Abhishek Banarjee

ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে ভাঙচুর! বিজেপি-আশ্রিত দুষ্কৃতীদের তাণ্ডবের অভিযোগ অভিষেকের, গ্রেফতার ছয়

তাঁর দাবি, বৃহস্পতিবার ভোররাতে তাঁর অফিসে বিজেপি-আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাণ্ডব চালিয়েছে। ঘটনার ছবি সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:৩১

ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস নিয়ে তদন্ত চলার মধ্যেই এ বার সেখানে ভাঙচুরের অভিযোগ তুললেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, বৃহস্পতিবার ভোররাতে তাঁর অফিসে বিজেপি-আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাণ্ডব চালিয়েছে। ঘটনার ছবি সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পাল্টা বিজেপিকে আক্রমণ করে কালীঘাট তৃণমূলও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

সমাজমাধ্যমে পোস্টে অভিষেক জানান, বৃহস্পতিবার ভোররাতে তাঁর ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। ঘটনার ছবি প্রকাশ করে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের হস্তক্ষেপও দাবি করেন। অভিষেকের বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গে আইনের শাসন বজায় রাখতে আদালতের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। ঘটনার পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে রাজ্যপাল, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর দফতরের ভূমিকা নিয়েও তিনি জানতে চেয়েছেন।

পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে সরাসরি নিশানা করে অভিষেক লেখেন, তৃণমূল কংগ্রেস এবং তাঁকে নিয়ে শুভেন্দু এতটা ‘ভীত’ কেন যে এই ধরনের ভয় দেখানোর পথ নিতে হচ্ছে? ‘এটা গণতন্ত্র নয়। রাজনৈতিক গুন্ডামি।’

ক্যামাক স্ট্রিটের ওই অফিস ঘিরে কয়েক দিন আগের হোর্ডিং-কাণ্ডের তদন্ত এখনও চলছে। পুলিশ ও কলকাতা পুরসভার কর্মীরা হোর্ডিং খুলতে গেলে তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে তাঁদের বচসা ও ধস্তাধস্তির অভিযোগ ওঠে। পুরসভার দাবি ছিল, অফিসের বাইরে তৃণমূলের একটি হোর্ডিং বেআইনি ভাবে লাগানো হয়েছিল। সেটি বিপজ্জনক অবস্থায় ঝুলছিল। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই পুরকর্মীরা হোর্ডিংটি খুলতে গিয়েছিলেন। ওই ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা, পুলিশ ও পুরকর্মীদের উপর হামলা এবং মহিলা পুলিশকর্মীদের সঙ্গে অভব্য আচরণের অভিযোগে শেক্সপিয়র সরণী থানায় একাধিক মামলা দায়ের হয়।

সেই মামলার তদন্তেই তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন বুধবার থানায় হাজিরা দেন। একই দিনে শেক্সপিয়র সরণী থানায় হাজিরা দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ও। দু’জনকেই পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করে। এই মামলার সূত্রেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও তলব করা হয়েছিল।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে ভাঙচুরের নতুন অভিযোগকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতর আরও তীব্র হয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, হামলা, ভয় দেখানো কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো কোনও ঘটনাই ভুলে যাওয়া হবে না। তাঁর কথায়, ‘প্রতিটি হামলা, প্রতিটি ভয় দেখানো, প্রতিটি ক্ষমতার অপব্যবহারের কথা মনে রাখা হবে।’

অন্য দিকে, কালীঘাটের তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে ভাঙচুর পূর্বপরিকল্পিত। তাঁদের অভিযোগ, অভিষেক শহরে নেই এবং বুধবার রাতে দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন এই খবর জানার পরই ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা অফিসে ঢুকে তাণ্ডব চালায়। অফিসের কর্মীদের উপর হামলার পাশাপাশি এয়ার পিউরিফায়ার, প্রিন্টার, টিভি-সহ একাধিক সামগ্রী নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ উঠেছে।

শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ছ’জনকে আটক করেছে পুলিশ। তবে এই ছ’জনকে গ্রেফতার করা নিয়েও কালীঘাট তৃণমূল প্রশ্ন তুলেছে। তাঁদের দাবি, আটক হওয়া ব্যক্তিরাই যে ঘটনায় জড়িত, তার প্রমাণ কোথায়? একই সঙ্গে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও তৃণমূল প্রশ্ন তুলেছে। তাঁদের অভিযোগ, পুলিশকে খবর দেওয়া হলেও রাতে ঘটনাস্থলে কেউ আসেননি।

অন্য দিকে, এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনও যোগ নেই বলে দাবি করেছেন বিজেপি নেতা সজল ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, ঘটনার সঙ্গে বিজেপি কোনও ভাবেই জড়িত নয়।


Share