Huge Explosive Recovery

২৯০০ কেজি বিস্ফোরক মজুত করেছিল কাশ্মীরের আদিল আহমেদ, রয়েছে ইসলামি জঙ্গিযোগ, পুলিশের নজরে এক মহিলা চিকিৎসকও

শ্রীনগরে পাকিস্তানি জঙ্গিগোষ্ঠী জইশ-ই-মহম্মদের সমর্থনে পোস্টার সাঁটার অভিযোগে এক চিকিৎসককে গ্রেফতার করেছিল কাশ্মীর পুলিশ। তাঁর সূত্র ধরেই দিল্লির অদূরে ৩৬০ কেজি আরডিএক্সের মশলার খোঁজ পাওয়া যায়।

বিপুল পরিমাণ বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ১০ নভেম্বর ২০২৫ ০৪:৩১

আরডিএক্স তৈরির ৩৬০ কেজি মশলা-সহ উদ্ধার হয়েছে মোট দু’হাজার ৯০০ কেজি অ‍্যামোনিয়াম নাইট্রেট বিস্ফোরক।  ফরিদাবাদের ঘটনার পর বিবৃতি দিয়ে এমনটাই জানাল জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ। দু’হাজার ৯০০ কেজির মধ্যে ফরিদাবাদ থেকে উদ্ধার করা ৩৬০ কেজির বিস্ফোরকও রয়েছে। হরিয়ানা পুলিশ আগেই জানিয়েছিল, ওই বিস্ফোরক অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট হতে পারে। তা আরডিএক্স তৈরির গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

জানা গিয়েছে, কিছু দিন আগে জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ শ্রীনগরে ইসলামি জঙ্গিগোষ্ঠী সমর্থনে রাস্তায় পোস্টার সাঁটাচ্ছিলেন আদিল আহমেদ রাথের। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে তাকে গ্রেফতার করা হয়। আদিলকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই রাজধানী দিল্লির ফরিদাবাদে বিস্ফোরক মজুতের হদিস পান তদন্তকারীরা। সোমবার সেখানকার একটি ভাড়া বাড়িতে অভিযান চালায় হরিয়ানা এবং জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের যৌথ বাহিনী। উদ্ধার করা হয় ৩৬০ কেজি বিস্ফোরক এবং বেশ কিছু অস্ত্রশস্ত্র। ২০টি বোমার টাইমার, রিমোট এবং ওয়াকিটকিও ছিল ওই বিস্ফোরকের সঙ্গে। জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, এর সঙ্গে পাকিস্তানের ইসলামি জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে।

এই মামলার তদন্তের কাশ্মীরের শ্রীনগর, অনন্তনাগ, সোপিয়ানে তল্লাশি অভিযান চালানো হয়েছে। এ ছাড়া, হরিয়ানা পুলিশের সহযোগিতায় ফরিদাবাদে এবং উত্তরপ্রদেশ পুলিশের সহযোগিতায় সাহারানপুরে অভিযান চালিয়েছে জম্মু ও কাশ্মীরের পুলিশ। সাহারানপুর থেকেই আইইডি তৈরির ২৯০০ কেজি অ‍্যামোনিয়াম নাইট্রেট এই সমস্ত জায়গা থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। মিলেছে একাধিক পিস্তল এবং একে ৪৭ রাইফেল। 

ধৃত চিকিৎসক দু’জনেই কাশ্মীরি। মুজাম্মিল ফরিদাবাদের একটি হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। অভিযোগ, তার সাহায্যেই বিস্ফোরক এবং অস্ত্রশস্ত্র কাশ্মীর থেকে এনেছিলেন আদিল। মুজাম্মিলের সহকর্মী এক মহিলা চিকিৎসকের গাড়ির ভিতর থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। ফলে ওই মহিলাও তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে। কাশ্মীরে নিয়ে গিয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। যদিও মহিলাকে এখনও গ্রেফতার করা হয়নি। নিরাপত্তার বেষ্টনী এড়িয়ে কী ভাবে কাশ্মীর থেকে দিল্লির এত কাছে এত বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক পৌঁছে দেওয়া হল, প্রশ্ন উঠেছে।


Share