CJP Protest

‘ব্যারিকেড ভাঙলে পরিস্থিতি সামলাবেন কীভাবে?’ যন্তর মন্তর কাণ্ডে সৌরভ-রাঙ্কাকে ভর্ৎসনা হাই কোর্টের

যন্তর মন্তরে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ব্যারিকেড টপকে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে ভর্ৎসনা করল দিল্লি হাই কোর্ট। বিশৃঙ্খলা হলে পরিস্থিতি সামলানোর দায়িত্ব কে নিতেন, প্রশ্ন বিচারপতির।

(বাঁ দিক থেকে) সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২১ অক্টোবর ২০২৬ ০৫:৫৮

যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচি নিষিদ্ধ থাকার পরেও কেন সেখানে ঢুকেছিলেন? ব্যারিকেড ভেঙে আন্দোলন করতে গিয়ে পরিস্থিতি অশান্ত হয়ে উঠলে তা সামলানোর দায়িত্ব কে নিতেন? ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার আচরণ নিয়ে এমনই প্রশ্ন তুলল দিল্লি হাই কোর্ট। বুধবার তাঁদের বিচারবিভাগীয় হেফাজতের মেয়াদ বৃদ্ধির বিরুদ্ধে দায়ের করা আবেদনের শুনানিতে এই দুই নেতাকে ভর্ৎসনা করেন বিচারপতি সুব্রমনিয়ম প্রসাদ।

গত ১৩ অক্টোবর যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচি নিষিদ্ধ থাকার পরেও লোহার গেট টপকে সেখানে ঢুকে পড়েন সৌরভ, রাঙ্কা এবং তাঁদের কয়েক জন সমর্থক। হাতে জাতীয় পতাকা নিয়ে স্লোগান দিতে শুরু করেন তাঁরা। পরে পুলিশ তাঁদের আটক করে। পূর্ববর্তী বন্ডের শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় সৌরভ ও রাঙ্কাকে। প্রথমে স্পেশাল এগ্‌জিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট তাঁদের পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ দেন। পরে সেই মেয়াদ আরও দু’দিন বাড়ানো হয়। হেফাজতের মেয়াদ বৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে সিজেপি।

শুনানিতে বিচারপতি প্রসাদ স্পষ্ট করেন, বিক্ষোভের ক্ষেত্রে পুলিশের অনুমতির প্রয়োজনীয়তা শুধুমাত্র আন্দোলনকারীদের নিয়ন্ত্রণ করা নয়। বরং, বিক্ষোভে অন্যদের যোগ দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার সম্ভাবনা আটকানোও এর অন্যতম উদ্দেশ্য।

সৌরভ ও রাঙ্কার উদ্দেশে বিচারপতির প্রশ্ন, আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তিরাই যদি ব্যারিকেড ভাঙেন, তা হলে তাঁদের সমর্থকেরাও একই পথে হাঁটতে পারেন। এমন পরিস্থিতিতে তাঁদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা কেউ অশান্তি ছড়ালে কীভাবে তা সামলানো হবে?

অন্য দেশের বিক্ষোভের উদাহরণ

আদালতে অন্য দেশের প্রসঙ্গও তোলেন বিচারপতি। তাঁর পর্যবেক্ষণ, বিভিন্ন দেশে ছাত্রবিক্ষোভ দিয়ে শুরু হওয়া আন্দোলন পরবর্তী সময়ে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের মতো অশান্তির রূপ নিয়েছে। যদিও কোনও নির্দিষ্ট দেশের নাম উল্লেখ করেননি তিনি।

শান্তি ভঙ্গ না করার শর্তে সৌরভ, রাঙ্কা এবং সিজেপি প্রধান অভিজীত দিপকেকে জামিন দেওয়া হয়েছিল। সেই শর্ত কেন লঙ্ঘন করা হল, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলে আদালত। দুই নেতার বয়স ২৭ ও ৩১ বছর শুনে বিচারপতি মন্তব্য করেন, তাঁরা জেন জ়ি প্রজন্মের নন। তাঁর পর্যবেক্ষণ, প্রথমে ছাত্রবিক্ষোভ থাকলেও পরবর্তী সময়ে আন্দোলনের চরিত্র বদলে গিয়েছে। একই মানুষ আন্দোলনে থাকলেও তার উদ্দেশ্য ও পরিস্থিতি পরিবর্তিত হতে পারে।


Share