Assembly Election

নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্তকে প্রার্থী করায় অসন্তোষ! স্বামীর পরে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে স্ত্রী, হলদিবাড়িতে রাজনৈতিক তর্জা

পূরবী রায় প্রধান কোচবিহারের মেখলিগঞ্জ মহকুমার হলদিবাড়ি পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। তিনি প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অর্ঘ্য রায় প্রধানের স্ত্রী এবং প্রাক্তন সাংসদ অমর রায় প্রধানের পুত্রবধূ। যদিও তাঁর দলবদলকে তেমন গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূল নেতৃত্ব।

বিজেপিতে যোগ দিলেন তৃণমূল কাউন্সিলর পূরবী রায় প্রধান।
নিজস্ব সংবাদদাতা, হলদিবাড়ি
  • শেষ আপডেট: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ০৩:১৫

মেখলিগঞ্জে ফের তৃণমূল প্রার্থী করা হয়েছে পরেশচন্দ্র অধিকারীকে। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তাঁর নাম জড়ানো নিয়ে আগেই বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। অভিযোগ উঠেছিল, প্রভাব খাটিয়ে মেয়েকে সরকারি চাকরি পাইয়ে দিয়েছেন তিনি। সেই পরেশ অধিকারীকেই পুনরায় প্রার্থী করায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তৃণমূল ছাড়লেন হলদিবাড়ি পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলর পূরবী রায় প্রধান। তিনি বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। যদিও তৃণমূলের পাল্টা দাবি, কাউন্সিলর পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে তবেই যেন তিনি অন্য দলে যান।

উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন মেখলিগঞ্জের প্রাক্তন বিধায়ক অর্ঘ্য রায় প্রধান। বিজেপির সল্টলেকের দফতরে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে দলের রাজ‍্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের হাত থেকে দলীয় পতাকা তুলে নিয়েছিলেন। এ বার তাঁর পথ অনুসরণ করেই তৃণমূল ছাড়লেন তাঁর স্ত্রী পূরবী রায় প্রধান। বুধবার রাতে বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক বাপী গোস্বামীর হাত থেকে বিজেপির পতাকা তুলে নেন তিনি।

১১ আসনের হলদিবাড়ি পুরসভা এতদিন পুরোপুরি তৃণমূলের দখলে ছিল। তবে নির্বাচনের আগে এক কাউন্সিলরের দলবদলে সেখানে বিজেপির প্রবেশ ঘটল। বিজেপি সূত্রে দাবি, আরও কয়েক জন তৃণমূল কাউন্সিলর তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। সময় মতো তাঁরাও দলে যোগ দিতে পারেন।

পূরবী রায় প্রধান কোচবিহারের মেখলিগঞ্জ মহকুমার হলদিবাড়ি পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। তিনি প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অর্ঘ্য রায় প্রধানের স্ত্রী এবং প্রাক্তন সাংসদ অমর রায় প্রধানের পুত্রবধূ। যদিও তাঁর দলবদলকে তেমন গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূল নেতৃত্ব।

দল ছাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করে পূরবী রায় প্রধান বলেন, “মেখলিগঞ্জ বিধানসভা আসনের তৃণমূলপ্রার্থী পরেশ অধিকারী। এই মানুষটার শিক্ষা দুর্নীতির জন্য রাজ্যের ২৬ হাজার ছেলেমেয়েরা আজ অকুল পাথারে। তাই ওঁর হয়ে ভোট চাইতে মানুষের দুয়ারে যেতে পারব না। তাই আমি দল ছেড়েছি।”

অন্যদিকে, তৃণমূলের শহর ব্লক সভাপতি ও হলদিবাড়ি পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান অমিতাভ বিশ্বাস কটাক্ষ করে বলেন, “এরা স্বামী-স্ত্রী উভয়েই স্বার্থপর। মহিলা বিল পাশ হলে এই লোকসভা মহিলা সংরক্ষিত আসন হবে। তখন ভোটে দাঁড়াবে। এটা সাধারণ মানুষ জানে। এদের বিজেপিতে যোগদান করায় তৃণমূলের  কোনও ক্ষতি হবে না। ভোটে এর বিন্দুমাত্র প্রভাব পড়বে না।”

এ দিকে, বিজেপি নেতা অর্ঘ্য রায় প্রধান এই অভিযোগ খারিজ করে বলেন, “এরা বিন্দুমাত্র খোঁজরাখে না। এ বার যেই মহিলা বিল পাশ হবে তা আগামী ২০৩৬ সালে ইমপ্লিমেন্ট হবে। আর সেই সময় জনবিন্যাস অনুযায়ী এই আসন যদি তপশিলি সংরক্ষণ হয় তাহলে এই আসনে মহিলা হবে। কিন্তু আমার স্ত্রী জন্মসুত্রে উচ্চবর্নের হিন্দু। তাই সে ওই সুবিধা নিতেও পারবে না।”


Share