Delhi Blast

মিথ‍্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে আদায় করা হত টাকা! ৪০০ কোটি টাকা আর্থিক বেনিয়মের অভিযোগ হরিয়ানার আল ফালাহ্ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে, আদালতে দাবি ইডির

এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে দু’টি পৃথক এফআইআর দায়ের করেছিল দিল্লি পুলিশ। সেই এফআইআর-এর সূত্র ধরে ইসিআইআর দায়ের করে ইডি। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে বেআইনি আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত আইনে (পিএমএলএ) ১৯ নম্বর ধারায় মামলা রুজু করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাটি।

৪১৫ কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ আল ফালাহ্ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ২০ নভেম্বর ২০২৫ ০১:৪৫

মঙ্গলবার রাতে ইডির হাতে গ্রেফতার হয়েছে আল ফালাহ্ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা জাওয়াদ আহমেদ সিদ্দিকি। জাওয়াদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, একাধিক ভুয়া কোম্পানি খুলে কোটি কোটি টাকা ঘুরপথে আদায় করেছেন। সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকেই তা আদায় করা হয়েছে বলে দাবি। এর জন‍্য ন‍্যাক এবং ইজিসির জাল শংসাপত্র ব্যাবহার করেছেন। এর ফলে বিশ্ববিদ‍্যালয়ে সাধারণ পড়ুয়ারা প্রতারিত হয়েছেন। তাঁরা সর্বস্বান্ত হয়েছেন বলেও আদালতে অভিযোগ করেছে ইডি।

দিল্লি বিস্ফোরণ কান্ডের পর থেকেই হরিয়ার আল ফালাহ্ বিশ্ববিদ্যালয় গোয়েন্দাদের আতশ কাচের নীচে রয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পরে রাতে জাওয়াদ আহমেদ সিদ্দিকিরে গ্রেফতার করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। তাকে বুধবার দিল্লির বিশেষ আদালতে পেশ করা হয়েছে। ১৩ দিনের ইডি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।

এ দিন আদালতে ইডি দাবি করেছে, ৪১৫ কোটি ১০ লক্ষ টাকা ছাত্রছাত্রীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কিছু টাকা ব‍্যক্তিগত খরচও করা হয়েছে। এই বিপুল পরিমান টাকা ন‍্যাক এবং ইউজিসির জাল শংসাপত্র দেখিয়ে ছাত্রছাত্রীদের আকৃষ্ট করে বিভিন্ন উপায় হাতিয়ে নেওয়া হতো। ইডির আরও অভিযোগ, ছাত্রছাত্রীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের এসব দেখে নিজের সর্বস্ব টাকা উজাড় করে দিয়ে এখানে পড়তে আসতেন। ইডির দাবি, পাশ করে যাওয়ার পরে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শংসাপত্রের কোনও দাম নেই। তাঁদের কাছ থেকে প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে সিদ্দিকির এই ‘আল ফালাহ্ ট্রাস্ট’।

বুধবার ইডি আদালতকে এ-ও জানিয়েছে, তারা এখনও পর্যন্ত ন’টি ভুয়ো কোম্পানির সন্ধান পেয়েছে। এই কোম্পানিগুলির আদেও কোনও অস্তিত্ব নেই। সেই সব কোম্পানির মাধ‍্যমে কালো টাকা ঘুরপথে সাদা করা হয়েছে। যেহেতু দিল্লি বিস্ফোরণ কান্ডে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম জড়িয়েছে, তাই এদের অ‍্যাকাউন্ট থেকে ইসলামি জঙ্গিদের কাছে টাকা পৌঁছে গিয়েছে কি না, তা-ও তদন্ত করছে গোয়েন্দারা।

প্রসঙ্গত, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে দু’টি পৃথক এফআইআর দায়ের করেছিল দিল্লি পুলিশ। সেই এফআইআর-এর সূত্র ধরে ইসিআইআর দায়ের করে ইডি। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে বেআইনি আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত আইনে (পিএমএলএ) ১৯ নম্বর ধারায় মামলা রুজু করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাটি। মঙ্গলবার সকাল থেকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে জড়িত দিল্লি এবং ফরিদাবাদের অন্তত ২৫টি ঠিকানায় তল্লাশি ইডি তল্লাশি চলে বলে জানা গিয়েছে। রাতে জাওয়াদ আহমেদ সিদ্দিকিকে গ্রেফতার করা হয়। 


Share