Sheikh Hasina Judgement

দোষী শেখ হাসিনাই! বাংলাদেশে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে ফাঁসির সাজাই আদালতের, মৃত্যুদণ্ড প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও

এ দিন বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদার, বিচারপতি মহম্মদ শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মহম্মদ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল সোমবার হাসিনার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলির রায় ঘোষণা করেন। ৪৫৩ পৃষ্ঠার রায় পড়ে শোনান তিনি।

শেখ হাসিনা-সহ দু’জনের ফাঁসির সাজার নির্দেশ ট্রাইবুনালের।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ১৭ নভেম্বর ২০২৫ ০৪:৩৬

বাংলাদেশে ২০২৪ সালে ছাত্র আন্দোলনের ‘গণহত্যার’ হয়েছে, এর জন্য প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করল সেই দেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। হাসিনার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি সরকার বিরোধী গণআন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের ওপর হামলা চালিয়েছেন। এমনকি তাদের ওপর হেলিকপ্টার থেকে বোমাবর্ষণ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন খোদ হাসিনাই। এই সব অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়েছে। শেখ হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করে তাকে ‘ফাঁসি’র সাজা দিয়েছে। এর পাশাপাশি তদানীন্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কমলকেও ‘ফাঁসি’র সাজার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিচারপর্ব শেষের ৩৯৭ দিন পর সোমবার রায়দানের দিনক্ষণ ধার্য করা হয়। এই নিয়ে রবিবার রাত থেকে বাংলাদেশে একাধিক জায়গায় অশান্তি বিক্ষোভের ছবি ধরা পড়ে। একাধিক জায়গায় বাস ভাঙচুর, বোমাবাজির অভিযোগ ওঠে আওয়ামী লিগের সমর্থকদের বিরুদ্ধে। কোনও অশান্তি সৃষ্টি হলে তাদেরকে গুলি করারও নির্দেশ দেয় অন্তর্বর্তীকালীন ইউনূস সরকার। সকাল থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল চত্বরে নিরাপত্তা জোরদার করে পুলিশ। নামানো হয় ১৫ হাজার বাহিনী। নামানো হয়েছিল সেনাবাহিনীও।

বিচারপতি বলেন, ‘‘হাসিনা, আসাদুজ্জামান এখনও পলাতক। বার বার পরোয়ানা সত্ত্বেও তাঁরা আত্মসমর্পণ করেননি। তাঁদের বিরুদ্ধে ৫৪ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। সংখ্যাটা নেহাত কম নয়। দু’জনেরই শাস্তি হওয়া দরকার। কোনও কোনও সাক্ষাৎকারে হাসিনা নির্দেশের দায় স্বীকারও করেছেন।’’ এই মামলায় প্রাক্তন পুলিশকর্তা আল-মামুন রাজসাক্ষী ছিলেন। তাই তাঁর সাজা লঘু করা হয়েছে। হাসিনার বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগে সম্মতি এবং বয়ান দেওয়ায় মামুনকে পাঁচ বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে।

মোট পাঁচটি অভিযোগ রয়েছে হাসিনা-সহ তিন জনের বিরুদ্ধে। এক, প্ররোচনামূলক ভাষণ, দুই, প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের নির্মূল করার নির্দেশ, তিন, রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা, চার, রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় ছয় আন্দোলনকারীকে গুলি করে খুন, পাঁচ, আশুলিয়ায় ছ’জনকে পুড়িয়ে হত্যা। সেই অভিযোগেই ৩৯৭ দিন ধরে বিচার চলে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনালে।

এ দিন বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদার, বিচারপতি মহম্মদ শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মহম্মদ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল সোমবার হাসিনার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলির রায় ঘোষণা করেন। ৪৫৩ পৃষ্ঠার রায় পড়ে শোনান তিনি। 


Share