Maoist Surrender

আত্মসমর্পণ করলেন মাওবাদী জঙ্গি সংগঠনের নেত্রী পুষ্পা, মিশির বেসরার দলের সদস্য ছিল বলে জানাল পুলিশ

মাওবাদী নেত্রী শকুন্তলা ওরফে পুষ্পা ওরফে বর্ষা বলেন, “এই আন্দোলন এখন আর ঠিক নয়। সরকারের কাজে আমি খুশি হয়েছি। তাই সমস্ত অস্ত্র ত‍্যাগ করে মূলস্রোতে ফিরে এসেছি।”

মাওবাদী জঙ্গি নেত্রী শকুন্তলা ওরফে পুষ্পা।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬ ১২:৪৫

আরও এক মাওবাদী জঙ্গি কলকাতা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করলেন। তাঁর নাম পুষ্পা ওরফে বর্ষা ওরফে শকুন্তলা। তিনি আদতে ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ির বাসিন্দা। ২০০১ সালে তিনি এখান থেকে চলে গিয়েছিলেন। উদ্ধার করা হয়েছে একটি এসএলআর রাইফেল, একটি ম‍্যাগাজিন এবং ৩৭ রাউন্ড গুলি।

বুধবার সকালে কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয়কুমার নন্দ সাংবাদিক বৈঠক করে মাওবাদী নেত্রীর আত্মসমর্পণের খবর জানান। পুলিশের কথায়, তিনি ঝাড়খণ্ডের সারেন্ডার জঙ্গলে চলে যান। তখন তিনি ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়তেন। তিনি সেই সময় মাওবাদী জঙ্গি সংগঠনের দলমা স্কোয়ার্ডের জোনাল কমিটির মেম্বার ছিলেন। তখন থেকে বিহার-ওড়িশা-ঝাড়খণ্ডের সীমান্তে সক্রিয় ছিলেন। মূলত সারেন্ডার জঙ্গলেই তিনি সক্রিয় ছিলেন। তিনি আরেক মাওবাদী জঙ্গি নেতা মিশির বেসরার স্কোয়াডের সদস্য ছিলেন। ওই সংগঠনের পিপলস লিবারেশন গেরিলা আর্মি (পিএলজিএ)-এর সদস্য ছিলেন। কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয়কুমার নন্দ জানান, তিনি রাজ‍্যে ফিরে আসেন। সরকারের কাজে খুশি হয়ে তিনি অস্ত্র ত‍্যাগ করেছেন। তার পরে আত্মসমর্পণ করেছেন।

মাওবাদী নেত্রী শকুন্তলা ওরফে পুষ্পা ওরফে বর্ষা বলেন, “এই আন্দোলন এখন আর ঠিক নয়। সরকারের কাজে আমি খুশি হয়েছি। তাই সমস্ত অস্ত্র ত‍্যাগ করে মূলস্রোতে ফিরে এসেছি।” শকুন্তলার নামে এরাজ‍্যে বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। বাকি মামলা ঝাড়খণ্ডে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

গত কয়েক দিন আগে মাওবাদী জঙ্গি শ্রদ্ধা বিশ্বাসকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। শ্রদ্ধা নদিয়ার চাকদহের কালীপুরের বাসিন্দা। বর্তমানে শ্রদ্ধার বয়স ৫৫ বছর। ২০০৫ সাল থেকে এই শ্রদ্ধা বিশ্বাস ওরফে বেলা ঝাড়খন্ডের সারেন্ডার জঙ্গলে জঙ্গি কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। শ্রদ্ধা মাওবাদী সংগঠনের আঞ্চলিক কমিটির সদস্য ছিল। মাওবাদী জঙ্গি মিশির বেসরার গ্রুপের সদস্য ছিল। শ্রদ্ধার মাথার দাম ছিল ১৫ লক্ষ টাকা। সম্প্রতি শ্রদ্ধা সারেন্ডার জঙ্গল থেকে এসেছেন। তাঁকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় থেকে গ্রেফতার করা হয়।

মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠক করে কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয়কুমার নন্দ জানান, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে কলকাতা পুলিশের এসটিএফ অভিযান চালায়। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ের উত্তর কাশীপুর এলাকা থেকে শ্রদ্ধাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে ঝাড়খণ্ড থেকে পুলিশ আসবে বলে জানান তিনি। কমিশনার অজয়কুমার নন্দ আরও জানান, শ্রদ্ধার বিরুদ্ধে ঝাড়খণ্ডে ২০টির বেশি মামলা রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের গড়বেতায় শ্রদ্ধার বিরুদ্ধে মামলা ছিল। ২০০৪-০৫ সালে আদালত থেকে জামিন নেওয়ার পরে শ্রদ্ধা আর এ রাজ‍্যে আসেনি। বাকি কার সাথে কী যোগসূত্র রয়েছে তা পুলিশ তদন্ত করে দেখছে।

উল্লেখ্য, মিশির বেসরা মাওবাদী জঙ্গি সংগঠনের পলিটব‍্যুরোর সদস্য ছিল। গত ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বরের রাঁচির কাছে কুঠি এলাকায় থেকে মাওবাদী জঙ্গিনেতা মিশির বেসরা গ্রেফতার করা হয়। সে দিন ওই গাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ ডেটোনেটর উদ্ধার হয়। জঙ্গিনেতা মিশির ‘ভাস্কর’ বা ‘সুনির্মল’ নামেও পরিচিত। ঝাড়খণ্ডে সংঘটিত একাধিক ভয়াবহ হামলার মূলচক্রী এই মিশির বেসরা। কিন্তু ২০০৯ সালে বিহারের লখিসরাই আদালত চত্বরে মাওবাদী জঙ্গিদের হামলার ঘটনা ঘটে। সেই সময় বিহার পুলিশের হেফাজত থেকে পালিয়ে যায় বেসরা। সেই দিন মিশিরকে আদালতে হাজিরার জন‍্য আনা হচ্ছিল।

প্রায় দুই দশক পরেও ৬৬ বছরের মাওবাদী জঙ্গিনেতা মিসির বেসরা নিরাপত্তাবাহিনীর কাছে অধরাই রয়ে গিয়েছে। এই সংগঠনের পলিটব্যুরোর বাকি সদস্যদের কেউ আত্মসমর্পণ করেছেন, কেউ আবার ছত্তীসগঢ়, তেলেঙ্গানা, মহারাষ্ট্র ও অন্ধ্রপ্রদেশে এনকাউন্টারে নিহত হয়েছে।


Share