Delhi blast

মৃত মালিকের নামে জাল নথি বানিয়ে জমি দখল! আল ফালাহ্ বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে ইডির বিস্ফোরক অভিযোগ

আল ফালাহ্ বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান জাওয়াদ আহমেদ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে মৃত ব্যক্তির নামে জাল নথি ব্যবহার করে জমি দখলের অভিযোগে ইডির কঠোর তদন্ত চলছে। লালকেল্লা বিস্ফোরণকাণ্ডে বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের গ্রেফতারের পর আরও জালিয়াতির প্রমাণ মিলছে।

আল ফালাহ্ বিশ্ববিদ্যালয়
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ২৯ নভেম্বর ২০২৫ ০২:২৩

এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের তদন্তে আল ফালাহ্ বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান ও প্রতিষ্ঠাতা জাওয়াদ আহমেদ সিদ্দিকির বিরুদ্ধে গুরুতর জালিয়াতির তথ্য উঠে এসেছে। অভিযোগ, দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লির মদনপুর খাদরে বহু বছর আগে মৃত ব্যক্তিদের নামে জারি করা জাল নথি ব্যবহার করে তিনি মূল্যবান জমি অধিগ্রহণ করেছেন।

এর আগে ১০ নভেম্বর লাল কেল্লা বিস্ফোরণের ঘটনায় তিনজন চিকিৎসককে “হোয়াইট-কলার সন্ত্রাসী মডিউল”-এর সদস্য হিসেবে গ্রেফতারের পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়টি তীব্র নজরদারিতে ছিল। সেই হামলায় ১৩ জন নিহত হন। তদন্তকারীরা এখন বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ নেতৃত্বও নিজস্ব জালিয়াতি চক্র চালাচ্ছিলেন।

গত সপ্তাহে গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে অর্থ পাচারের মামলায় ইডি হেফাজতে থাকা সিদ্দিকি, তার ব্যক্তিগত সংস্থা তারবিয়া এডুকেশন ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে জাল জেনারেল পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি ব্যবহার করে একাধিক জমি ক্রয় করেছেন বলে অভিযোগ। তদন্তে উঠে এসেছে, এই জিপিএ নথিগুলির কয়েকটি জমির মালিকদের মৃত্যুর বহু বছর পর ‘কার্যকর’ করা হয়েছে।

মদনপুর খাদারের ৭৯২ নম্বর খাসরা জমি, যার বাজারমূল্য ৭৫ লক্ষ টাকা। তদন্তকারীদের দাবি, এমন জালিয়াতির মাধ্যমেই হস্তান্তর করা হয়েছে। নথি পরীক্ষা করে দেখা যায়, জাল স্বাক্ষর, ভুয়ো বৃদ্ধাঙ্গুলির ছাপ ব্যবহার করে মৃত ব্যক্তিদের নামে ২০০৪ সালে জমি বিক্রির অনুমোদন দেখানো হয়েছে।

এই প্রতারণার মূল ব্যক্তি হিসেবে উঠে এসেছে বিনোদ কুমার নামে এক ব্যক্তির নাম। রেকর্ড অনুযায়ী তিনি কমপক্ষে পাঁচজন জমির মালিকের পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি নিজের নামে করেছিলেন—যারা সবাই ২০০৪ সালে জিপিএ নিবন্ধনের বহু আগেই মারা গিয়েছিলেন। নাথু ১৯৭২ সালে, হরবংস সিংহ ১৯৯১ সালে, হরকেশ ১৯৯৩ সালে, শিব দয়াল ও জয় রাম ১৯৯৮ সালে মারা গেলেও, কাগজে দেখা যাচ্ছে তাঁরা ২০০৪ সালে বিনোদের পক্ষে নতুন জিপিএ কার্যকর করেছেন। পরে ২০১৩ সালে জমিটি বিক্রি হয় তারবিয়ার কাছে।

অসঙ্গতিপূর্ণ সময়সীমা সত্ত্বেও এই জাল নথির ভিত্তিতে একটি নিবন্ধিত বিক্রয় দলিল তৈরি করা হয়েছিল। যা তদন্তকারীরা এখন প্রকাশ্য জালিয়াতি বলে উল্লেখ করছেন।

দিল্লি ও ফরিদাবাদে আল ফালাহ গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত ২৫টি স্থানে ইডি তল্লাশি চালানোর পর সিদ্দিকিকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে ইউজিসির নোটিশে দিল্লি পুলিশ দুটি এফআইআর দায়ের করেছে একটি প্রতারণার, অন্যটি জালিয়াতির। ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি বিশ্ববিদ্যালয়ের সদস্যপদ বাতিল করেছে।

এ ছাড়াও, বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্থাগুলি তাদের ওয়েবসাইটে ভুয়োভাবে ন‍্যাক-এর “এ” গ্রেড দাবি করেছিল বলে জানা গিয়েছিল। ইউজিসি কেন তাদের স্বীকৃতি পুরোপুরি বাতিল করা হবে না তা ব্যাখ্যা করতে বলেছে ন‍্যাক।

এই মাসের শুরুতেই লাল কেল্লা বিস্ফোরণ মামলায় আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে জড়িত তিন চিকিৎসকের নাম সামনে আসার পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটি বিতর্কে। হামাসের মতো সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা করছিল ওই চিকিৎসকরা, যা শেষমেশ নিরাপত্তা সংস্থার তৎপরতায় ব্যর্থ হয়ে যায়।


Share