Special Intensive Rivision

‘ট্রাইব্যুনালে যেভাবে নিস্পতি হবে, সেইমতো তালিকা তৈরি হবে,’ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরে জানালেন রাজ‍্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক

মনোজ আরও জানিয়েছেন, “এই বিষয়ে বিএলও-দের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা জরুরি। পাশাপাশি ভোটারেরা নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট থেকেও নিজেদের তথ্য জানতে পারবেন। বিডিও দফতরেও এই সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য উপলব্ধ থাকবে।”

সিইও মনোজকুমার আগরওয়াল
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ১০:৩০

ট্রাইবুনালে যেভাবে বাদ যাওয়া ভোটারের নথি নিস্পতি করবে সেই ভাবেই তালিকায় নাম উঠবে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এমনটাই জানালেন রাজ‍্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল।

এ দিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মনোজকুমার আগরওয়াল জানান, “ট্রাইব্যুনালে ১৯ জন বিচারপতি কাজ করছেন। সেখানে যেভাবে আবেদন যাবে, তাঁরা সেইমতো নিষ্পত্তি করবেন। যাঁদের নাম বাতিল হয়েছে, ট্রাইব্যুনালে তাঁদের নথি নিষ্পত্তি হলে সেই নামগুলি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।” রাজ‍্যের মুখ‍্য নির্বাচনী আধিকারিকের কথায়,  ৯ মার্চ পর্যন্ত তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এরপর ২১ এপ্রিল পর্যন্ত যতগুলি নামের নিষ্পত্তি হবে, তা তালিকায় যোগ করে দেওয়া হবে। আর সেই সমস্ত ভোটাররা তাঁদের ভোটাধিকার ফিরে পাবেন।

এখনও পর্যন্ত ‘ড্যাশবোর্ড’ তৈরি হয়নি। তাই এখনই প্রকৃত সংখ্যাটা বলা যাবে না বলেও জানান রাজ‍্যের মুখ‍্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল। আগামী ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোটগ্রহণ। দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ হবে আগামী ২৯ এপ্রিল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, প্রথম দফার নির্বাচনের জন‍্য বিধানসভা আসনগুলিতে আগামী ২১ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় দফার ক্ষেত্রে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত যত নাম নিস্পত্তি হবে তা তালিকাভুক্ত করতে হবে। তালিকায় নাম থাকলে ভোট তাঁরা দিতে পারবেন।

এত দ্রুত ২৭ লক্ষ বাদ যাওয়া ভোটারের নাম কী ভাবে তালিকাভুক্ত করা হবে তা নিয়েও স্পষ্ট করেছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল। মনোজকুমার আগরওয়াল বলেন, নির্বাচন কমিশনকে ‘সেতু বন্ধন’-এর মতো একটি সফটওয়্যার তৈরি করতে হবে। যাতে ট্রাইব্যুনালে নামের নিষ্পত্তি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা ভোটার তালিকায় যুক্ত হতে থাকে। তবে এই পদ্ধতি মেনে কাজ করা কমিশনের জন্য খুব একটা কঠিন হবে না বলেই আশাবাদী মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক।

মনোজ আরও জানিয়েছেন, “এই বিষয়ে বিএলও-দের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা জরুরি। পাশাপাশি ভোটারেরা নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট থেকেও নিজেদের তথ্য জানতে পারবেন। বিডিও দফতরেও এই সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য উপলব্ধ থাকবে।”

রাজ্যে প্রায় ৯১ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাঁদের জন্য ১৯ জন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে নিয়ে একটি প্যানেল গঠন করা হয়েছে, যারা বর্তমানে ‘ট্রাইব্যুনাল’-এ জমা পড়া নথি পরীক্ষা করে দেখছেন। সুপ্রিম কোর্ট ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, ভোটাররা নির্বাচন কমিশনের মোবাইল অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। তবে ট্রাইব্যুনালে সরাসরি হাজিরা দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। পাশাপাশি জেলাশাসক বা মহকুমা শাসকের দফতরেও প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেওয়া যাবে।


Share