SIR Hearing Panic

এসআইআর শুনানির নোটিসে আতঙ্ক! হুগলিতে বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা গৃহবধূর, শুরু রাজনৈতিক তরজা

এসআইআর শুনানির নোটিস পেয়ে আতঙ্কে বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা গৃহবধূর। হুগলির গোঘাটে ঘটনায় চাঞ্চল্য, চিকিৎসাধীন মহিলা। এসআইআর ইস্যুতে শুরু রাজনৈতিক তরজা।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, হুগলি
  • শেষ আপডেট: ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ ০২:৫১

এসআইআর-এর শুনানিতে ডাক পাওয়ার পর আতঙ্কে বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন এক গৃহবধূ, এমনই অভিযোগ পরিবারের সদস্যদের। ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে হুগলির গোঘাট থানার বদনগঞ্জ–ফুলুই ২ নম্বর পঞ্চায়েতের একোকন্দ এলাকায়। বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।

আক্রান্ত গৃহবধূ জয়া ঘণ্টেশ্বরী বর্তমানে আরামবাগ মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকদের মতে, তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, জয়ার বাবা-মা দু’জনেই তিনি ছোট থাকতেই মারা যান। তাঁর বাবা বাঁকুড়ায় পুলিশ কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং চাকরিরত অবস্থাতেই তাঁর মৃত্যু হয়। ২০০২ সালের আগেই বাবা-মায়ের মৃত্যু হওয়ায় নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত সেই সময়ের ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম ছিল না। সেই কারণে জয়ার প্রথমে ভোটার কার্ড তৈরি হয়নি। পরে বিয়ের পর বদনগঞ্জ এলাকায় তাঁর ভোটার কার্ড তৈরি হয় এবং তিনি ভোটও দিয়েছেন।

আগামী ৫ জানুয়ারি এসআইআর-এর শুনানিতে হাজিরার জন্য জয়াকে নোটিস পাঠানো হয়েছিল। এরপর থেকেই প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করতে বিভিন্ন সরকারি দফতরে ঘুরতে শুরু করেন তিনি। স্থায়ী বাসিন্দার শংসাপত্রের জন্য তিনি বাপের বাড়ি কামারপুকুর পঞ্চায়েতে যোগাযোগ করেন। তবে সেখান থেকে কোনও সহায়তা না পাওয়ায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন বলে পরিবারের দাবি। সেই আতঙ্ক থেকেই শুক্রবার বিকেলে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে তিনি বিষ খান বলে অভিযোগ।

জয়ার ছেলে কৌশিকের দাবি, কামারপুকুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান রাজদীপ দে ওই মহিলাকে স্থায়ী বাসিন্দার শংসাপত্র দেননি। বলা হয়েছে, মহিলা ওই এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা নন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও হাতে ছিল না। সব মিলিয়ে তিনি খুব আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের গোঘাট ২ নম্বর ব্লক সভাপতি সৌমেন দিগর বলেন, 'যে ভাবে বিজেপির নেতা-মন্ত্রীরা এসআইআর নিয়ে চাপ দিচ্ছেন, তাতে অনেকেই তো এই ঘটনার শিকার। জয়া ঘণ্টেশ্বরীও তাই। আমরা ওঁর পরিবারের পাশে আছি।'

অন্য দিকে, বিজেপির আরামবাগ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সুশান্ত বেরা জানান, এসআইআর নিয়ে কোনও বিতর্ক নেই। সুষ্ঠু ভাবে কাজ চলছে। হিয়ারিং চলছে। গোঘাটের কোকন্দে জয়া ঘণ্টেশ্বরীর বিষয়টি হলো পারিবারক বিবাদ। এর সঙ্গে এসআইআর-এর কোনও যোগ নেই। তবে উনি সুস্থ হয়ে উঠুন, ভালো থাকুন। 


Share