Delhi Blast

দিল্লি বিস্ফোরণ কান্ডে গ্রেফতার আরিফ নামে আরও এক চিকিৎসক! ইসলামি জঙ্গি শাহিন শহিদের ফোনের ‘কল রেকর্ড’ বিশ্লেষণ করে লখনউ থেকে পাকড়াও

ফরিদাবাদে অ‍্যামোনিয়াম নাইট্রেট উদ্ধারের ঘটনায় মহিলা ইসলামি জঙ্গি চিকিৎসক শাহিন শহিদকে গ্রেফতার করা হয়। পরে দিল্লি বিস্ফোরণ কাণ্ডে এই চিকিৎসকের নাম জড়ায়। শাহিনের সঙ্গে পাকিস্তানের ইসলামি জঙ্গি সংগঠনের যোগ রয়েছে বলে জানতে পেরেছেন গোয়েন্দারা।

(বাঁ দিকে) মহম্মদ আরিফ, শাহিন শহিদ (ডান দিকে)।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ১৪ নভেম্বর ২০২৫ ০১:৩২

দিল্লি বিস্ফোরণ কাণ্ডে তদন্তে গ্রেফতার আরও এক ইসলামি জঙ্গি চিকিৎসক! আগেই ধরা পড়েছি মহিলা জঙ্গি চিকিৎসক শাহিন শহিদ। পুলিশ সূত্রের খবর, শাহিনের ফোনের সূত্র ধরেই আরও এক ইসলামি জঙ্গি চিকিৎসককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে উত্তরপ্রদেশ থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ধৃতের নাম মহম্মদ আরিফ। পুলিশ সূত্রের খবর, ফরিদাবাদে বিস্ফোরক উদ্ধার এবং দিল্লি বিস্ফোরণ কাণ্ডে ধৃত মহিলা জঙ্গি চিকিৎসক শাহিন শহিদের ফোন পরীক্ষা করার হয়। সেখান থেকেই এই মহম্মদ আরিফের খোঁজ পাওয়া যায়। আরিফের সঙ্গে এই মহম্মদ আরিফ ধৃত শাহিন শহিদের অত‍্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিল বলে জানা গিয়েছে। শাহিনের সঙ্গে আরিফের একাধিক কথোপকথনের তথ্য মিলেছে বলে দাবি।

বৃহস্পতিবার রাতে উত্তর প্রদেশ পুলিশের এটিএস, দিল্লির পুলিশের বিশেষ শাখা এবং জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের একটি দল যৌথভাবে উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি অভিযান চালায়। বৃহস্পতিবার রাতে আরিফকে লখনউয়ের অশোকনগরের একটি ভাড়া বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আরিফকে দফায় দফার জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

পুলিশ সূত্রে এ-ও জানা গিয়েছে, আরিফ এনইইটি-এসএস (ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট ফর সুপার স্পেশিয়ালিটি)-এর ২০২৪ ব্যাচের ছাত্র। বর্তমানে মহম্মদ আরিফ কানপুরের কার্ডিওলজি ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত রয়েছে। আরিফ আদতে জম্মু ও কাশ্মীরের আনন্তনাগ জেলার বাসিন্দা। হরিয়ানার ফরিদাবাদের আল ফালাহ্ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করেছে। সেই সূত্রেই শাহিনের সঙ্গে আলাপ বলে অনুমান করছে গোয়েন্দারা। তবে ষড়যন্ত্রে মহম্মদ আরিফের কী ভূমিকা ছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

পাকিস্তানের ইসলামি জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ প্রধান মাসুদ আজহারের বোন সাদিয়া আজহার ভারতের ভিতরে জইশের নারী শাখা ‘জামাত উল-মোমিনাত’-এর ঘাঁটি স্থাপন এবং নতুন সদস্য নিয়োগের দায়িত্ব দিয়েছিল। জানা গিয়েছে, ‘সেশন’ অ‍্যাপ ব‍্যবহার করার আগে অভিযুক্তেরা তুরস্কের একটি ভার্চুয়াল নম্বর (+৯০) ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ করত। তাদের হ্যান্ডলার, যিনি “আবু উকাসা” নামে পরিচিত ছিলেন, প্রথম যোগাযোগের পর তাদেরকে আরও সতর্ক করে। নিরাপত্তার জন্য ‘সেশন’ এই অ্যাপ ব্যবহার করার নির্দেশ দেয়।

জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ আল-ফালাহ্ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জঙ্গি চিকিৎসক শাহিনকে গ্রেফতার করে শ্রীনগরে নিয়ে যায়। তদন্তে জানা গেছে, তিনি এলাহাবাদ মেডিকেল কলেজের (১৯৯৬-২০০১) ছাত্রী ছিল এবং পরে ফার্মাকোলজিতে এমডি সম্পন্ন করে। ২০০৬ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত তিনি কানপুর মেডিকেল কলেজে সহকারী অধ্যাপক ছিল। ২০১৩ সালে আচমকা নিখোঁজ হন এবং ২০২১ সালে সরকারি চাকরি থেকে বরখাস্ত হয়। এরপর তিনি আল ফালাহ্ বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন এবং সেখানেই আরেক ইসলামি জঙ্গি চিকিৎসক মুজাম্মিলের সংস্পর্শে আসে। শাহিন এই জঙ্গি মডিউলের অন্যতম সংগঠক হিসেবে সন্দেহভাজন।


Share