Assembly Election

নির্বাচনের আগে উত্তরপাড়ায় তৃণমূলের ভাঙন, দু’শো জন তৃণমূল কর্মীকে নিয়ে বিজেপিতে যোগ দিলেন প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা

অচ্ছেলাল যাদব উত্তরপাড়া বিধানসভার অন্তর্গত কানাইপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন তৃণমূলের প্রধান ছিলেন। তারও আগে অচ্ছেলাল উত্তরপাড়া-শ্রীরামপুর পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সহ-সভাপতি ছিলেন।

সুনীল বনসলের হাত ধরে বিজেপিতে অচ্ছেলাল যাদব।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ০২:০৬

বিধানসভা নির্বাচনের আগে উত্তরপাড়ায় তৃণমূলে ভাঙন। ২০০ জন তৃণমূল কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে বিজেপিতে যোগ দিলেন প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা অচ্ছেলাল যাদব।

বুধবার দুপুরে সল্টলেকের বিজেপির দলীয় কার্যালয়ে আসেন অচ্ছেলাল যাদব। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সুনীল বনসল তাঁকে উত্তরীয় পরিয়ে বিজেপিতে স্বাগত জানান। পরে বিজেপির দলীয় পতাকা হাতে তুলে নেন অচ্ছেলাল যাদব। 

শুধু অচ্ছেলাল নন, তাঁর সঙ্গে অন্তত ২০০ জন তৃণমূল কর্মী বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। আগামী ২৯ এপ্রিল উত্তরপাড়ায় বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। এই কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছেলে আইনজীবী শীর্ষাণ‍্য বন্দ্যোপাধ্যায়। তার আগে তৃণমূলের এই ভাঙনের জেরে যথেষ্ট অস্বস্তিতে পড়েছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিজেপির অনেকটাই শক্তি বড়ল বলেও মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

উল্লেখ্য, অচ্ছেলাল যাদব উত্তরপাড়া বিধানসভার অন্তর্গত কানাইপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন তৃণমূলের প্রধান ছিলেন। তারও আগে অচ্ছেলাল উত্তরপাড়া-শ্রীরামপুর পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সহ-সভাপতি ছিলেন। তার ভাই, দিলীপ যাদব উত্তরপাড়ার কোতরং পুরসভার তৃণমূলের চেয়ারম্যান। এলাকার দাপুটে তৃণমূল নেতা বলেই তাঁর পরিচিতি রয়েছে। শ্রীরামপুরের রাজনীতিতে অচ্ছেলাল যাদব কল‍্যাণ বন্দ‍্যোপাধ‍্যায়ের বিরুদ্ধে বলেই পরিচিতি রয়েছে।

বুধবার বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরে সদ‍্য প্রাক্তন তৃণমূল নেতা অচ্ছেলাল যাদব বলেন, “জল্পনা চলছিল। ভাবলাম এই জল্পনার অবসান ঘটানোর দরকার আছে।” নাম না করে কল‍্যাণ বন্দ‍্যোপাধ‍্যায়কে কটাক্ষ করে বলেন, “কিছু লোকের খাটনি বেড়ে গেল। উত্তরপাড়ার মানুষ ঠিক করে রেখেছে, এ বারে পরিবর্তন করতে হবে। কে প্রার্থী হয়েছে দেখার দরকার নেই। মানুষ ঠিক করে রেখেছে বিজেপিতেই ভোট দেবে।”

গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে অচ্ছালাল যাদবকে টিকিট দেয়নি দল। অচ্ছেলালের ঘনিষ্ঠ মহলের বক্তব্য তিনি সেই নির্বাচনে জেলা পরিষদের টিকিটে দাঁড়াতে ইচ্ছুক ছিলেন। কিছু দল তাঁকে টিকিট না দিয়ে সাংসদ কল‍্যাণ ঘনিষ্ঠ নিখিল চক্রবর্তীকে টিকিট দিয়েছিল দল। তার পর থেকেই দলের সঙ্গে দুরত্ব তৈরি হয়। দল তাঁকে শ্রীরামপুর-উত্তরপাড়া ব্লকের সম্পাদকও করেছিল।

অচ্ছেলালের ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে এ-ও জানা যায়, গত লোকসভা নির্বাচনে তিনি দলের হয়ে কার্যত নিস্প্রভ থেকেছেন। তার ওপর বিধানসভা নির্বাচনের আগে কোন্নগরের আদর্শনগরের তাঁর কার্যালয়ে ব‍্যারাকপুরের বিজেপি নেতা তথা নেয়াপাড়ার প্রার্থী অর্জুন সিংহকে আসতে দেখা যায়। তখন থেকেই আনুষ্ঠানিক ভাবে তৃণমূল ছাড়ার জল্পনা তৈরি হয়েছিল। তার পরেই বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জল্পনা শুরু হয়। বিধানসভা নির্বাচনে টিকিট ঘোষণা হতেই নির্দলে মনোনয়ন দাখিল করেন। যদিও পরে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন অচ্ছেলাল। 


Share