Jute Mills Closed

নতুন বছরের শুরুতেই সাময়িক কর্মবিরতি চেঙ্গাইলের জুটমিলে, কর্মহীন প্রায় চার হাজার শ্রমিক

জুটমিলের কর্তৃপক্ষের দাবি, কাঁচা পাটের সঙ্কট ও লোকসানের জেরে ২০ জানুয়ারি থেকে ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মিল বন্ধ থাকবে এবং চলবে ‘কাজ নেই, মজুরি নেই’ নীতি।

বন্ধ জুট মিল
নিজস্ব সংবাদদাতা, হাওড়া
  • শেষ আপডেট: ২১ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:০৩

নতুন বছরের শুরুতেই হাওড়ার চেঙ্গাইলের প্রেমচন্দ জুটমিলে কর্তৃপক্ষ ‘সাময়িক কর্মবিরতি’ ঘোষণা করল। মঙ্গলবার কাজে এসে মিলের গেটে নোটিস ঝুলতে দেখে অনিশ্চয়তায় পড়েন কয়েক হাজার শ্রমিক। এই সিদ্ধান্তে আপাতত প্রায় চার হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। যদিও কর্তৃপক্ষ একে ‘সাময়িক কর্মবিরতি’ বলে দাবি করেছে। তবুও শ্রমিক মহলে মিল পুনরায় চালু হওয়া নিয়ে গভীর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

মিল কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, আগামী ২০ জানুয়ারি থেকে ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মিলের কাজ বন্ধ থাকবে। এই সময় শ্রমিকরা ‘কাজ নেই, মজুরি নেই’ নীতির আওতায় থাকবেন। নোটিসে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে। নোটিসে মিল বন্ধের কারণ হিসেবে কর্তৃপক্ষ উল্লেখ করেছে, কাঁচা পাটের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও তীব্র সঙ্কট, নগদ টাকায় পাট কিনতে হওয়া, উন্নত মানের কাঁচামালের অভাব এবং বর্তমানে চালু তাঁতগুলির উৎপাদন ক্ষমতা অত্যন্ত কম ও অলাভজনক হওয়া। এর ফলে প্রতিদিন মিলকে বড় অঙ্কের লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে বলেও দাবি কর্তৃপক্ষের।

মিল কর্তৃপক্ষের আরও অভিযোগ, এই পরিস্থিতিতেও মিল চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু শ্রমিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলির কাছ থেকে সহযোগিতা না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে সাময়িক কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এদিকে শ্রমিক সংগঠন টিইউসিসি (ট্রেড ইউনিয়ন কো-অর্ডিনেশন সেন্টার)-র সম্পাদক হাবিবুর রহমান কর্তৃপক্ষের যুক্তি মানতে নারাজ। তাঁর অভিযোগ, পাটের সঙ্কটের কথা সামনে রেখে আসলে শ্রমিকদের উপর চাপ সৃষ্টি করতেই পরিকল্পিতভাবে মিল বন্ধ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “এই সিদ্ধান্তে শুধু চার হাজার শ্রমিক পরিবারই নয়, মিলকে ঘিরে থাকা এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও স্থানীয় অর্থনীতিও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।” মিল কবে ফের চালু হবে, বা  আদৌ খুলবে কি না— এই প্রশ্ন ঘিরেই চেঙ্গাইলের হাজার হাজার শ্রমিক পরিবারের এখন অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে।


Share