RG Kar Case

আরজি করের নির্যাতিতার দেহ তড়িঘড়ি দাহের অভিযোগ, ভিন্‌রাজ্য থেকে গ্রেফতার পানিহাটির প্রাক্তন চেয়ারম্যান সোমনাথ দে

নির্যাতিতা মহিলা চিকিৎসক-পড়ুয়ার দেহ দ্রুত দাহ করার অভিযোগে পানিহাটি পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান সোমনাথ দে-কে বেঙ্গালুরু থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:১৪

আরজি কর মামলায় এ বার গ্রেফতার হলেন তৃতীয় অভিযুক্তও। নির্যাতিতা মহিলা চিকিৎসক-পড়ুয়ার দেহ দ্রুত দাহ করার অভিযোগে পানিহাটি পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান সোমনাথ দে-কে বেঙ্গালুরু থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ট্রানজিট রিমান্ডে তাঁকে এ রাজ্যে এনে ব্যারাকপুর আদালতে হাজির করানো হবে।

নির্যাতিতার দেহ তড়িঘড়ি দাহ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ তুলে তাঁর বাবা খড়দহ থানায় এফআইআর দায়ের করেছিলেন। সেই মামলাতেই এর আগে পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ এবং প্রাক্তন কাউন্সিলর তথা নির্যাতিতার প্রতিবেশী সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্মল ঘোষকে ওড়িশার পুরীর কাছে একটি হোটেল থেকে পাকড়াও করা হয়। অন্য দিকে, সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়কে কলকাতার চিনার পার্কের একটি বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এই মামলায় দু’জনেই জামিন পেয়েছেন। যদিও অন্য একটি মামলায় নির্মল এখনও জেলবন্দি রয়েছেন।

নতুন করে এফআইআর দায়ের হওয়ার পর থেকেই প্রাক্তন পুরপ্রধান সোমনাথ দে-র কোনও সন্ধান মিলছিল না। তদন্তকারীদের দাবি, অভিযোগ দায়েরের পর থেকেই তিনি গা-ঢাকা দিয়েছিলেন। পুলিশের নজর এড়াতে বার বার আস্তানা বদলানোর পাশাপাশি ফোন নম্বরও পরিবর্তন করছিলেন। একাধিক মোবাইল নম্বর ব্যবহার করছিলেন বলেও তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে।

গত ৯ অগস্ট আরজি কর-কাণ্ডে নিহত চিকিৎসক-পড়ুয়ার দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পানিহাটিতে একটি স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী উপস্থিত ছিলেন। ওই দিন পানিহাটির শ্মশানঘাটে ঠিক কী ঘটেছিল, তা খতিয়ে দেখতে মুখ্যমন্ত্রী ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটকে নির্দেশ দেন। এর পরের দিনই নির্যাতিতার পরিবারের তরফে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পানিহাটির তৎকালীন বিধায়ক নির্মল ঘোষ, প্রাক্তন কাউন্সিলর সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় এবং প্রাক্তন পুরপ্রধান সোমনাথ দে-র বিরুদ্ধে খড়দহ থানার পুলিশ এফআইআর দায়ের করে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শ্মশানের রিকুইজিশন নথিতে সোমনাথ দে-র নাম পাওয়া যায়। সেই সূত্র ধরেই তদন্তকারীরা তাঁর ভূমিকা নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেন। আরজি করের নির্যাতিতার দেহ দ্রুত দাহ করা এবং তথ্যপ্রমাণ লোপাটের ঘটনায় সোমনাথের কোনও যোগ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


Share