Maoist Encounter

ছত্তীসগঢ়ের বিজাপুর এবং সুকমার জঙ্গলে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে গুলির লড়াই, নিকেশ ১৪ জন মাওবাদী জঙ্গি

মাওবাদী নেতা বারসা দেবা ওরফে দেবান্না আত্মসমর্পণ করেছেন। তাঁর মাথার দাম ছিল ৫০ লক্ষ টাকা। দেবান্নার পাশাপাশি আরও ১৮ জন মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছে। বারসা দেবা মাদবি হিডমার ঘনিষ্ঠ ছিল বলে জানা গিয়েছে। তেলেঙ্গানা পুলিশ ডিজি শিবধর রেড্ডি এক প্রেস বিবৃতিতে জানান, দেবার আত্মসমর্পণে মাওবাদীরা বড় ধাক্কা খেয়েছে।

ছত্তীসগঢ়ে নিকেশ ১৪ জন মাওবাদী জঙ্গি।
নিজস্ব সংবাদদাতা, বিজাপুর
  • শেষ আপডেট: ০৩ জানুয়ারি ২০২৬ ০৬:০৬

ছত্তীসগঢ়ের সুকমা এবং বিজাপুরের জেলায় দুটি পৃথক সংঘর্ষে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিকেশ হয়েছে ১৪ জন মাওবাদী জঙ্গি। মৃতদের মধ্যে একজন মাওবাদী জঙ্গি নেতা রয়েছে। মাওবাদী দমন অভিযানে চলতি বছরে এটাই প্রথম সংঘর্ষ। তাতেই এলো বড়সড় সাফল্য।

এ দিন বিজাপুরে ভোর প্রায় ৫টা নাগাদ ডিআরজি-র সঙ্গে মাওবাদী জঙ্গিদের গোলাগুলির সংঘর্ষ শুরু হয়। সুকমায় সকাল ৮টা থেকে সংঘর্ষ শুরু হয়। জানা গিয়েছে, নিকেশ হওয়া ১৪ জনের মধ্যে ১২ জন মাওবাদী জঙ্গি সুকমার দক্ষিণাঞ্চলের। দু’জন বিজাপুরের। নিকেশ হয়েছে ভেট্টি মাংদু ওরফে মুক্কা। মাওবাদী জঙ্গি ভেট্টি কান্তার অঞ্চল কমিটির সম্পাদক ছিল। তাকে সুকমায় নিকেশ করা হয়েছে। ভেট্টি ডিভিশনাল কমিটিরও সদস্যও ছিল। গত বছরের জুন মাসে কন্তায় আইইডি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তাতে বীরগতি প্রাপ্তি হয় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আকাশরাও গিরিপুঞ্জের। সেই ঘটনার মূলচক্রী ছিল এই ভেট্টি মাংদু ওরফে মুক্কা।

ছত্তীসগঢ়ের বস্তার রেঞ্জের আইজি সুন্দররাজ পি জানান, “অভিযানের অংশ হিসেবে ডিআরজি দলগুলিকে দক্ষিণ বাস্তার এলাকায় পাঠানো হয়েছিল। নকশালদের মধ্যে থেমে থেমে গুলির লড়াই চলে।” সংঘর্ষস্থল থেকে একে-৪৭, ইনসাস ও এসএলআর রাইফেল-সহ একাধিক স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান আইজি সুন্দররাজ পি।

সুকমার পুলিশ সুপার কিরণ চাওয়ান বলেন, এই অভিযানে কন্তার এরিয়া কমিটির সমস্ত সশস্ত্র মাওবাদী জঙ্গিদের নিকেশ করা হয়েছে। কিরণ আরও বলেন, “মুক্কা অতীতে একাধিক সংঘর্ষে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিল। সে একজন কুখ্যাত মাওবাদী জঙ্গি ছিল এবং বহু হিংসাত্মক অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিল।”

মাওবাদী জঙ্গি দমনে এই সংঘর্ষ বিশেষ ভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। পুলিশের একটি সূত্র বলছে, কন্তা ও কিস্তরাম এরিয়া কমিটি ছিল পিপলস লিবারেশন গেরিলা আর্মি (পিএলজিএ)-র ১ নম্বর ব্যাটালিয়নের প্রধান ঘাঁটি। এখানকার শীর্ষ কমান্ডার ছিলেন বারসা দেবা ওরফে সুক্কা ওরফে দেবান্না বলেও পরিচিত। পুলিশের এক আধিকারিক জানান, “এই এলাকা থেকেই রামান্না, হিদমা ও বারসা দেবার মতো শীর্ষ মাওবাদী নেতারা উঠে এসেছিল। অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলেঙ্গানায় যাতায়াতের জন্যও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট করিডর ছিল।”

উল্লেখ্য, মাওবাদী নেতা বারসা দেবা ওরফে দেবান্না আত্মসমর্পণ করেছেন। তাঁর মাথার দাম ছিল ৫০ লক্ষ টাকা। দেবান্নার পাশাপাশি আরও ১৮ জন মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছে। বারসা দেবা মাদবি হিডমার ঘনিষ্ঠ ছিল বলে জানা গিয়েছে। তেলেঙ্গানা পুলিশ ডিজি শিবধর রেড্ডি এক প্রেস বিবৃতিতে জানান, দেবার আত্মসমর্পণে মাওবাদীরা বড় ধাক্কা খেয়েছে। তিনি বলেন, “কানাকানালা রাজি রেড্ডিও আত্মসমর্পণ করায় তেলেঙ্গানায় এখন মাত্র একজন রাজ্য কমিটির সদস্য গোপনে সক্রিয় রয়েছে। এ ছাড়াও, মাওবাদীদের কাছ থেকে ৪৮টি অস্ত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।”

উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে মাওবাদ নির্মূলের যে সময়সীমা নির্ধারণ করেছেন। তার প্রেক্ষিতেই এই সাফল্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।


Share