই।


Share