ED Raid At IPAC

আইপ‍্যাক-কান্ড নিয়ে দিল্লিতে রিপোর্ট দিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট, পৃথক ভাবে উল্লেখ করা হয়েছে ব‍্যক্তিদের ভূমিকা, খবর সূত্রের

বৃহস্পতিবার ভোর থেকে দিল্লি এবং কলকাতায় মোট ১০টি জায়গায় ইডি তল্লাশি অভিযান চালায়। সেই তালিকায় ছিল তৃণমূল এবং রাজ‍্য সরকারের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ‍্যাক-এর কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়ি এবং সল্টলেক সেক্টর ফাইভের সংস্থার দফতর।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ১০ জানুয়ারি ২০২৬ ০৪:৩৭

আইপ‍্যাক-কান্ডে নিয়ে দিল্লিতে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। বেআইনি কয়লা পাচারকান্ডে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে বৃহস্পতিবার ইডি আধিকারিকেরা আইপ্যাক-এর কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং সল্টলেকের সংস্থার দফতরে অভিযান চালান। সেই দিনের তল্লাশি অভিযানের সময় কী হয়েছিল? ইডি সূত্রের খবর, সেই সংক্রান্ত রিপোর্ট দিল্লির সদর দফতরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার পরে সেই রিপোর্ট কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

 

বৃহস্পতিবার ভোর থেকে দিল্লি এবং কলকাতায় মোট ১০টি জায়গায় ইডি তল্লাশি অভিযান চালায়। সেই তালিকায় ছিল তৃণমূল এবং রাজ‍্য সরকারের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ‍্যাক-এর কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়ি এবং সল্টলেক সেক্টর ফাইভের সংস্থার দফতর। অভিযোগ, সেই তল্লাশি অভিযানের সময় প্রথমে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাড়িতে ঢুকে পড়েন। টেবিলে থাকা গুরুত্বপূর্ণ নথি নিয়ে বেরিয়ে যান। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, ইডি তাঁদের দলীয় কাগজপত্র চুরি করেছে। নির্বাচনের রণকৌশল সংক্রান্ত কাগজও চুরি করেছে বলে অভিযোগ করেন তৃণমূলনত্রী।

 

এর পরেই ইডি বিবৃতি দিয়ে জানায়, তল্লাশি চলাকালীন বলপূর্বক ভিতরে প্রবেশ করে মুখ‍্যমন্ত্রী-সহ পুলিশকর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র এবং ডিজিটাল ডিভাইস নিয়ে চলে গিয়েছেন। আদালতের জমা দেওয়া নথিতেও সেই ঘটনার ক্রম উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার পরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক ইডির কাছ থেকে রিপোর্ট তলব করে। ইডি সূত্রের খবর, সেই ঘটনা দিন কী হয়েছিল, কোন কোন আধিকারিক সেখানে উপস্থিত ছিলেন, কোন পুলিশ আধিকারিক সেখানে ছিলেন, কার সঙ্গে কথা বলেছেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কখন সেখানে পৌঁছে গিয়েছিলেন, তার ভূমিকা কী ছিল- এই সমস্ত তথ্য বিস্তারিত ভাবে তৈরি করা হয়েছে। ইডি সূত্রের আরও জানা গিয়েছে, প্রত‍্যেকটি ব‍্যক্তির ভূমিকা কী ছিল তা পৃথক ভাবে তৈরি করে দিল্লির ইডির সদর দফতরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর পরেই সেই চূড়ান্ত রিপোর্ট কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

 

উল্লেখ্য, ঘটনার পরেই পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে পুলিশ মামলা রুজু করে। পরে শুক্রবার মুখ‍্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে দিয়েছে। শনিবার সকাল ১১টা নাগাদ লাউডন স্ট্রিটের প্রতীক জৈনের বাড়িতে যান শেক্সপিয়র সরণি থানার পুলিশ। সেখানে গিয়ে তাঁরা সমস্ত সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। সংগ্রহ করা হয়েছে ডিভিআর। প্রতীকের বাড়ির নিরাপত্তারক্ষী এবং আশেপাশের বাসিন্দাদের বয়ান নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও, বৃহস্পতিবার কত জন ইডি আধিকারিকক এসেছিলেন, কী ভাবে তদন্ত চলে, সেই বিষয়েও প্রতীকের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলা হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রের খবর।

 

তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগে হাই কোর্টের সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা ইডি। পাল্টা তৃণমূলও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। শুক্রবার সেই মামলার শুনানি ছিল। কিন্তু এজলাসে হট্টগোলের কারণে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ উঠে চলে যান। আগামী ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন হাই কোর্টের বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ। 


Share