Balurghat OPD

বালুরঘাটে বড় স্বস্তি! জেলা হাসপাতালে চালু সান্ধ্যকালীন ওপিডি, বিকেল ৩টা–সন্ধ্যা ৬টা চিকিৎসা

এতদিন পর্যন্ত ওপিডিতে চিকিৎসা পরিষেবা সকাল ন'টা থেকে দুপুর দু'টো পর্যন্ত সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু এবার তা পরিবর্তিত হচ্ছে।

বালুরঘাট ওপিডিতে ভিড়
নিজস্ব সংবাদদাতা, বালুরঘাট
  • শেষ আপডেট: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০১:০২

দক্ষিণ দিনাজপুরের সদর শহর বালুরঘাট। সেখানেই চিকিৎসা ব্যবস্থা থাকলেও সন্ধ্যাবেলা থেকে কোনোও ডাক্তার পাওয়া যেত না ওপিডিতে। ফলত, চেম্বারের ডাক্তারই ভরসা ছিল সাধারণ মানুষের। এবার সেই সমস্যা দূর করতে শুক্রবার থেকে বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে চালু হতে চলেছে সান্ধ্যকালীন ওপিডি। বৃহস্পতিবার সাংবাদিক সম্মেলন করে এমন কথাই জানালেন জেলা জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক সুদীপ জানান।

সুদীপ দাস বলেন, 'ডিএইচএস স্বপন সরেনের নির্দেশে প্রতিদিন বিকেল তিনটে থেকে সন্ধ্যা ছ'টা পর্যন্ত এই বিশেষ বহির্বিভাগ খোলা থাকবে। প্রাথমিকভাবে মেডিসিন, পেডিয়াট্রিক্স ও গাইনোলজি- এই তিনটি বিভাগের ডাক্তাররা রোগী দেখবেন। বিকেল পাঁচটা ৩০ মিনিটে শেষ টিকিট দেওয়া হলেও, লাইনে থাকা সব টিকিটধারী রোগীদের দেখা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ডাক্তার থাকবেন। সোমবার ও বুধবার পেডিয়াট্রিক্স, মঙ্গলবার ও শুক্রবার মেডিসিন, বৃহস্পতিবার ও শনিবার গাইনোলজি বিভাগ খোলা থাকবে। সাধারণ মানুষের ভালো সাড়া মিললে ভবিষ্যতে এই পরিষেবার পরিধি আরো বাড়ানো হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর।'

এতদিন পর্যন্ত ওপিডিতে চিকিৎসা পরিষেবা সকাল ন'টা থেকে দুপুর দু'টো পর্যন্ত সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু এবার তা পরিবর্তিত হচ্ছে। ফলে যেসমস্ত মানুষ সকালে কাজের চাপের কারণে চিকিৎসা পরিষেবায় সামিল হতে পারতেন না তাঁরা এই সান্ধ্যকালীন পরিষেবায় চিকিৎসা করাতে পারবেন।

বালুরঘাট জেলা হাসপাতাল ভবন ও সুপার স্পেশালিটি ভবন মিলিয়ে অন্তত ১৫টি বহির্বিভাগ পরিষেবা চলে। কিন্তু স্ত্রী রোগ, শিশু ও মেডিসিনের বিভাগগুলিতে ভিড় থাকে। সে কথা ভেবেই বিকেলের পরিষেবা শুরু করছে জেলা স্বাস্থ্য দফতর।

অধিকাংশ সময়ই প্রকাশ্যে আসছে বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে ডাক্তারের সংকটের কথা। কিন্তু সাংবাদিক বৈঠকের সময় এই কথা সত্য নয় বলেও তিনি দাবি করেন। সিএমওএইচ জানান এই মুহূর্তে জেলা হাসপাতালে সব বিভাগে পর্যাপ্ত ডাক্তার রয়েছেন। যে খবর বলা হয়েছে তা সঠিক নয়। তিনি এই পরিপ্রেক্ষিতে কোন বিভাগে কতজন ডাক্তার রয়েছেন তারও পরিসংখ্যান জানিয়ে দাবি করেন, 'জেলা হাসপাতালে পুরো মাত্রায় ডাক্তার রয়েছেন দেখে হাসপাতালে রোগীরা পরিষেবা পেয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। হাসপাতাল থেকে রোগীদের অন্যত্র রেফার করে দেওয়ার সংখ্যা কমেছে। গতমাসে নেই বললেই চলে। জেলা হাসপাতাল থেকে অনকোলজি স্পেশালিস্ট ডাঃ শ্রাবন্তী চ্যাটার্জির তত্ত্বাবধানে ক্যানসার রোগীদের চিকিৎসা পরিষেবা থেকে কাউন্সিলিং ও কেমোথেরাপি বিনা পয়সায় দেওয়া হচ্ছে। এই মুহূর্তে জেলা হাসপাতাল থেকে ৬১ জন ক্যানসার রোগীর চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও ডাক্তার সহ ভ্রাম্যমান চিকিৎসা ভ্যান গ্রামে গ্রামে গিয়ে প্রতিদিন প্রচুর মানুষকে চিকিৎসা পরিষেবা, রক্ত পরীক্ষা, ইসিজি, অন্যান্য চিকিৎসা জেলা স্বাস্থ্য দফতরের তরফ থেকে চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।' 


Share