Share Market

শেয়ারবাজারে ইতিহাস গড়তে জিও! ৩০ হাজার ২১৩ কোটি টাকার মেগা আইপিও, ১৩ হাজার ৪২৮ টাকা থাকলেই করতে পারবেন আবেদন? জেনে নিন খুঁটিনাটি

ফলে জিও প্ল্যাটফর্মসের এই পদক্ষেপ ঘিরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিমধ্যেই আগ্রহ তৈরি হয়েছে। রিলায়েন্স গোষ্ঠীর পাশাপাশি দেশের শেয়ারবাজারের জন্যও এই আইপিওকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ২১ অক্টোবর ২০২৬ ০১:৫৬

ভারতের শেয়ারবাজারে নতুন ইতিহাস গড়ার লক্ষ্য নিয়ে বুধবার, ২১ অক্টোবর থেকে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য খুলছে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের জিও প্ল্যাটফর্মসের বহু প্রতীক্ষিত আইপিও। এই শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে বাজার থেকে ৩০ হাজার ২১৩ কোটি টাকা তোলার লক্ষ্যমাত্রা রেখেছে সংস্থা। সেই লক্ষ্য পূরণ হলে, ভারতের শেয়ারবাজারের ইতিহাসে এটিই হবে বৃহত্তম আইপিও। ফলে জিও প্ল্যাটফর্মসের এই পদক্ষেপ ঘিরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিমধ্যেই আগ্রহ তৈরি হয়েছে। রিলায়েন্স গোষ্ঠীর পাশাপাশি দেশের শেয়ারবাজারের জন্যও এই আইপিওকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

জিও প্ল্যাটফর্মসের আইপিওতে আবেদন করা যাবে শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত। শেয়ারপ্রতি দাম রাখা হয়েছে ১,০৬৫ টাকা থেকে ১ হাজার ১১৯ টাকার মধ্যে। এক লটে থাকছে ১২টি শেয়ার। অর্থাৎ, সর্বোচ্চ দর ধরে হিসাব করলে খুচরো বিনিয়োগকারীদের ন্যূনতম ১৩ হাজার ৪২৮ টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। এই আইপিওর মাধ্যমে প্রায় ২৭ কোটি নতুন ইক্যুইটি শেয়ার বাজারে ছাড়বে সংস্থা। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, বর্তমান শেয়ারহোল্ডাররা তাঁদের হাতে থাকা কোনও শেয়ার বিক্রি করছেন না।

আইপিওর সর্বোচ্চ দর অনুযায়ী, জিও প্ল্যাটফর্মসের বাজারমূল্য দাঁড়াতে পারে প্রায় ১০.৩ লক্ষ কোটি টাকা। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির পরেও এই মূল্যায়ন বজায় থাকলে, দেশের সর্বাধিক বাজারমূল্যের সংস্থাগুলির তালিকায় জায়গা করে নেবে জিও প্ল্যাটফর্মস। সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শেয়ার বরাদ্দের কাজ শেষ হলে আগামী ২৮ অক্টোবর বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ (বিএসই) এবং ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে (এনএসই) সংস্থার শেয়ার তালিকাভুক্ত হওয়ার কথা।

এ দিকে, আইপিও ঘিরে গ্রে মার্কেটেও জোর চর্চা চলছে। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের তথ্য অনুযায়ী, জিও প্ল্যাটফর্মসের শেয়ারের গ্রে মার্কেট প্রিমিয়াম বা জিএমপি বর্তমানে ২২ থেকে ২৩ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। Investorgain-এর তথ্য অনুযায়ী, শেয়ারপ্রতি জিএমপি ২৪৭ টাকা। এই হিসাব সঠিক হলে, তালিকাভুক্তির সময় ইস্যুমূল্যের তুলনায় প্রায় ২২.১ শতাংশ বেশি দামে শেয়ার লেনদেন শুরু করতে পারে। অন্যদিকে, IPO Watch-এর দাবি, জিও প্ল্যাটফর্মসের জিএমপি ২৩.২ শতাংশ। তবে গ্রে মার্কেটের এই পরিসংখ্যান থেকে সম্ভাব্য লাভের কেবল একটি ধারণা পাওয়া যায়। তালিকাভুক্তির দিন শেয়ারের প্রকৃত দাম কত হবে, তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

জিও প্ল্যাটফর্মসের আইপিও নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে একাধিক ব্রোকারেজ সংস্থা। তাদের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে ডিজিটাল যোগাযোগের বাজারে জিওর শক্তিশালী অবস্থান, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, মুনাফার উন্নতি এবং ভবিষ্যতে আয় বৃদ্ধির সম্ভাবনা। মতিলাল ওসওয়াল এই আইপিওতে বিনিয়োগের পরামর্শ দিয়েছে। সংস্থাটির মতে, তালিকাভুক্তির পর সম্ভাব্য মুনাফার কথা মাথায় রেখে যেমন এই আইপিওতে আবেদন করা যেতে পারে, তেমনই দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও এটি বিবেচনাযোগ্য।

ভারতের ডিজিটাল যোগাযোগের বাজারে জিওর শক্তিশালী উপস্থিতি এবং ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল পরিষেবার পরিধিকেই ভবিষ্যৎ বৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। এখন নজর থাকবে, বিপুল অঙ্কের এই আইপিওতে বিনিয়োগকারীদের সাড়া কেমন মেলে এবং শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির দিন জিও প্ল্যাটফর্মস কী ধরনের সূচনা করে।


Share