Attempt To Murder

মগরায় ব্যর্থ ডাকাতির চেষ্টা, অসীম সাহস ও উপস্থিত বুদ্ধিতে প্রানে বাঁচালেন চিকিৎসক দম্পতি

দুষ্কৃতীর হাত মুচড়ে ধরে আগ্নেয়াস্ত্রের নল নীচের দিকে নামিয়ে দেন চিকিৎসক, সেই ফাঁকে স্ত্রী ইন্দিরা ঘোষ ফুটন্ত জল ছুড়ে দিলে চিৎকার করতে করতে পালায় তিন দুষ্কৃতী। ঘটনায় দম্পতির সাহসিকতায় বড়সড় বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া গিয়েছে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, মগরা
  • শেষ আপডেট: ০৩ জানুয়ারি ২০২৬ ০৩:৩৩

আগ্নেয়াস্ত্রধারী দুষ্কৃতীদের সাথে উপস্থিত বুদ্ধি দেখিয়ে রক্ষা পেলেন বৃদ্ধ চিকিৎসক ও তাঁর স্ত্রী। বৃহস্পতিবার রাতে হুগলির মগরা থানার দিগসুই গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। বুদ্ধির জোরেই এক দম্পতির বাড়িতে লুটপাটের চেষ্টা ভেস্তে যায়। আগ্নেয়াস্ত্রধারী দুষ্কৃতীর হাত মুচড়ে ধরেন চিকিৎসক সোমনাথ ঘোষ(৭২)। সেই ফাঁকেই স্ত্রী ইন্দিরা ঘোষ দুষ্কৃতীদের দিকে ছুড়ে দেন ফুটন্ত জল। পোড়ার জ্বালায় চিৎকার করতে করতে তিন দুষ্কৃতী পালিয়ে যায়।

চিৎকার চেঁচামেচিতে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। খবর পেয়ে মগরা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছোয়। হুগলি গ্রামীণ জেলা পুলিশের আধিকারিকেরা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। তবে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। এক পুলিশকর্তা জানান, ওই বাড়িতে সিসিটিভি ক্যামেরা নেই। তাই আশপাশের এলাকার ফুটেজ দেখে দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।অভিযোগ দায়ের হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমনাথ ঘোষ দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত। তিনি এখনও বাড়ির চেম্বারে রোগী দেখেন। তাঁদের ছেলে চাকরিসূত্রে কলকাতায় থাকেন। বৃহস্পতিবার রাত প্রায় আটটা নাগাদ সোমনাথ চেম্বার বন্ধ করে ঘরে যান। ইন্দিরা তখন চায়ের জল চাপাচ্ছিলেন। সেই সময় কলিং বেল বাজিয়ে বাইরে থেকে কেউ জিজ্ঞেস করে, “ডাক্তারবাবু আছেন?” স্বাভাবিকভাবেই তাঁরা মনে করেন কোন রোগী বা আত্মীয় এসেছে হয়তো। ফলে বৃদ্ধ দরজা খুলে দেন। দরজা খুলতেই তিন যুবক ঘরের মধ্যে ঢুকে পড়ে। তাদের মধ্যে একজন আগ্নেয়াস্ত্র তাক করে চিকিৎসকের কপালে। মুহূর্তের মধ্যেই সোমনাথ দুষ্কৃতীর হাত ধরে আগ্নেয়াস্ত্রের নল নীচের দিকে নামিয়ে দেন। ঠিক সেই সময় দরজার পাশেই থাকা ইন্দিরা ফুটন্ত জল ছুড়ে দেন দুষ্কৃতীদের দিকে। গরম জল গায়ে লাগতেই আতঙ্কিত হয়ে চিৎকার করতে করতে পালিয়ে যায় তারা।

চেঁচামেচি শুনে আশপাশের বাসিন্দারা ছুটে আসেন। স্থানীয়রা জানান, সোমনাথ ঘোষ এলাকায় অত্যন্ত সুনামধন্য চিকিৎসক। অল্প খরচে চিকিৎসা করেন। বহু গরিব মানুষকে বিনামূল্যেও ওষুধ দেন। তাঁর বাড়িতে রাতবিরেতেও চিকিৎসার জন্য লোকজন আসেন। ঘটনার পর এখনও আতঙ্ক কাটেনি দম্পতির। ইন্দিরা ঘোষ বলেন, “লোকগুলো হয়তো ডাকাতির উদ্দেশ্যেই এসেছিল। প্রায় ৪০ বছর ধরে এখানে আছি, আগে কখনও এমন হয়নি। এবার সিসিটিভি ক্যামেরা বসাতে হবে।” অন্যদিকে সোমনাথ ঘোষ বলেন, “কোনও বিশেষ কৌশল জানা ছিল না। শুধু বন্দুকের নলটা নীচের দিকে নামাতে চেয়েছিলাম। স্ত্রী যদি সময়মতো গরম জল না ছুড়ত, তাহলে বড় বিপদ হয়ে যেতে পারত।” দম্পতির সাহসিকতায় বড়সড় বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ায় তাঁদের প্রশংসায় সরব গোটা এলাকা।


Share