Gig Workars

কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপের পরে ‘১০ মিনিটে ডেলিভারি’র বিজ্ঞাপন বদলানোর পথে ব্লিংকিট

তবে এখানে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল ব্র্যান্ডিং বদলানো মানে ডেলিভারির গতি কমে যাওয়া নয়। ব্লিংকিট এখনও যেমন ভাবে তার ডার্ক স্টোর নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে, তা দ্রুত ডেলিভারি সম্ভব রাখবে।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:২৩

গত কয়েক বছর ধরে “১০ মিনিটে ডেলিভারি” ছিল ব্লিংকিটের সবচেয়ে বড় ব্র্যান্ড-পরিচয়। সরকারের হস্তক্ষেপের পরে ডেলিভারি কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় এ বার সেই বিজ্ঞাপন বদলানোর পথে হাঁটতে চলেছে কোম্পানি। ইন্ডিয়া টুডে সূত্রে খবর, ব্লিংকিট তাদের সমস্ত বিজ্ঞাপন, প্রচার ও সমাজমাধ্যম থেকে “১০ মিনিটে ডেলিভারি” সংক্রান্ত তথ্য তুলে দেবে।

এই পরিবর্তনের পিছনে বড় ভূমিকা রয়েছে কেন্দ্রীয় শ্রম মন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্যের। তিনি বিভিন্ন ফুড ডেলিভারি ও কুইক কমার্স প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে বৈঠকে স্পষ্ট মত দেন, ব্র্যান্ডিংয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমার প্রতিশ্রুতি থাকলে ডেলিভারি কর্মীদের ওপর চাপ বাড়াতে পারে, যা তাঁদের নিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেবে। যদিও কোম্পানিগুলি দাবি করে থাকে, দ্রুত ডেলিভারি ‘স্পিড ড্রাইভিং’-এর ওপর নির্ভর করে না, বরং গোডাউন ও ডার্ক স্টোরের কাছাকাছি ডেলিভারি নেটওয়ার্কের ডিজাইনের ফলে সময় কম লাগে। তবুও শ্রম মন্ত্রকের মতে, এমন প্রতিশ্রুতি বিপজ্জনক মানসিকতার হার বাড়াতে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে ব্লিংকিট ছাড়াও জোমাটো, সুইগি-সহ সব বড় প্ল্যাটফর্মের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরকারের বৈঠক হয়। বৈঠকে শ্রম মন্ত্রী কোম্পানিগুলিকে স্পষ্টভাবে জানান—ব্র্যান্ডিং ও বিজ্ঞাপন থেকে নির্দিষ্ট মিনিটে ডেলিভারি সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি তুলে নিতে হবে। বৈঠকের শেষে সব কোম্পানি সরকারকে আশ্বস্ত করে যে তারা বিজ্ঞাপন ও সমাজমাধ্যমে এমন সময়-নির্ভর বার্তা তুলে দেবে না।

তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ব্র্যান্ডিং বদলানো মানে ডেলিভারির গতি কমে যাওয়া নয়। ব্লিংকিট এখনও যেমন ভাবে তার ডার্ক স্টোর নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে, তা দ্রুত ডেলিভারি সম্ভব রাখবে। 

এই পদক্ষেপ কেবলমাত্র সরকারের চাপের প্রতিফলন নয়, বরং দ্রুত বাণিজ্যের পরবর্তী পর্যায়ে একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত। ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতার মাঝেও কোম্পানিগুলি এখন নিরাপত্তা, শ্রম নীতির প্রশ্নে আরও সতর্ক অবস্থান নিতে বাধ্য হচ্ছে।


Share