YouTube Surgery Death

নিজেকে ডাক্তার দাবি করে ইউটিউব দেখে অস্ত্রোপচার, বিহারের বেসরকারি ক্লিনিকে মৃত্যু প্রসূতির

ইউটিউব দেখে সিজ়ারিয়ান করার অভিযোগে বিহারের ভাগলপুরে অপারেশন টেবিলেই প্রসূতির মৃত্যু। নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দেওয়া ব্যক্তির বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ। সুস্থ নবজাতক।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, ভাগলপুর
  • শেষ আপডেট: ১০ জানুয়ারি ২০২৬ ০৩:১৯

ইউটিউব দেখে অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সন্তান প্রসবের চেষ্টা করতে গিয়ে প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনা আগেও সামনে এসেছে। তবে এ বার বিহারের ঘটনায় অভিযোগের তির সরাসরি এক ব্যক্তির দিকে, যিনি নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে ইউটিউব দেখে সিজ়ারিয়ান অস্ত্রোপচারের চেষ্টা করেছিলেন। পরিবারের অভিযোগ, সেই চেষ্টার জেরেই অপারেশন টেবিলেই মৃত্যু হয়েছে প্রসূতির। যদিও নবজাতকটি সুস্থ রয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে বিহারের ভাগলপুর জেলার কাহালগাঁও এলাকায়। মৃত মহিলার নাম স্বাতী দেবী। তিনি ঝাড়খণ্ডের ঠাকুরগাঁথি মোধিয়ার বাসিন্দা। তাঁর স্বামী বিক্রম শাহ পেশায় শ্রমিক।

গর্ভধারণের পর থেকে স্বাতী রসলপুরে তাঁর মায়ের বাড়িতে ছিলেন। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হঠাৎ প্রসব যন্ত্রণা শুরু হলে তাঁকে তড়িঘড়ি একচারি পঞ্চায়েত এলাকার শ্রীমঠ স্থানের কাছে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে উপস্থিত এক ব্যক্তি নিজেকে চিকিৎসক বলে পরিচয় দিয়ে চিকিৎসা শুরু করেন এবং স্বাতীকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হয়।

কিছুক্ষণ পরে ওই ব্যক্তি পরিবারের কাছে জানায়, সিজ়ারিয়ান করতে হবে এবং অনুমতি চায়। পরিবারের অনুমতি মিলতেই তিনি অস্ত্রোপচারের চেষ্টা শুরু করেন। অভিযোগ, কোনও উপযুক্ত চিকিৎসা পরিকাঠামো বা যোগ্য বিশেষজ্ঞ না থাকলেও, ইউটিউবের ভিডিও দেখে ধাপে ধাপে অস্ত্রোপচার করছিলেন তিনি। পরিবারের দাবি, রক্তাক্ত অবস্থায় স্বাতীকে ফেলে রেখে বারবার বাইরে গিয়ে ইউটিউবে পরবর্তী পদক্ষেপ দেখতেন ওই ব্যক্তি। এর ফলে সময়মতো চিকিৎসা না হওয়ায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয় এবং অস্ত্রোপচারের মধ্যেই স্বাতীর মৃত্যু ঘটে।

মৃত্যুর পর অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তাঁর সহকারী পরিবারকে জানান, স্বাতীর অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং তাঁকে অন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। পরিবারের লোকজন তাঁকে অন্য হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা জানান, অনেক আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যেই অভিযুক্তরা ক্লিনিক বন্ধ করে পালিয়ে যান।

খবর পেয়ে রসলপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। স্থানীয় বাসিন্দা রাজেশ কুমারের অভিযোগ, ওই ক্লিনিকে এ ধরনের ঘটনা এই প্রথম নয়। তাঁর দাবি, আগেও সেখানে অনলাইন ভিডিও দেখে চিকিৎসা করা হয়েছে এবং অভিযোগ উঠলেও বিষয়টি বারবার চাপা দেওয়া হয়েছে।

মৃতার পরিবার অবৈধ চিকিৎসা কেন্দ্র পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।


Share