Delhi Blast

দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পরে গ্রেফতার আল ফালাহ্ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা জাওয়াদ সিদ্দিকি, আর্থিক দুর্নীতি মামলায় ইডি হাতে পাকড়াও

জঙ্গি কার্যকলাপে বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক তহবিল কাজে লেগেছিল কি না, কিংবা জঙ্গিদের আর্থিক মদত করা হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে। প্রসঙ্গত, চিকিৎসক শাহিন শহিদের বেশ কয়েকটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের হদিস মিলেছে বলে গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রের খবর।

আল ফালাহ্ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা জাওয়াদ আহমেদ সিদ্দিকি।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ১৯ নভেম্বর ২০২৫ ০১:১২

দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পরে আল ফালাহ্ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা জাওয়াদ আহমেদ সিদ্দিকি গ্রেফতার। মঙ্গলবার, সকাল থেকে আর্থিক দুর্নীতি মামলার তদন্তে দিল্লি এবং হরিয়ানার ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক ২৫টি ঠিকানায় তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। সন্ধ‍্যার তাকে গ্রেফতার করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। ইতিমধ্যেই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ইসলামি জঙ্গি চিকিৎসক মুজাম্মিল শাকিল এবং শাহিনা শহিদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ বার ইডি হাতে পাকড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতাই।

১০ নভেম্বর দিল্লিতে বিস্ফোরণ কাণ্ডে আত্মঘাতী জঙ্গি চিকিৎসক উমর উন নবি এই আল ফালাহ্-এর সঙ্গে যুক্ত ছিল। এ ছাড়াও, ধৃত দুই জঙ্গি চিকিৎসক শাহিন শহিদ এবং মুজাম্মিল শাকিলও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে জড়িত। ফলে হরিয়ানার এই বিশ্ববিদ্যালয় গোয়েন্দাদের নজরে রয়েছেই।

এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ন‍্যাকের ভুয়ো অনুমোদন ব‍্যবহার করছে। এর পাশাপাশি, এই বিশ্ববিদ্যালয়কে ইউজিসিও কোনও অনুমোদন দেয়নি বলে দাবি। সেই অভিযোগ তুলে দিল্লি পুলিশের অপরাধ দমন শাখায় দুটি এফআইআর হয়। এই জাল শংসাপত্র দেখিয়ে অন‍্যান‍্য ছাত্রছাত্রীদের প্রতারিত করেছে। তাদের প্রতারিত করে বিপুল পরিমান টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ। ইডি সেই দুটি এফআইআরের সূত্র ধরে ইসিআইআর দায়ের করে। সকাল থেকে আল ফালাহ্ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা জাওয়েদ আহমেদ সিদ্দিকিকে রাতে গ্রেফতার করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। কাকে বুধবার বিশেষ আদালতে হাজির করানো হবে।

গোয়েন্দাদের অনুমান, এই বিশ্ববিদ‍্যালয়ের টাকা ঘুরপথে ইসলামি জঙ্গি কার্যকলাপে কাজে লেগে থাকতে পারে। ইডির আধিকারিকেরা বেরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় বেশ কিছু নথিপত্র নিয়ে গিয়েছেন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণ জঙ্গিরা কীভাবে কাজে লাগিয়েছে তা-ও দেখছে গোয়েন্দারা। বিদেশ থেকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে টাকা আসতে পারে, এমন সম্ভাবনা গোয়েন্দারা উড়িয়ে দিচ্ছেন না গোয়েন্দারা।

প্রসঙ্গত, চিকিৎসক শাহিন শহিদের বেশ কয়েকটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের হদিস মিলেছে বলে গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রের খবর। সেই অ্যাকাউন্টে মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের হদিস পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি। সেই টাকা কোথা থেকে এসেছে, কে বা কারা দিয়েছেন, তা নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্তের প্রতিটি সূত্র ধরে এগোনোর সময় আল ফালাহে্‌র আর্থিক লেনদেনকেও তদন্তের আওতায় নিয়ে আসা হয়। আর তার পরই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে আর্থিক তছরুপের স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

কেন্দ্রের সবুজ সঙ্কেত পেয়েই আল ফালাহে্‌র বিরুদ্ধে তদন্তে নামে ইডি। সূত্রের খবর, বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেন্সিক অডিটেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দিল্লি পুলিশের আর্থিক দুর্নীতিদমন শাখাও আলাদা ভাবে তদন্ত শুরু করেছে।


Share