Election Commission

অন্ধকারে ভোটকেন্দ্র! কলকাতায় বিদ্যুৎহীন বুথ ঘিরে তৎপর নির্বাচন কমিশন

গ্রামাঞ্চলের বহু বুথে বিদ্যুৎ না থাকা নতুন কিছু নয়, কমিশন সেক্ষেত্রে আগেই বিকল্প ব্যবস্থার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু শহরের কেন্দ্র কলকাতায় এই পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় প্রশ্ন উঠছে প্রস্তুতি নিয়ে।

নির্বাচন কমিশন
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ০১:৪০

খাস কলকাতার ১০০টিরও বেশি ভোটকেন্দ্রে বিদ্যুৎ পরিষেবা নেই ভোটের আগে এমন তথ্য সামনে আসতেই বিস্মিত নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরা। প্রতিটি বুথে ভোট চলাকালীন অত্যাধুনিক ওয়েব কাস্টিং চালু রাখার নির্দেশ রয়েছে। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকলে তা কার্যত অসম্ভব। তাই দ্রুত এই সমস্ত বুথে বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের (ডিইও) বিষয়টি তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে জেনারেটর ব্যবহারের কথাও বলা হয়েছে, তবে কোনও অবস্থাতেই যেন ওয়েব কাস্টিং ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

গ্রামাঞ্চলের বহু বুথে বিদ্যুৎ না থাকা নতুন কিছু নয়, কমিশন সেক্ষেত্রে আগেই বিকল্প ব্যবস্থার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু শহরের কেন্দ্র কলকাতায় এই পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় প্রশ্ন উঠছে প্রস্তুতি নিয়ে। অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রই যেহেতু স্কুল ভবনে অবস্থিত, তাই পরিকাঠামোগত ঘাটতি নিয়ে রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। কমিশনের এক আধিকারিকের দাবি, স্কুলগুলিতে বিদ্যুৎ সংযোগ ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব রাজ্য সরকারের, কিন্তু সেই পরিকাঠামো উন্নয়ন যথাযথ হয়নি বলেই সমস্যা তৈরি হয়েছে।

দক্ষিণ কলকাতার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, কমিশনের নির্দেশ মেনে সংশ্লিষ্ট বুথগুলিতে অস্থায়ী বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হবে এবং প্রয়োজন হলে জেনারেটরের ব্যবস্থা রাখা হবে। সূত্রের খবর, কলকাতা বন্দর এলাকায় সবচেয়ে বেশি সমস্যা দেখা গিয়েছে সেখানে ৫০টিরও বেশি বুথে বিদ্যুৎ নেই। অতীতে এই পরিস্থিতিতে কীভাবে ভোটগ্রহণ হয়েছে, তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।

কমিশনের মতে, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ছাড়া ওয়েব কাস্টিং সম্ভব নয়। এছাড়াও ভোটের দিন অনেক সময় বুথকক্ষের জানলা ও অতিরিক্ত দরজা বন্ধ রাখা হয়, ফলে ভিতরে অন্ধকার তৈরি হয়। তাই পর্যাপ্ত আলো থাকা অত্যন্ত জরুরি, না হলে ভোটগ্রহণে বিঘ্ন ঘটতে পারে। আদর্শ বুথের পরিকাঠামো নিয়ে কমিশনের নির্দিষ্ট নির্দেশিকা রয়েছে, যা মেনে চলার জন্য ডিইও-দের বলা হয়েছে।

শুধু বিদ্যুৎ নয়, প্রতিটি বুথে পানীয় জল ও শৌচালয়ের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। অভিযোগ রয়েছে, অনেক বুথেই এই ন্যূনতম পরিষেবার অভাব রয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এই সমস্ত ঘাটতি মেটানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজ্যে ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় ভোটগ্রহণ হবে, আর ফল ঘোষণা করা হবে ৪ মে।


Share