Assault

ছেলের অনুপস্থিতিতে পুত্রবধূকে নির্যাতন, শ্বশুরের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ বারাসত আদালতে

গ্রামের সালিশি সভায় নির্যাতিতাকে শ্বশুরকে স্বামী হিসেবে মেনে নিয়ে সংসার করার পরামর্শ দেওয়া হয়। দম্পতি এই সিদ্ধান্ত মানতে অস্বীকার করেন।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, বারাসত
  • শেষ আপডেট: ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ০১:৫৮

বারাসত আদালতের এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে প্রকাশ পেয়েছে। ছেলের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে পুত্রবধূর উপর বারবার যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে শ্বশুরের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত শ্বশুরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার সপ্তম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা আদালতের বিচারক প্রজ্ঞাপারমিতা হোসেন এই রায় ঘোষণা করেন। পাশাপাশি আদালত নির্যাতিতাকে ছয় লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন। এই রায়ে নির্যাতিতা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

অভিযুক্তের বাড়ি অশোকনগর এলাকায়। তাঁর ছেলে পেশায় ফেরিওয়ালা। ফলে তিনি প্রতিদিন সকালেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতেন। বাড়িতে তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তান থাকতেন। ওই একই বাড়িতে শশুরও তাঁদের সাথেই বসবাস করতেন। অভিযোগ, ছেলের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে শ্বশুর বারবার পুত্রবধূর উপর অত্যাচার চালাত। এই বিষয়টি নির্যাতিতা প্রথমে স্বামীকে জানান। পরে স্থানীয়দের কাছেও বিষয়টি তাঁরা তুলে ধরেন।

তবে শুরুতে প্রতিবেশীরা বিষয়টি বিশ্বাস করতে চাননি। পরবর্তীতে গ্রামে একটি সালিশি সভা বসে। কিন্তু সেখানে চাঞ্চল্যকরভাবে নির্যাতিতাকে শ্বশুরকে স্বামী হিসেবে মেনে নিয়ে সংসার করার পরামর্শ দেওয়া হয়। দম্পতি এই সিদ্ধান্ত মানতে অস্বীকার করেন। অভিযোগ, এরপরই তাঁদের একঘরে করে দেওয়া হয়। স্থানীয়দের তরফে পানীয় জল নেওয়া বা দোকান থেকে জিনিস কেনার ক্ষেত্রেও বাধা দেওয়া হয়।

অবশেষে সত্য প্রকাশ্যে আনতে স্বামী-স্ত্রী সচেষ্ট হন। ২০২৪ সালের ২৯ এপ্রিল, স্বামী কাজের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে যাওয়ার ভান করে বাড়ির মধ্যেই লুকিয়ে থাকেন। কিছুক্ষণ পর অভিযুক্ত আবার পুত্রবধূর উপর নির্যাতনের চেষ্টা করে। ফলত হাতেনাতে সে ধরা পড়ে যায়।

সেদিনই অশোকনগর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। কিছুদিন জেল হেফাজতে থাকার পর অভিযুক্ত জামিনে মুক্তি পায়। তারপরে ভুক্তভোগী পরিবারকে আবারও হুমকি দিতে থাকে বলে অভিযোগ। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে পুনরায় গ্রেফতার করা হয়।

মামলাটি দীর্ঘদিন ধরে বারাসত আদালতে চলছিলম। অবশেষে রায় ঘোষণা করা হয়। সরকারি আইনজীবী তীর্থঙ্কর পাল জানান, অভিযুক্তকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি এক লক্ষ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। রায় ঘোষণার পর নির্যাতিতা জানান, “মামলা করার পর আমরা দুই সন্তান নিয়ে খুবই অসহায় অবস্থায় ছিলাম। পুলিশ আমাদের নিরাপত্তার জন্য গোপন স্থানে রেখেছিল। আজকের রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।”

এই ঘটনায় আবারও উঠে এসেছে গ্রামীণ সমাজে সালিশি ব্যবস্থার বিতর্কিত ভূমিকা। নারীর নিরাপত্তা নিয়ে গভীর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।


Share