IPS Sundarraj P

ছত্তীসগঢ়ে ‘লাল সন্ত্রাস’ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন, বস্তারের আইজিকে পাঠানো হল এনআইএতে

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক তাঁর আবেদন মঞ্জুর করেছে। তাঁকে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা, এনআইএ-তে আইজি পদে পাঠানোর সিদ্ধান্তে সিলমোহর দিয়েছে। তাঁই ছত্তীসগঢ়ের মুখ‍্যসচিব যাতে উপযুক্ত দফতরকে তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়ে দেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

ছত্তীসগঢ়ের বস্তার রেঞ্জের আইজি সুন্দররাজ পট্টিলিঙ্গম
নিজস্ব সংবাদদাতা, ছত্তীসগঢ়
  • শেষ আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬ ১১:৩৫

ছত্তীসগঢ়ের বস্তার রেঞ্জের আইজি সুন্দররাজ পট্টিলিঙ্গমকে বদলি করল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। তিনি বস্তারে দীর্ঘ দিন দায়িত্ব সামলেছেন। ছত্তীসগঢ়ের দন্ডকারণ‍্য, আবুজমাঢ়ের জঙ্গলে মাওবাদী জঙ্গি দমনে প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন। তাঁর নেতৃত্বেই বস্তারের মানুষ মাওবাদী জঙ্গিদের জঙ্গিদের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছে। তাঁকে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা, এনআইএ-তে পাঠানো হয়েছে।

এমন ‘দক্ষ’ পুলিশকর্তাকে ফেলে রাখতে চায়নি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। মঙ্গলবার দিল্লির কর্তব‍্য ভবন ছত্তীসগঢ়ের মুখ‍্যসচিবকে চিঠি দিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নির্দেশ, ২০০৩ ব‍্যাচের ছত্তীসগড় আইপিএস অফিসার সুন্দররাজ পট্টিলিঙ্গম কেন্দ্রীয় সংস্থায় কাজ করতে চেয়ে ডেপুটেশন দিয়েছিলেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক তাঁর আবেদন মঞ্জুর করেছে। তাঁকে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা, এনআইএ-তে আইজি পদে পাঠানোর সিদ্ধান্তে সিলমোহর দিয়েছে। তাঁই ছত্তীসগঢ়ের মুখ‍্যসচিব যাতে উপযুক্ত দফতরকে তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়ে দেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

‘লাল সন্ত্রাস’ শুরু হয়েছিল ১৯৬৭ সালে নকশালবাড়ি থেকে। পরবর্তীতে তা পার্শ্ববর্তী বেশ কয়েকটি রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ে। তার পর থেকে কার্যত মাওবাদী জঙ্গিদের ধ্বংসলীলা গোটা দেশ দেখেছে। পরে সিপিআই (মাওবাদ)-কে জঙ্গি সংগঠন বলে কেন্দ্রীয় সরকার ঘোষণা করে। ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত দেশ থেকে মাওবাদী জঙ্গি মুক্ত করার কথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ঘোষণা করেন।

সুন্দররাজ পট্টিলিঙ্গম আদতে তামিলনাড়ুর বাসিন্দা। কৃষিবিদ‍্যা নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। ২০০৩ সালে ইউপিএসসি পরীক্ষায় পাশ করে আইপিএস অফিসার হন। একটি সাক্ষাৎকারে সুন্দররাজ বলেছিলেন, তিনি কৃষক পরিবারের ছেলে। তাঁর পরিবারের সবাই এখনও চাষবাসের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন।

এই ছত্তীসগঢ়ের আইপিএস অফিসারের ওপরে মাওবাদী জঙ্গিদের ‘লাল সন্ত্রাস’-এর মূল গোড়া থেকে উপড়ে ফেলার দায়িত্ব বর্তায়।  তাঁর সময়কালেই ডিআরজি, বস্তার যোদ্ধা, বস্তারিয়া ব‍্যাটেলিয়ন তৈরি হয়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের মাওবাদী জঙ্গি মুক্ত ভারত ঘোষণার পরে নতুন করে রণকৌশল স্থির করা হয়। আইপিএস অফিসার সুন্দররাজ একটি সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, তাঁরা প্রথমে বস্তারের দন্ডকারণ‍্য, আবুজমাঢ় এলাকার মানুষের ভাষা বোঝার মতো বাহিনী তৈরি করা হয়। সেখানকার পিছিয়ে পড়া মানুষদের সঙ্গে ক্রমাগত সমন্বয় বজায় রাখা, তাঁদের জনস্বার্থে সাহায্য করা, সরকারের সমস্ত জনকল্যাণমূলক সুযোগ-সুবিধা তাঁদের কাছে পৌঁছে দেওয়া একটা অন‍্যতম চ‍্যালেঞ্জ ছিল।

তাঁর নেতৃত্বেই নিরাপত্তাবাহিনী গত বছর ডিসেম্বর মাসে দান্তেওয়াড়া এবং বিজাপুরের জঙ্গলে বড়সড় অভিযান চালায়। সেই লড়াইয়ে মাওবাদী জঙ্গি সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক নম্বলা কেশব রাও ওরফে বাসবারাজু ওরফে গণন্না নিকেশ হয়। তাঁর নেতৃত্বেই আরেক মাওবাদী জঙ্গি সংগঠনের শীর্ষ নেতা কেশব রাও আত্মসমর্পণ করেছিলেন। কেশব রাও ২০১০ সালে সিআরপিএফের গাড়িতে হামলার ঘটনার অন‍্যতম মূল অভিযুক্ত। ওই ঘটনায় ৭৬ জন জওয়ান মারা গিয়েছিলেন।

ছত্তীসগঢ়ে গত বছরে ২৭৫ জন মাওবাদী জঙ্গি নেতা-কর্মীদের নিরাপত্তাবাহিনী নিকেশ করেছে। সেই তালিকায় রয়েছে, মাওবাদী সাধারণ সম্পাদক নাম্বালা কেশব রাও ওরফে বাসবরাজু ওরফে গগন্না, পলিটব্যুরো সদস্য রামচন্দ্র রেড্ডি ওরফে চলপতি, তাঁর স্ত্রী রবি ভেঙ্কট লক্ষ্মী চৈতন্য ওরফে অরুণা, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নরসিংহচলম ওরফে সুধাকর, পিএলজিএ-র শীর্ষ কমান্ডার মাধভী হিডমার মতো শীর্ষ নেতা-নেত্রীরা। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা, বিভিন্ন রাজ্যের গোয়েন্দা, সিআরপিএফ-সহ একাধিক কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা এই অভিযানে অংশ নিয়েছিল বলেও একটি সাক্ষাৎকারে সুন্দরাজ জানিয়েছিলেন।


Share