TMC Political Crisis

নদিয়া তৃণমূল বনাম তৃণমূল! মহুয়া ঘনিষ্ঠ জেলা পরিষদের সভাধিপতির বিরুদ্ধে আনা হল অনাস্থা প্রস্তাব, বোর্ড ভাঙার জল্পনা শুরু

অভিযোগ, নদিয়ার জেলা পরিষদের সভাধিপতি তারান্নুম সুলতানা বোর্ডের সদস্যদের সঙ্গে সঠিক আচরণ করেন না। তিনি আসনে বসার পর থেকেই একটাও বৈঠক করেননি। বাকি কর্মাধ্যক্ষদের কোনও উপদেশ শোনেন না।

(বাঁ দিক থেকে) তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র এবং নদিয়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি তারান্নুম সুলতানা।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৬ জুন ২০২৬ ১০:৫৭

রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে তৃণমূলে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার নদিয়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি তারান্নুম সুলতানার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়েছে। দলেরই অন‍্য জেলা পরিষদের সদস্যরা অনাস্থা প্রস্তাব এনেছেন। জেলাশাসকের কাছে সেই ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ, নদিয়ার জেলা পরিষদের সভাধিপতি তারান্নুম সুলতানা বোর্ডের সদস্যদের সঙ্গে সঠিক আচরণ করেন না। তিনি আসনে বসার পর থেকেই একটাও বৈঠক করেননি। বাকি কর্মাধ্যক্ষদের কোনও উপদেশ শোনেন না। সামনেই বর্ষার মরশুম আসতে চলেছে। গ্রামে গ্রামে জন পরিষেবামূলক কাজ করা যাচ্ছে না।

এই অনাস্থা প্রস্তাব আনার কারণ হিসেবে তৃণমূলের জেলা পরিষদের সদস্য প্রণয়কুমার ঘোষ চৌধুরী সভাধিপতির ঔদ্ধত্যকে দায়ী করেছেন। তাঁর কথায়, সভাধিপতি তারান্নুম সুলতানা সাধারণ মানুষের সাথে দুর্ব্যবহার করেন। প্রণয়ের অভিযোগ, কিছুদিন আগে তারান্নুম অসম্মানিত করেছেন। এমনকী, ঘর থেকে বেরিয়ে যেতেও বলেছিলেন। তা না হলে নিরাপত্তারক্ষীদের দিয়ে প্রণয়কে বের করার চেষ্টাও তারান্নুম করেছিলেন বলে মঙ্গলবার তিনি জানিয়েছেন। এ ছাড়াও, তারান্নুম সুলতানা ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজের নামে অবৈধ জাতিগত শংসাপত্র বানানোর অভিযোগও উঠেছে। 

নদিয়া জেলায় মোট ৫২টি জেলা পরিষদের আসন রয়েছে। তাতে ৪৭ জন তৃণমূলের সদস্য। পাঁচ জন বিজেপির সদস্য রয়েছেন। তৃণমূল সূত্রের খবর, ২৭ জন জেলা পরিষদের সদস্য ইস্তফাপত্রে সই করেছেন। সবাই তৃণমূলের জেলা পরিষদের সদস্য বলে জানা গিয়েছে। তাতে তৃণমূলের রানাঘাট এবং কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার থেকেই রয়েছেন। ২৭ জনের সঙ্গে যদি বিজেপির পাঁচ জনকে যুক্ত করা হয় তাহলে সংখ‍্যটা ৩২ হবে। দুই তৃতীয়াংশ কাছাকাছি সংখ‍্যায় পৌঁছে যাবে বিদ্রোহীরা। ফলে বোর্ড ভাঙার জল্পনা শুরু হয়েছে। আইন অনুযায়ী, পঞ্চায়েত এবং গ্রামোন্নয়ন দফতরকে জেলাশাসককে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ করতে হবে।

নদিয়া জেলার রাজনীতিতে সভাধিপতি তারান্নুম সুলতানা কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্রের ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত। অন‍্য দিকে, এই ইস্তাফাপত্রে রানাঘাট লোকসভায় দীপক বসু, দেবাশিস গঙ্গোপাধ্যায় সই করবেন বলে জানা গিয়েছে। জানা গিয়েছে, এই তৃণমূল নেতা দু’জনই বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ। তবে দু’জনেই কেউই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চাননি। তৃণমূল সূত্রে এ-ও জানা গিয়েছে, অনাস্থা প্রস্তাবের নেপথ্যে তৃণমূল নেতা দীপক এবং দেবাশিস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

উল্লেখ্য, বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে ভাঙন ধরেছে। কালীঘাটের ‘দাপট’ থেকে বেরিয়ে এসেছেন দলের ৬৪ জন বিধায়ক। তাঁরা দলের ঠিক করা বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে মেনে নেননি। দলের মধ্যেই পৃথক ব্লক বানিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে বেছে নিয়েছে। এ বার সেই প্রভাব নদিয়ার জেলা পরিষদেও পড়ল।


Share