Popular Front of India

প্রতিবেশী দেশগুলি থেকে অস্ত্র নিয়ে এসে মজুত করার চেষ্টা, ভারতে অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করেছে পিএফআই, দিল্লির বিশেষ আদালতে জানালো এনআইএ

শনিবার মামলাটির শুনানি ছিল দিল্লির এনআইএয়ের বিশেষ আদালতে। এজলাসে ইন-ক্যামেরা শুনানি হয়। ওই শুনানিতে পিএফআইয়ের ২০ জন অভিযুক্ত নেতার বিরুদ্ধে গঠিত অভিযোগের ভিত্তিতে দীর্ঘক্ষণ শুনানি চলে। শুনানির শেষে স্পেশাল পিপি রাহুল ত‍্যাগী আদালতের বাইরে এসে সংবাদমাধ্যমের সামনে বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত করেন।

দিল্লি আদালতে বিস্ফোরক দাবি এনআইএয়ের।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ ১১:৪৭

পপুলার ফন্ট অব ইন্ডিয়ার নেতারা প্রতিবেশীদেশগুলি থেকে অস্ত্র ভারতে নিয়ে নিয়ে এসেছিল। দেওয়া হত ক‍্যাডারদের প্রশিক্ষণ। এমনকি ক‍্যাডারদের সিরিয়ায় আইসিসের থেকে প্রশিক্ষণ নিতেও পাঠানো হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল ভারতে হিংসা ছড়ানো এবং শরিয়া আইন বাস্তবায়নের। তার জন‍্য বড়সড় যড়যন্ত্র করা হয়েছিল। শনিবার দিল্লির বিশেষ আদালতে শুনানিতে এমনটাই জানাল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ।

এনআইএর স্পেশাল পিপি রাহুল ত‍্যাগী আদালতকে জানিয়েছেন, পপুলার ফ্রন্ট অফ ইন্ডিয়া বা পিএফআইয়ের নেতারা প্রতিবেশী দেশগুলির থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করার চেষ্টা করেছে। শুধু তাই নয় দেশের মধ্যেও একটা সুসংগঠিত একটা ‘জঙ্গি নেটওয়ার্ক’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা করে ছিল। তারা তাদের ক‍্যাডারদের খরচ করে সিরিয়ায় পাঠিয়েছিল। সেখানে ইসলামিক জঙ্গি সংগঠন আইসিস-এর কাছ থেকে জঙ্গি কার্যকলাপের প্রশিক্ষণ নিয়ে ভারতে তা প্রয়োগ করার পরিকল্পনা করেছিল বলে জানান এনআইএয়ের আইনজীবী রাহুল ত‍্যাগী। তিনি বলেন, “এই সংক্রান্ত সমস্ত নথি এবং ডিজিটাল প্রমাণ আমরা আদালতের কাছে জমা দিয়েছি।”

এনআইএয়ের আরও অভিযোগ, দেশের মুসলমান যুবসমাজকে সন্ত্রাসবাদের কাজে লিপ্ত করার জন‍্য ‘বেন ওয়াশ’ করত পিএফআইয়ের নেতারা। এনআইএয়ের দাবি, তারা ভারতে খিলাফত প্রতিষ্ঠা করে শরিয়া আইনকে বলবৎ করার চেষ্টা করেছিল। ত্যাগী আদালতকে জানান, তার জন‍্য একাধিক রাজ্যে পিএফআই গোপন শিবিরের আয়োজন করছিল। সেখানে তরুণদের উগ্রপন্থায় প্রভাবিত করা, অস্ত্রের প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তথাকথিত ‘জিহাদ’-এর জন্য প্রস্তুত করা কাজ করছিল।

এনআইএ জানিয়েছে, নিষিদ্ধ সংগঠনটি তাদের কার্যকলাপ চালানোর জন্য পরিকল্পিত ভাবে তহবিলও সংগ্রহ করত। সেই অর্থ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, ক্যাডারদের বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াত এবং অস্ত্র ও সরঞ্জাম সংগ্রহে ব্যবহৃত হতো। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার মতে, এই তহবিল বৈধ এবং অবৈধ উভয় পথেই সংগ্রহ করা হতো। পুলিশের নজর এড়াতে তা সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার করা হতো বলেও আদালতের কাছে জানিয়েছেন তাঁরা। 

শনিবার মামলাটির শুনানি ছিল দিল্লির এনআইএয়ের বিশেষ আদালতে। এজলাসে ইন-ক্যামেরা শুনানি হয়। ওই শুনানিতে পিএফআইয়ের ২০ জন অভিযুক্ত নেতার বিরুদ্ধে গঠিত অভিযোগের ভিত্তিতে দীর্ঘক্ষণ শুনানি চলে। শুনানির শেষে স্পেশাল পিপি রাহুল ত‍্যাগী আদালতের বাইরে এসে সংবাদমাধ্যমের সামনে বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত করেন। 

শনিবার রাহুল এ-ও জানিয়েছেন, সংগঠনটি বিজেপি, আরএসএস ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (ভিএইচপি) নেতা ও কর্মীদের উপর নজরদারির জন্য বিশেষ ‘হিট স্কোয়াড’ গঠন করেছিল। এনআইএ-র মতে, এই দলগুলির উদ্দেশ্য ছিল লক্ষ্যভিত্তিক হামলা চালানো এবং দেশের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করা। আগামী ২৩ ডিসেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে আদালত।


Share