Weather Update

তীব্র গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা! পয়লা বৈশাখের পরের দিনই বেশ কিছু জায়গায় বৃষ্টি, সাময়িকভাবে রেহাই মিললেও বাড়বে তাপমাত্রা

উত্তর-পশ্চিম বিহার থেকে মণিপুর পর্যন্ত একটা পূর্ব-পশ্চিম অক্ষরেখাও তৈরি হয়েছে। ফলে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প ঢুকছে স্থলভাগে। যার জেরে এই ঝড় বৃষ্টি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর।

কলকাতার বেশ কিছু জায়গায় মেঘের দেখা মিলেছে।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ১০:১৩

পয়লা বৈশাখেই তীব্র গরমে যেন হাঁসফাঁস অবস্থা হয়েছিল রাজ্যবাসীর। কাঠফাটা রোদে বাইরে বেরোনো প্রায় অসম্ভব হয়ে গিয়েছিল। তবে বৃহস্পতিবারই আবহাওয়ার আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। কালো মেঘ যেন রোদের তীব্রতাকে অনেকটা ঢেকে দিয়েছে। বেশ কিছু এলাকায় কয়েক পশলা বৃষ্টিও হয়ে গিয়েছে। হাওয়া অফিস সূত্রের খবর, এ দিন প্রায় সব জেলেতেই বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ঝড় বৃষ্টির ফলে সাময়িকভাবে গরম থেকে রেহাই মিললেও এর পর থেকে ফের গরমের অস্বস্তি বাড়বে।

আবহাওয়া দফতরের তরফে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতি এবং শুক্রবার দুপুরের পর থেকেই পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম ও মুর্শিদাবাদে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এর সঙ্গে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে বইবে ঝোড়ো হাওয়া। কয়েকটি জেলায় মাঝারি বৃষ্টি থেকে কালবৈশাখী হতে পারে। উপকূলের জেলাগুলিতেও এর খুব একটা হেরফের হবে না। শনিবারও বীরভূম, মুর্শিদাবাদ ও নদিয়ার কিছু এলাকায় হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

বৃষ্টি হলেও গরমের খুব একটা হেরফের হবে না। আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি বজায় থাকবে। কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। পশ্চিমের জেলাগুলিতে তাপমাত্রা পৌঁছতে পারে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত। পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, পশ্চিম বর্ধমান ও বীরভূমে গরম ও অস্বস্তি অনুভূত হবে।

উত্তরবঙ্গে,কিদার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার ও জলপাইগুড়িতে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তার সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বইতে পারে দমকা ঝোড়ো হাওয়া। মালদা ও দুই দিনাজপুরেও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি পর্যন্ত বাড়তে পারে। মালদা ও দক্ষিণ দিনাজপুরের কিছু এলাকায় গরম ও অস্বস্তি বাড়বে।

বাংলাদেশের উত্তরে এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় একটি ঘূর্ণাবর্ত সৃষ্টি হয়েছে। তার ফলেই আবহাওয়ার এই আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। সমুদ্রতল থেকে এর উচ্চতা ০.৯ কিলোমিটার। এর সঙ্গে উত্তর-পশ্চিম বিহার থেকে মণিপুর পর্যন্ত একটা পূর্ব-পশ্চিম অক্ষরেখাও তৈরি হয়েছে। ফলে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প ঢুকছে স্থলভাগে। যার জেরে এই ঝড় বৃষ্টি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর।


Share