Terrorism

ভাঙড়ে আড়াই বছর ভাড়াবাড়িতে বসবাস, জঙ্গি মডিউল তৈরির অভিযোগে ভাঙড় থেকে এসটিএফের জালে জানাদুল

ভাঙড়ের পানাপুকুরে প্রায় আড়াই বছর ধরে ভুয়ো পরিচয়ে ভাড়াবাড়িতে থাকার অভিযোগ জানাদুল বেগের বিরুদ্ধে। আল কায়েদার মতাদর্শে প্রভাবিত হয়ে জঙ্গি মডিউল তৈরির চেষ্টা এবং সমাজমাধ্যমে যুবকদের সংগঠনে যুক্ত করার অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করেছে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, ভাঙড়
  • শেষ আপডেট: ১৭ আগস্ট ২০২৬ ১১:২৮

প্রায় আড়াই বছর ধরে ভাঙড়ের পানাপুকুর এলাকায় ভাড়াবাড়িতে থাকত জানাদুল বেগ। আল কায়েদার মতাদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে জঙ্গি মডিউল তৈরির চেষ্টা এবং সমাজমাধ্যমের মাধ্যমে যুবকদের সংগঠনে যুক্ত করার অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করেছে রাজ্য পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স।

ভাঙড়ের বিজয়গঞ্জ বাজারের কাছে পানাপুকুর এলাকায় জানাদুল নজরুল মোল্লার বাড়ি ভাড়া নিয়েছিল। তবে বাড়ি ভাড়া নেওয়ার সময় নিজের নাম জানিয়েছিলেন ‘জুন্নাতুল কিবরিয়া’ বলে। সূত্রের দাবি, শওকত মোল্লার ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ভাঙড়-২ পঞ্চায়েত সমিতির এক কর্মাধ্যক্ষের মাধ্যমেই বাড়িওয়ালার সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হয়েছিল। সেই কারণে বাড়ি ভাড়ার সময় জানাদুলের কাছ থেকে আধার কার্ডও নেওয়া হয়নি বলে জানা গিয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে জানা যাচ্ছে, জানাদুল নিজেকে মালদহের বাসিন্দা বলে পরিচয় দিয়েছিল। বাড়িওয়ালাকে জানিয়েছিল, তার স্ত্রী মারা গিয়েছে। সন্তানও নেই। তিনি একাই থাকেন। এই পরিচয়েই ওই বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্ত ওই বাড়িতে ভাড়ায় ছিল।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দিনের বেশিরভাগ সময়ই ঘরের মধ্যে তিনি মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন। আগে ল্যাপটপ ব্যবহার করলেও সাম্প্রতিক সময়ে মোবাইলেই বেশি সময় কাটাত। এলাকায় জানাদুল অনলাইন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করতেন। তবে ঠিক কী ধরনের কাজ করত, তা স্পষ্ট ছিল না কারও কাছেই। খুব একটা বাইরেও বেরোত না। মাঝেমধ্যে অবশ্য তাঁর সঙ্গে দেখা করতে বাইরের লোকজন আসত।

প্রায় আড়াই বছর ধরে ওই এলাকায় ছিল জানাদুল। তবুও তার আচরণ নিয়ে প্রতিবেশীদের মধ্যে বিশেষ সন্দেহ তৈরি হয়নি। তিনি একটি পা টেনে হাঁটতেন। নিয়মিত পাঁচবার নমাজ পড়ত। সপ্তাহে দু’দিন রোজা রাখতেন বলেও জানা গিয়েছে। স্ত্রী-সন্তানহীন একাকী মানুষ এবং ধর্মীয় আচরণের কারণেই তাঁকে নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়নি বলে স্থানীয়েরা দাবি করেছে।

রবিবার রাতে পানাপুকুরের ওই বাড়িতে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ অভিযান চালায়। রাত ১১টা নাগাদ তল্লাশি শুরু হয়। প্রায় রাত আড়াইটে পর্যন্ত তল্লাশি চলে। অভিযুক্তের ঘর থেকে মোবাইল ফোনের পাশাপাশি বেশ কিছু নথিপত্র এবং একটি পাসপোর্ট উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের হাতে থাকা ওই পাসপোর্টের মেয়াদ ২০২৯ সাল পর্যন্ত। সেটিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। একই অভিযানে বিড়লাপুর থেকে সফিক শেখ নামে আরও এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়।

তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘মুঘলে আজম’ এবং ‘জিহাদ-ই-সবিবিল্লাহ’ নামে সমাজমাধ্যমের দু’টি অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ভারতবিরোধী প্রচার চালানোর অভিযোগ রয়েছে জানাদুল ও সফিকের বিরুদ্ধে। ওই অ্যাকাউন্টগুলির মাধ্যমে সংগঠনের পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি যুবকদের দলে টানার চেষ্টা করা হচ্ছিল বলেও অভিযোগ।

গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, আল কায়েদার মতাদর্শে প্রভাবিত হয়ে একটি জঙ্গি মডিউল তৈরির পরিকল্পনা করছিল অভিযুক্তেরা। সেই উদ্দেশ্যে সমাজমাধ্যমের মাধ্যমে সদস্য সংগ্রহ এবং অস্ত্র জোগাড়ের চেষ্টাও চলছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। গোটা ঘটনায় আরও কারা যুক্ত, তাঁদের সঙ্গে ধৃতদের যোগাযোগ কতটা এবং মডিউল তৈরির পরিকল্পনা কতদূর এগিয়েছিল—তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।


Share