Coal Scam

গাড়ির নম্বরপ্লেটের পাশের ১০ বা ২০ টাকার নোট! কয়লাচুরি মামলায় হাওয়ালার হদিশ পেল ইডি, বাজেয়াপ্ত প্রায় ১৬০ কোটি টাকার সম্পত্তি

ইডি জানিয়েছে, তারা ধারাবাহিক ভাবে এই জটিল আর্থিক স্তরগুলিকে উন্মোচন করার চেষ্টা করছে। প্রকৃত সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করার জন্য তদন্ত করছে। কয়লা চুরির টাকা কোন প্রভাবশালীদের কাছে পৌঁছে গিয়েছে তা জানতে তদন্ত করে দেখছে ইডির তদন্তকারীরা।

কয়লাচুরি কাণ্ডে কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করল ইডি।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ১২:১৩

গাড়িতে করে চুরির কয়লা পাচার করতে বিশেষ পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়েছে। সেই টাকা হাওয়ালার মাধ‍্যমে প্রভাবশালীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ইডি সূত্রের খবর, সেই টার কিছু অংশ বিদেশে পাচার করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে কয়লাচুরি মামলায় ১৫৯ কোটি ৫১ লক্ষ টাকা বাজেয়াপ্ত করেছে ইডি। আর্থিক তছরুপ প্রতিরোধ আইনে এই সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

ইডির তদন্তে উঠে এসেছে যে, অনুপ মাঝি ওরফে লালা নেতৃত্বাধীন চক্র ইস্টার্ন কোলফিল্ড লিমিটেড (ইসিএল)-এর লিজ এলাকায় ব্যাপক ভাবে বেআইনি পদ্ধতিতে কয়লা চুরি করে পাচার করেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সংস্থা নগদ অর্থের বিনিময়ে এই চুরির কয়লা কিনত। সেই অর্থকে বৈধ আয়ের রূপ দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হত। ইডি জানিয়েছে, শ‍্যাম সেল এবং পাওয়ার লিমিটেড ও শ‍্যম ফেরো এবং অ‍্যালয় লিমিটেড নামে দু’টি সংস্থার ১৫৯ কোটি ৫১ লক্ষ টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এই সম্পত্তির মধ‍্যে রয়েছে কর্পোরেট বন্ড ও অল্টারনেট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড রয়েছে। এই সংস্থাগুলি শ্যাম গ্রুপের অধীনে। এই সংস্থার মালিক সঞ্জয় আগরওয়াল ও ব্রিজভূষণ আগরওয়াল। এই মামলায় মোট বাজেয়াপ্ত হওয়া সম্পত্তির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৮২ কোটি ২২ লক্ষ কোটি টাকা।

তদন্তে আরও জানা গেছে, এই চক্রটি স্থানীয় কিছু প্রশাসনিক কর্তাদের যোগসাজশে কয়লা চুরি করে বিভিন্ন কারখানায় সরবরাহ করত। সেই কাজের জন‍্য ভুয়ো কোম্পানির চালান ব‍্যবহার করত। তার নাম দেওয়া হয়েছিল- ‘লালা প্যাড’। কয়লা চোরেরা ১০ বা ২০ টাকার একটি নোট গাড়ির নম্বরপ্লেটের পাশে রাখত। তা সমেত ছবি তুলে তা চক্রের সদস্যদের পাঠাত। যাতে বোঝা যায় গাড়িটি তাদেরই। সেই ছবি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তাদের কাছে পাঠানো হত। সেটাই কার্যত অস্তিত্বহীন সংস্থার জাল ‘ট‍্যাক্স ইনভয়েস’ হিসেবে কাজ করত। পথে কোনো বাধা এলে জাল ইনভয়েস দেখিয়ে সহজেই বেরিয়ে যেতই এই কৌশল ব‍্যবহার করা হত বলে জানিয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।

এ ছাড়া, ইডি একটি গোপন হাওয়ালা নেটওয়ার্কেরও সন্ধান পেয়েছে। পদ্ধতি মেনে ব‍্যাঙ্কের মাধ্যমে নয়, নগদ অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে নোটের সিরিয়াল নম্বরকে যাচাইকরণ পদ্ধতি ব্যবহার করে নগদে লেনদেন করা হত। প্রেরক এবং গ্রাহক— দু’পক্ষের নোটের সিরিয়াল নম্বর মিলে গেলেই তবেই লেনদেন সম্পন্ন করা হত বলে জানিয়েছে ইডি। নথি ছাড়াই অর্থ হস্তান্তর সম্পন্ন হত। ফলে এই লেনদেন সম্পূর্ণ ভাবে অদৃশ্য ও অপ্রকাশিতই থাকত। এই অপরাধে একাধিক স্তরে ‘জটিল আর্থিক লেনদেন’-এর মাধ্যমে কয়লা পাচারের অর্থের উৎস ও মালিকানা গোপন করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে ইডি।

ইডি জানিয়েছে, তারা ধারাবাহিক ভাবে এই জটিল আর্থিক স্তরগুলিকে উন্মোচন করার চেষ্টা করছে। প্রকৃত সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করার জন্য তদন্ত করছে। কয়লা চুরির টাকা কোন প্রভাবশালীদের কাছে পৌঁছে গিয়েছে তা জানতে তদন্ত করে দেখছে ইডির তদন্তকারীরা।


Share