Bangladeshi

কাঁটাতারের দুই প্রান্তে অচলাবস্থা, সীমান্তে আটকে থাকা ১২ জনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য কলকাতায় পাঠাল বিএসএফ

অভিযোগ, নিজেদের দেশে ফেরার চেষ্টা করলে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি) এবং স্থানীয় কিছু মানুষ তাঁদের প্রবেশে বাধা দেয়। ‘পুশ ইন’-এর অভিযোগ তুলে বাংলাদেশে ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করা হয়েছে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, নদিয়া
  • শেষ আপডেট: ১৬ জুন ২০২৬ ১১:৩৪

নদিয়ার হোগলবেড়িয়া সীমান্তে মানবিকতার এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করল ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী। সীমান্তের কাঁটাতার, প্রশাসনিক জটিলতা এবং প্রাণনাশের আশঙ্কার মধ্যে টানা প্রায় চার দিন তিন রাত জিরো পয়েন্টে আটকে থাকার পর অবশেষে উদ্ধার করা হল তিন পরিবারের ১২ জন বাংলাদেশি নাগরিককে। তাঁদের চিকিৎসার জন্য বিএসএফ হেফাজতে নিয়ে কলকাতায় পাঠানো হয়েছে।

জানা গিয়েছে, গত শুক্রবার ভোরে হোগলবেড়িয়া থানার রানিনগর গ্রামের কাছে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের ১৪৮/৩-এস পিলার সংলগ্ন জিরো পয়েন্ট এলাকায় আশ্রয় নেন চার শিশু-সহ মোট ১২ জন বাংলাদেশি নাগরিক। ভারতীয় কাঁটাতারের বাইরে মাথাভাঙ্গা নদীর ধারে একটি পাটক্ষেতের পাশে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাতে বাধ্য হন তাঁরা।

অভিযোগ, নিজেদের দেশে ফেরার চেষ্টা করলে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি) এবং স্থানীয় কিছু মানুষ তাঁদের প্রবেশে বাধা দেয়। ‘পুশ ইন’-এর অভিযোগ তুলে বাংলাদেশে ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করা হয়েছে। এমনকি সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা করলে প্রাণনাশের হুমকির মুখেও পড়তে হয় বলে অভিযোগ। ফলে কার্যত দুই দেশের মাঝখানে আটকে পড়েন ওই ১২ জন।

ক্রমশ তাঁদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করলে বিষয়টি বিএসএফের নজরে আসে। তীব্র গরম, বৃষ্টি এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে শিশু ও মহিলাদের অবস্থা বিশেষভাবে উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে বিএসএফ মানবিক কারণে তাঁদের উদ্ধার করার সিদ্ধান্ত নেয়।

বিএসএফ সূত্রে খবর, নিরাপত্তা ও মানবিকতার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আন্তর্জাতিক সীমান্ত সংক্রান্ত জটিলতা সত্ত্বেও ওই ১২ জনকে জিরো পয়েন্ট থেকে উদ্ধার করে ভারতীয় ভূখণ্ডে আনা হয়। উদ্ধার করার পর বিএসএফের চিকিৎসকরা তাঁদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

তবে দীর্ঘ সময় প্রতিকূল পরিবেশে থাকার কারণে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় পরে তাঁদের কলকাতায় স্থানান্তরিত করা হয়েছে। বর্তমানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তাঁদের চিকিৎসা চলছে। সীমান্ত এলাকায় এই ঘটনাকে ঘিরে কিছুটা উত্তেজনা তৈরি হলেও বিএসএফের এই মানবিক পদক্ষেপ স্থানীয়দের প্রশংসা কুড়িয়েছে। কঠোর সীমান্ত নিরাপত্তার আবহেও মানবজীবনের মূল্য যে সর্বাগ্রে, এই ঘটনাই যেন আবারও সেই বার্তা তুলে ধরল।


Share