Swasthya Bhawan

ডেঙ্গু রুখতে কড়া নির্দেশ স্বাস্থ্য দফতরের, ৪৮ ঘণ্টা জ্বর হলেই নজরে এএনএম-চিকিৎসক, চালু হবে ‘ফিভার ক্যাম্প’

পুরসভা ও জেলাগুলির জন্য পৃথক ভাবে করণীয় নির্ধারণের পাশাপাশি ডেঙ্গি আক্রান্ত রোগীকে কোন পরিস্থিতিতে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে, সেই বিষয়েও স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৯:১৯

মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে পর্যালোচনা বৈঠকের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ডেঙ্গু-নজরদারি জোরদার করার নির্দেশিকা জারি করল রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। বুধবার জারি হওয়া ওই নির্দেশিকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে নজরদারি, জ্বর বা ডেঙ্গির উপসর্গ রয়েছে এমন ব্যক্তিদের রক্তপরীক্ষা এবং মশার লার্ভা নিধনের উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। পুরসভা এলাকার পাশাপাশি জেলাস্তরেও ডেঙ্গি মোকাবিলায় কী কী পদক্ষেপ করতে হবে, তার বিস্তারিত কার্যপদ্ধতি নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। ডেঙ্গির মরসুম শুরু হয়ে গেলেও মশার লার্ভা নিধন এবং এলাকায় কেউ জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন কি না, তা খোঁজ নেওয়ার কাজে যুক্ত স্বাস্থ্যকর্মীদের অন্য কাজে ব্যস্ত রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছিল। চিকিৎসক এবং আশাকর্মীদের একাংশের দাবি, আয়ুষ্মান ভারতের কাজেই তাঁদের বেশি সময় দিতে হচ্ছে। এই অভিযোগের আবহেই স্বাস্থ্য দফতর বুধবার নতুন নির্দেশিকা জারি করল। নির্দেশিকায় ডেঙ্গির পাশাপাশি ম্যালেরিয়া পরীক্ষার উপরেও জোর দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে আক্রান্তদের বিনামূল্যে রক্তপরীক্ষার ব্যবস্থা করার জন্য স্বাস্থ্য ভবন জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছে। পুরসভা ও জেলাগুলির জন্য পৃথক ভাবে করণীয় নির্ধারণের পাশাপাশি ডেঙ্গি আক্রান্ত রোগীকে কোন পরিস্থিতিতে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে, সেই বিষয়েও স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গ্রাম, শহর ও মফস্‌সল শহর সর্বত্র বাড়ি বাড়ি গিয়ে জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তিদের খোঁজ করবেন আশাকর্মীরা। কোনও ব্যক্তির ৪৮ ঘণ্টার বেশি জ্বর থাকলে তা বাধ্যতামূলক ভাবে এএনএম বা মেডিকেল অফিসারের নজরে আনতে হবে। স্বাস্থ্যকর্মীরা জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তিদের রক্তপরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেবেন। জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকদের সমস্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বিনামূল্যে এলিসা পরীক্ষার ব্যবস্থা করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো না থাকলে নিখরচায় বা কম খরচে বেসরকারি ল্যাবরেটরিতে ডেঙ্গি পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজনে এ কাজে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সাহায্য নেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ডেঙ্গির উপসর্গ রয়েছে এমন ব্যক্তিদের রক্তপরীক্ষা করাতে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ব্যাপক প্রচার চালানো হবে। পাশাপাশি ডেঙ্গি নিয়ে সচেতনতামূলক প্রচারও চলবে। প্রতিদিন কত জন জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তির সন্ধান মিলল এবং কত জনের ডেঙ্গি পরীক্ষা করা হল, সেই তথ্য রিপোর্ট আকারে স্বাস্থ্য ভবনকে জানাতে হবে। ডেঙ্গি আক্রান্ত এলাকায় বিশেষ সাফাই অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনও এলাকায় আক্রান্তের খোঁজ মিললে সংক্রমণের উৎসস্থল চিহ্নিত করতে হবে। পরিস্থিতি অনুযায়ী মশা মারার ওষুধ ব্যবহার ও থার্মাল ফগিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। কোনও এলাকায় জ্বরের প্রকোপ বাড়লে সেখানে ‘ফিভার ক্যাম্প’ চালু করা হবে। জেলা, ব্লক বা পুরসভা এলাকায় জ্বরের প্রকোপ এবং সম্ভাব্য ‘হটস্পট’ চিহ্নিত করতে চিকিৎসা শিবিরের আয়োজন করা হবে। সকাল সাতটা থেকে রাত ন'টা পর্যন্ত এই ‘ফিভার ক্যাম্প’ চলবে। সেখানে মেডিকেল অফিসার, নার্স এবং মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের উপস্থিত থাকতে হবে। প্রয়োজনীয় ওষুধ বিনামূল্যে দেওয়ার ব্যবস্থাও থাকবে। ডেঙ্গির পাশাপাশি জ্বরে আক্রান্ত রোগীদের ম্যালেরিয়া পরীক্ষারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ডেঙ্গি আক্রান্তদের ক্ষেত্রে পরীক্ষার রিপোর্টে কী ফল এসেছে, তা দ্রুত সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীকে জানাতে হবে। রক্তপরীক্ষার রিপোর্টে সিবিসি ও পিসিভি-র পাশাপাশি প্লেটলেটের মাত্রাও উল্লেখ করতে হবে। প্লেটলেটের সংখ্যা ৫০ হাজারের নীচে নেমে গেলে স্লাইড মেথডে পরীক্ষা করে রিপোর্ট নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তিকে হাসপাতালে পাঠানোর প্রয়োজন হলে দ্রুত এবং তৎপরতার সঙ্গে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে হবে।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্বাস্থ্য ভবনে রাজ্যের ডেঙ্গি পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠক করেন। বৈঠকের পর সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, গত বছর এই সময় পর্যন্ত রাজ্যে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা সাত হাজার ৬০০ ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এ বছর এখনও পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় চার হাজার। ডেঙ্গির পাশাপাশি মশাবাহিত আর এক রোগ ম্যালেরিয়া নিয়েও অযথা আতঙ্ক না ছড়ানোর আবেদন জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, মুর্শিদাবাদের নওদা এবং নদিয়ার চাকদহের মতো কয়েকটি ব্লকে এখনও ডেঙ্গির প্রকোপ রয়েছে। তিনি পরিস্থিতির উপর নভেম্বর পর্যন্ত নজর রাখার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি আশাকর্মীরা যাতে সামান্য জ্বরকেও অবহেলা না করেন এবং আক্রান্তদের বিনামূল্যে রক্তপরীক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়, সে বিষয়েও মুখ্যমন্ত্রী জোর দেন। ডেঙ্গি সংক্রান্ত কোনও তথ্য গোপন করা হবে না বলেও জানান তিনি।


Share