Calcutta High Court

পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় জামিন চেয়ে হাই কোর্টে সুজিত বসু, শুনানি শেষ, রায়দান স্থগিত রাখলেন বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ

সুজিতের আইনজীবীর দাবি, তাঁর মক্কেল কলকাতার বাসিন্দা। তদন্তের প্রয়োজনে তাঁকে যখন খুশি ডাকা যেতে পারে এবং তিনি তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। তবে দুই পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পরও বিচারপতি ঘোষ রায়দান স্থগিত রাখেন।

সুজিত বসু।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৭ আগস্ট ২০২৬ ০৮:৪৭

পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হওয়া রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসু জামিনের আবেদন জানিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। সোমবার সেই মামলার শুনানি শেষ হল। তবে এ দিনই বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ রায় ঘোষণা করেননি। রায়দান আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।

সুজিতের আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি আদালতে সওয়াল করেন, পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্ত ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। তাই তাঁর মক্কেলকে এখনও জেলে আটকে রাখার কোনও নৈতিক বা যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই। ইডি এই গ্রেফতারির যথাযথ ব্যাখ্যাও দিতে পারছে না বলে তিনি দাবি করেন। সিঙ্ঘভির আরও বক্তব্য, ২০১৬ সালের পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডি সুজিতকে ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে দেখিয়েছে। অথচ এই মামলায় ২০২৪-২৫ সালে সিবিআই যে চার্জশিট পেশ করেছে, সেখানে সুজিতের নামই নেই। সুজিতের আইনজীবীর দাবি, তাঁর মক্কেল কলকাতার বাসিন্দা। তদন্তের প্রয়োজনে তাঁকে যখন খুশি ডাকা যেতে পারে এবং তিনি তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। তবে দুই পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পরও বিচারপতি ঘোষ রায়দান স্থগিত রাখেন।

গত ১১ মে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সুজিতকে গ্রেফতার করেছিল। পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে দক্ষিণ দমদম পুরসভায় বেআইনি ভাবে চাকরি পাওয়া প্রার্থীদের নাম সুপারিশ করার অভিযোগ উঠেছে। ইডি সূত্রের দাবি, ওই তালিকায় প্রায় ১৫০ জন চাকরিপ্রার্থীর নাম ছিল। তদন্তকারীদের সন্দেহ, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত টাকা একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে লেনদেন হয়েছে। সেই কারণেই ইডি সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলির তথ্য খতিয়ে দেখছে।

গ্রেফতারির আগে ইডি সুজিতকে একাধিক বার জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল। ভোটের আগে তাঁকে বেশ কয়েক বার তলব করা হলেও প্রচারের ব্যস্ততার কারণে হাজিরা দিতে পারেননি বলে তিনি জানিয়েছিলেন। প্রচারপর্ব শেষ হওয়ার পর গত ১ মে সুজিত সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ইডি দফতরে হাজিরা দেন। কয়েক ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর সে দিন তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর ১১ মে ফের ইডি দফতরে হাজির হলে প্রায় সাড়ে ১০ ঘণ্টা ধরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পরই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সুজিতকে গ্রেফতার করে।


Share