Demonstration

হুগলির হরিপালে মাধ্যমিক পরীক্ষার মুখে প্রবল অনিশ্চয়তা, রেজিস্ট্রেশন না হওয়ায় বিপাকে ১৩ জন পরীক্ষার্থী

সোমবার হুগলির হরিপালের জামাইবাটি উচ্চ বিদ্যালয়ে গেটে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ দেখান পড়ুয়া ও অভিভাবকদের একাংশ। স্কুল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিলেও পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তাঁরা।

স্কুলের সামনে জমায়েত ছাত্রছাত্রী
নিজস্ব সংবাদদাতা, হুগলি
  • শেষ আপডেট: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:৪৭

চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে চলেছে মাধ্যমিক পরীক্ষা। হাতে আর মাত্র কয়েকটি দিন বাকি থাকলেও হুগলি জেলার হরিপালের জামাইবাটি উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৩ জন পড়ুয়ার এখনও মাধ্যমিকের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়নি। ফলে অ্যাডমিট কার্ড না পাওয়ায় পড়ুয়ারা পরীক্ষায় বসা নিয়ে প্রবল অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।

এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই সোমবার স্কুল চত্বরে উত্তেজনা ছড়ায়। ক্ষুব্ধ পড়ুয়া ও অভিভাবকদের একাংশ স্কুলের গেটে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের একটাই দাবি—অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট পড়ুয়াদের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে হবে। অ্যাডমিট কার্ডের ব্যবস্থা করতে হবে। স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি বছর জামাইবাটি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মোট ৮০ জন ছাত্রছাত্রী মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসার কথা ছিল। তার মধ্যে আট জন ছাত্র এবং পাঁচ জন ছাত্রীর রেজিস্ট্রেশন হয়নি। পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, কেন তাঁদের রেজিস্ট্রেশন হয়নি, সে বিষয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেনি।

দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ চললেও স্কুলের তরফে কোনও সদুত্তর না মেলায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিভাবকদের অভিযোগ, স্কুল কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণেই পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ আজ প্রশ্নের মুখে। বিক্ষোভের জেরে বেশ কিছুক্ষণ স্কুলের পঠনপাঠনও বন্ধ থাকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি আশ্বাস দেওয়া হয়, যদি ওই পড়ুয়ারা এ বছর পরীক্ষায় বসতে না পারে, তবে আগামী বছর মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেওয়া হবে এবং সেই ক্ষেত্রে তাঁদের পড়াশোনার সমস্ত খরচ বহন করবে স্কুল কর্তৃপক্ষ।

বিক্ষোভকারী এক অভিভাবক ফাল্গুনী আদক বলেন, “রেজিস্ট্রেশন না হওয়ায় আমার ছেলে অ্যাডমিট কার্ড পায়নি। আমাদের একটাই দাবি—সব পড়ুয়াই যেন পরীক্ষায় বসতে পারে।” অন্যদিকে পরীক্ষার্থী রিয়া দাসের বক্তব্য, “আমরা পরীক্ষায় বসতে চাই। কোনও ভুল না করেও কেন আমাদের একটা বছর নষ্ট হবে?” এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রধান শিক্ষক সঞ্জীব সিনহা জানান, তাঁর দায়িত্বকালে মাধ্যমিকের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়েছিল। বর্তমানে তিনি অবসরপ্রাপ্ত। তিনি বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।” মাধ্যমিক পরীক্ষার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে এই ঘটনায় উদ্বেগে দিন কাটছে পড়ুয়া ও অভিভাবকদের। এখন দেখার, শেষ মুহূর্তে কোনও সমাধানসূত্র বেরোয় কি না!


Share