Supreme Court

রাজ‍্যে শীর্ষ কর্তাদের বদলি মামলায় হস্তক্ষেপ করল না সুপ্রিম কোর্ট, শীর্ষ আদালত থেকে খালি হাতেই ফিরছেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ

রাজ্যের আধিকারিকদের নির্বাচন কমিশনের বদলি মামলায় কার্যত হস্তক্ষেপ করল না সুপ্রিম কোর্ট। খালি হাতেই ফিরতে হচ্ছে আইনজীবী তথা তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশই বহাল রেখেছে দেশের শীর্ষ আদালত।

আইপিএস এবং আইএএসদের বদলি মামলায় হস্তক্ষেপ করল না সুপ্রিম কোর্ট।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:০৮

রাজ‍্যে শান্তিপূর্ণ এবং পক্ষপাতহীন নির্বাচন করাতে একাধিক আইএএস এবং আইপিএস অফিসারদের ভিনরাজ‍্যে বদলি করেছে। বৃহস্পতিবার সেই মামলায় হস্তক্ষেপ করল না সুপ্রিম কোর্ট। কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে দ্বারস্থ হয়েছিলেন আইনজীবী তথা তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই মামলায় হস্তক্ষেপ করল না দেশের শীর্ষ আদালত।

আইনজীবী অর্ককুমার নাগ রাজ্যের আইপিএস এবং আইএএস অফিসারদের বদলির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা করেন। মামলাকারীর বক্তব্যকে সমর্থন করে রাজ্য সরকার। গত ৩১ মার্চ কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপত সুজয় পালের ডিভিশন বেঞ্চ মামলা খারিজ করে। সেই সিদ্ধান্তকেই চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যান আইনজীবী।

বৃহস্পতিবার এই মামলায় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত পর্যবেক্ষণে জানান, এটা যে শুধু পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে হয়েছে এমনটা নয়। এটা সব জায়গায় হয়ে থাকে। প্রধান বিচারপতি পর্যবেক্ষণে এ-ও জানান, “মানুষ মনে করে যে, এইসব আধিকারিকেরা শুধুমাত্র নিজেদের সুবিধার জন্য কাজ করেন। যেটা দুর্ভাগ্যজনক।” প্রধান বিচারপতি বলেন, “ভালো পোস্টিং, ভালো সুবিধা পান। মানুষ ভাবে, তাঁরা এই আধিকারিকদের কাছে গেলে সুবিচার পাবেন না।”

মামলার শুনানিতে আইনজীবী কল‍্যার বন্দ্যোপাধ্যায় সওয়াল করেন, “আমি অবাস্তব কিছু বলছি না। আমি বিষয়টি বুঝতে পারছি। আমি স্থগিতাদেশ চাইছি না। আমি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলি তুলেছি। এগুলি নিয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।”প্রধান বিচারপতি বলেন, “পরামর্শ নেওয়া মানেই সম্মতি নয়। আমরা উপযুক্ত মামলায় সিদ্ধান্ত নেব। পাশাপাশি আইনের প্রশ্নটিও খোলা রাখব।” এ ক্ষেত্রে শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, রাজ্যে কয়েক দিনের মধ্যেই নির্বাচন হতে চলেছে। ন্যায়বিচারের (পক্ষপাতহীন) কিছু উপাদান নিশ্চিত করার জন্যই এটি করা হয়েছে বলেও স্পষ্ট করেন দেশের প্রধান বিচারপতি।

রাজ্যের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন একরাতে এক হাজার ১০০ জন অফিসার বদলে ফেলেছে। প্রথম বারের জন্য মুখ্যসচিবকেও বদলি করে দেওয়া হয়েছে। রাজ‍্য সরকারকে কার্যত আবা ভর্ৎসনা করে প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, “আপনার রাজ্যের ক্ষেত্রে সবথেকে খারাপ নিদর্শন হচ্ছে যে এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিচার বিভাগকে যুক্ত করতে হয়েছে। তার কারণ বিশ্বাসযোগ্যতা। রাজ্য সরকার নির্বাচন কমিশনকে বিশ্বাস করছে না। কমিশন আবার রাজ্যকে বিশ্বাস করছে না।“

রাজ্যের আধিকারিকদের নির্বাচন কমিশনের বদলি মামলায় কার্যত হস্তক্ষেপ করল না সুপ্রিম কোর্ট। খালি হাতেই ফিরতে হচ্ছে আইনজীবী তথা তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশই বহাল রেখেছে দেশের শীর্ষ আদালত।


Share