Bangladeshi Militants Arrested

বাংলাদেশি ইসলামি জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগে অসম ও ত্রিপুরা থেকে ১১ জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ

তিনি বলেন, “গত রাতে (সোমবার) অসমের বরপেটা, চিরাং এবং দরং জেলায়, পাশাপাশি ত্রিপুরায় একটি অভিযান চালানো হয়েছিল। আমরা মোট ১১ জন জিহাদিকে গ্রেফতার করেছি যারা বাংলাদেশ ভিত্তিক সংগঠনগুলির সরাসরি নির্দেশে কাজ করছিল।”

ধৃত ১১ জন জঙ্গি
নিজস্ব সংবাদদাতা, অসম
  • শেষ আপডেট: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ ০৮:০২

বাংলাদেশের ইসলামিক মৌলবাদী সংগঠনের সঙ্গে যোগসূত্রের অভিযোগে অসম এবং ত্রিপুরায় ১১ জনকে গ্রেফতার করল অসম এসটিএফ। অসমের অন্তত চারটি জায়গায়-সহ ত্রিপুরার সীমান্তবর্তী একটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, ভারতে কয়েক জন জেএমবি জঙ্গি লুকিয়ে রয়েছে। ধৃতেরা সবাই ইমাম মাহমুদুর কাফিলা (আইএমকে)-র সদস্য। এই আইএমকে বলে সংগঠনটি ভারতে নিষিদ্ধ। এ ছাড়াও, আইএমকে বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠন জামাত-উল-মুজাহিদিনের শাখা।

বাংলাদেশে পালাবদলের পরে ইসলামিক মৌলবাদীদের যে বাড়বাড়ন্ত হচ্ছিল তার খবর আগে থেকেই ছিল কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির কাছে। সেই কারণেই ভারতে যে তারা জঙ্গি কার্যকলাপ, বিশেষ করে উত্তর-পূর্ব ভারতে তার জাল ছড়াতে পারে তার আঁচ পেয়েছিলেন গোয়েন্দারা। সেই মর্মে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়। অভিযুক্তদের অবস্থান নিশ্চিত হতেই অভিযান চালায় অসম পুলিশের এসটিএফ।

অসম এসটিএফের এক কর্তা জানিয়েছেন, সোমবার রাতে এসটিএফ এবং অসম পুলিশের একটি বরপেটা, চিরাং এবং দরং জেলায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে মোট ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়। একই সঙ্গে আরও একটি দল ত্রিপুরার পশ্চিম ত্রিপুরা জেলায় জয়পুরে অভিযানে যায়। সেখান থেকে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়।

অভিযোগ, এই আইএমকে-এর সদস্যেরা এখানে বসে তারা উগ্রবাদী সাহিত্য যেমন ‘সার্বভৌম’, ‘খামাতার মালিক আল্লাহ’ এবং ‘গজওয়াতুল হিন্দ’-এর সংক্ষিপ্ত আলোচনা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব‍্যব্যবহার করে নিয়মিত ভাবে ছড়ানোর কাজ করত। এ সবের দ্বারা অভিযুক্তেরা ভারতের বিরুদ্ধে দেশের যুবকদের ক্ষেপিয়ে তোলার কাজ করত।

এর জন্য ‘পূর্ব আকাশ’ নামে এক এনক্রিপ্টেড’ সমাজমাধ্যমের ব‍্যবহার করত অভিযুক্তেরা। এ ছাড়াও অভিযুক্তদের মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে ‘পূর্ব আকাশ’ নামে একটি হোয়াটসঅ‍্যাপ গ্রুপেরও হদিশ পেয়েছেন তদন্তকারীরা। যার মাধ‍্যমে অভিযুক্তেরা অসম এবং ত্রিপুরাজুড়ে একে অপরের সঙ্গে সমন্বয় স্থাপনের কাজ করত।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে মাহমুদুর কাফিলা (আইএমকে) সংগঠিটি তৈরি করেছিল জুয়েল মেহমুদ ওরফে ইমাম মাহমুদ হাবিবুল্লাহ ওরফে সোহেল। সোহেল জামাত-উল-মুজাহিদনের একজন প্রাক্তন সদস্য। সোহেল নিজেকে আইএমকে-এর আমির বলে দাবি করে। তার প্রধান কাজ ‘গাজওয়াতুল হিন্দ’-এর মতাদর্শ প্রচার করা। সূত্রের খবর, ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ‍্যুত হওয়ার পরে জেএমবি, আনসারুল্লা বাংলা টিম (এটিবি) এবং আল-কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট (একিউআইএস)-এর শীর্ষ জঙ্গিনেতারা আইএমকে’র নেতাদের ভারতের ভিতরে তাদের জঙ্গি মডিউল সক্রিয় করা এবং সম্প্রসারণের নির্দেশ দেয়।

তাদের নির্দেশ অনুযায়ী, বাংলাদেশি নাগরিক ওমর ও খালিদ-কে অসমভিত্তিক কার্যকলাপ কেমন চলছে তা সমন্বয়ের কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়। নাসিম উদ্দিন ওরফে তামিম অসমে এই সংগঠনের প্রধান। নাসিম বারপেটা রোডের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। সেই কার্যকলাপগুলি এরাই ‘পূর্ব আকাশ’ নামে এনক্রিপটেড সমাজমাধ্যম প্লাটফর্ম ব্যবহার করত। এর মাধ্যমেই অসম, পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরার মুসলিম যুবকদের সন্ত্রাসবাদে দীক্ষিত করা, নিয়োগ, আর্থিক সহায়তা সংগ্রহ এবং সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছিল। এর মধ্যে ভারতীয় পাসপোর্টধারী এবং আগে বাংলাদেশ সফর করা ব‍্যক্তিরাও রয়েছে। এ ছাড়াও, এদের মধ্যে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের প্রাক্তন সদস্যরাও জড়িত রয়েছে বলে জনতে পেরেছেন তদন্তকারীরা।

টাইমস অব বাংলাদেশ-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “আদালত ও কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর অল্প সময়ের মধ্যে ৩৪৬ জন বন্দি জামিনে মুক্তি পায়। এদের মধ্যে রয়েছে ১২ জন শীর্ষ তালিকাভুক্ত অপরাধী। আলোচিত ‘১০ ট্রাক অস্ত্র’ মামলার অভিযুক্ত, আটজন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি এবং অন্তত ১০টি ভিন্ন সংগঠনের সদস্য। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর প্রথম আট মাসে নিষিদ্ধ জামাত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)-এর ১৪৮ জন সদস্যকে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে দায়ের মামলায় জামিন দেওয়া হয়।”


Share