Mother Language Day

বাংলাদেশে বাতিল ২১ ফেব্রুয়ারির ভাষা দিবসের ছুটি, ওই দিন খোলা থাকবে সমস্ত স্কুল, কলেজ-সহ বাকি প্রতিষ্ঠানগুলি

প্রকাশিত ছুটির তালিকা থেকে জানা গিয়েছে, নতুন বছরে মোট ছুটি রাখা হয়েছে ৬৪ দিন। যা বিদায়ী ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের তুলনায় ১২ দিন কম। ছুটি বাতিল হয়েছে কেবল ভাষা দিবস, সরস্বতী পুজো আর জন্মাষ্টমীতেই নয়, বুদ্ধ পূর্ণিমা, মহালয়া এবং মধু পূর্ণিমাতেও থাকছে না ছুটি।

ঢাকার শহিদ মিনার।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০২ জানুয়ারি ২০২৬ ০৪:০৫

বাংলাদেশে ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষা দিবসের ছুটি বাতিল করল মহম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ওই দিন খোলা থাকবে সমস্ত প্রতিষ্ঠান। ইতিমধ্যেই নির্দেশিকা জারি করে দেওয়া হয়েছে।

১৯৫২ সালের তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে ভাষা আন্দোলনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন ২১ ফেব্রুয়ারি। এই দিন বাংলা ভাষার দাবি ও মর্যাদা রক্ষায় প্রাণ দিয়েছিলেন বাঙালি যুবকেরা। এই বাংলা ভাষার আন্দোলন ক্রমশ সামগ্রিক সাংস্কৃতিক আন্দোলনের রূপ নেয় তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকের বিরুদ্ধে। এই থেকেই শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার আন্দোলন।

পরবর্তীকালে বাংলাদেশে ২১ ফেব্রুয়ারি বা ভাষা আন্দোলনের দিনটি ভাষা দিবস হিসেবে বিপুলভাবে উদযাপিত হতে থাকে। পরে ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর প্যারিস অধিবেশনে ২১ ফেব্রুয়ারি দিনটিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এমনকী, ২০১০ সালের পর থেকে রাষ্ট্রসঙ্ঘেও প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' পালিত হয়ে থাকে।

যে ২১ ফেব্রুয়ারিকে কেন্দ্র করে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস', বাংলাদেশে এ বার সেই ভাষা দিবসের ছুটি বাতিল করল  মহম্মদ ইউনূসের সরকার। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ২০২৫ সালের শেষে নতুন বছরের ছুটির প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, নতুন বছরে মোট ছুটি রাখা হয়েছে ৬৪ দিন। ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের তুলনায় ১২ দিন কম। আর সেই তালিকা থেকে বাদ পড়েছে ভাষা দিবস দিনটি। ওই দিনে খোলা থাকবে সমস্ত স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় বা যে কোনও প্রতিষ্ঠান।

প্রকাশিত ছুটির তালিকা থেকে জানা গিয়েছে, যা বিদায়ী। কেবল ভাষা দিবস, সরস্বতী পুজো আর জন্মাষ্টমীতেই ছুটি বাতিল হয়েছে, এমনটা নয়, বুদ্ধ পূর্ণিমা, মহালয়া এবং মধু পূর্ণিমাতেও থাকছে না ছুটি। পাশাপাশি বলা হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দিবস যেমন, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২৬ মার্চ (স্বাধীনতা দিবস), বাংলা নববর্ষ ও ১৬ ডিসেম্বর (বিজয় দিবস) যথাযোগ্য মর্যাদায় বিদ্যালয়ে উদযাপন করতে হবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এই ছুটির তালিকা দেখার পর বিতর্ক শুরু হয়েছে মে দিবসের ছুটি বাতিল নিয়েও।

বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রক দেশের মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জন্য এই ছুটির তালিকা প্রকাশ করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরবর্তী ধাপে সর্বস্তরে এই ছুটি বাতিলের ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশের কট্টরপন্থী ইসলামিক নেতাদের। অনেকের অভিযোগ, এ বার ভাষা আন্দোলনকে বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে মুছে দিতে ইউনূস সরকারের এই আদেশ। গত দেড় বছরেরও বেশি সময় এমন একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার। মুছে দেওয়া হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের নানা প্রসঙ্গ।

ভাষা দিবসের ছুটি বাতিল নিয়ে ইতিমধ্যে মন্তব্য করতে দেখা গিয়েছে দেশ বিদেশের বিদ্বজ্জনেদের। বাংলাদেশের এই খবরে হতবাক হতে দেখা গিয়েছে বহু সাহিত্যিক-ভাষাবিদদেরও। ছুটি বাতিলের এই খবর প্রকাশ্যে আসার পর সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, “গোটা পৃথিবীতে যে দিনটিকে মাতৃভাষা দিবস হিসাবে পালন করা হয়, এটা তো বাংলাদেশের অবদান বলেই ধারণা ছিল। ভাষা দিবসের ছুটি নিজেদের সেই অবদানকেই তারা আজ মুছে ফেলতে উদ্যোগী। তারা কি এখন বাংলা ভাষাকে পরিত্যাগ করে উর্দু শিখতে চাইছে! বাংলাদেশে এখন একটা আত্মঘাতী আন্দোলন চলছে। হিন্দু পার্বণের ছুটি তারা বাতিল করছে মানে তারা হিন্দুবিদ্বেষী হয়ে উঠছে। কিন্তু বাংলাদেশে তো এখনও অনেক হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টানও থাকেন। যদি তাদের বঞ্চিত করা হয়, তাহলে সে দেশের ধর্মের ঊর্ধ্বে যে পরিচয় ছিল, তা ধ্বংস হয়ে যাবে। বাংলাদেশ বর্তমানে যে পথে এগোচ্ছে আমাদের চোখে তা আত্মঘাতী আচরণ। তাতে কারুর মঙ্গল হবে না।”


Share