Delhi Blast

দিল্লি বিস্ফোরণকান্ডে গোয়েন্দাদের স্ক্যানারের নীচে হরিয়ানার ‘আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়’, রাসায়নিক ল‍্যাবের ফরেন্সিক অডিট

হরিয়ানার আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে জড়িত। কেউ চিকিৎসাবিদ‍্যা নিয়ে সেখানে পড়াশুনা করে আবার কেউ চিকিৎসক অধ‍্যাপকও। তাই ১০ নভেম্বর দিল্লিতে বিস্ফোরণর ঘটনায় এই বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগ রয়েছে বলে অনুমান করছেন গোয়েন্দারা।

দিল্লি বিস্ফোরণে হরিয়ানার মেডিকেল কলেজের যোগ।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ১২ নভেম্বর ২০২৫ ০২:৪২

সোমবার সকালে হরিয়ানার ফরিদাবাদে ২৯০০ কেজি অ‍্যামোনিয়াম নাইট্রেট, একে-৪৭ রাইফেল-সহ বোমা তৈরির বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত করা হয়। তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়। তিন জনই ওই আল ফালাহ্ বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক। দিল্লি বিস্ফোরণকান্ডে আত্মঘাতী গাড়ি চালক মহম্মদ ওমরও আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিল।

তারা চিকিৎসক পেশার আড়ালে পাকিস্তানের ইসলামি জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি এই চিকিৎসকের মধ‍্যে আদিল আহমেদ রাথার কাশ্মীরে পাকিস্তানে ইসলামি জঙ্গি সংগঠনের হয়ে পোস্টার সাঁটাচ্ছিল বলে জানতে পারে তদন্তকারীরা। তকে সারারানপুর থেকে গ্রেফতারের পরে ফরিদাবাদে একটি ভাড়াবাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ২৯০০ কেজি অ‍্যামোনিয়াম নাইট্রেট-সহ বোমা তৈরির সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত করা হয়। ওই ঘটনায় আদিলের সঙ্গে মুজাম্মেল শাকিল এবং শাকিলের পরিচিত আরেক মহিলা চিকিৎসক শাহিন শহিদকে লখনউ থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এরা সবাই হরিয়ানার আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে জড়িত। কেউ চিকিৎসাবিদ‍্যা নিয়ে সেখানে পড়াশুনা করে আবার কেউ চিকিৎসক অধ‍্যাপকও। তাই ১০ নভেম্বর দিল্লিতে বিস্ফোরণর ঘটনায় এই বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগ রয়েছে বলে অনুমান করছেন গোয়েন্দারা।

২০১৪ সালে আল ফলাহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১৫ সালে ইউজিসি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বীকৃতি পায়। ‘অপইন্ডিয়ার’য় প্রকাশিত একটি খবর অনুযায়ী, এটি ‘আল ফলাহ’ নামে একটি সেচ্ছাসেবী সংগঠনে অধীনে পরিচালিত হয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং, ম্যানেজমেন্ট, ব‍্যবসা, আইন, শিক্ষা, মেডিকেল-সহ বিভিন্ন বিষয়ে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি নিয়ে পড়ানো হয়। এখানে ৬৫০ শয্যার একটি সেচ্ছাসেবী হাসপাতালও রয়েছে বলে জানাচ্ছে তারা। এ ছাড়াও, ন‍্যাক বিশ্ববিদ্যালয়টিকে “A” গ্রেডে স্বীকৃতি দিয়েছে। এখানে আলাদা ছাত্রছাত্রীদের জন্য আলাদা থাকার ব্যবস্থাও রয়েছে। শিক্ষকদের থাকার জন‍্য পৃথক কমপ্লেক্সও রয়েছে। বিদেশ থেকে শিক্ষার্থীরা এখানে পড়তে আসে। প্রসঙ্গত, আল ফালাহ্ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা এবং আচার্য পদে রয়েছেন জওয়াদ আহমেদ সিদ্দিকি এবং মহম্মদ পারভেজ রেজিস্ট্রার হিসেবে কাজ করছেন।

পাকিস্তানের ইসলামি জঙ্গিযোগে যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁদের সঙ্গে এই বিশ্ববিদ‍্যালয়ের নাম জড়িয়েছে। এতো দিন ধরে ডাক্তারির আড়ালে ইসলামি জঙ্গি সংগঠনের হয়ে কাজ করছিল, তা কী ঘুনাক্ষরেও টের পায়নি কর্তৃপক্ষ! সেটাই তদন্ত করছে গোয়েন্দারা। ১১ নভেম্বর তদন্তকারী দল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তল্লাশি চালায় পুলিশ। তাঁদের সন্দেহ, বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়নের ল্যাবরেটরিগুলি বিস্ফোরক পদার্থ পরীক্ষার কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। তার জন‍্য ফরেন্সিক অডিট করা হতে পারে জানা গিয়েছে।

ফারিদাবাদ পুলিশ কমিশনার সতেন্দ্রকুমার গুপ্ত জানান, উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ সামগ্রী একটি “বৃহৎ জঙ্গি পরিকল্পনার” দিকে ইঙ্গিত দিচ্ছে। তিনি আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাব ও কেমিক্যাল স্টোরেজের ফরেনসিক অডিট চলছে। প্রসঙ্গত, ষড়যন্ত্র তত্ত্বের সিলমোহর দিয়েছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।


Share