Assembly Elections

রাজ‍্যসভা এবং লোকসভা মিলিয়ে কমকরে ১০ জন সাংসদকে ভোটে লড়াতে চায় তৃণমূল কংগ্রেস, চিন্তাভাবনা শুরু করল শাসকদল

১৫ বছরে সরকারে উন্নয়ন, রাজ্যের প্রতি কেন্দ্রীয় বঞ্চনা, বাঙালি অস্মিতাকে হাতিয়ার করে নির্বাচনের মাঠে নামেছে তৃণমূল।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:১৭

মাস গড়ালেই বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করতে পারে নির্বাচন কমিশন। এ বারের নির্বাচনে দলের ১০ সাংসদকে প্রার্থী তৃণমূল করতে পারে। দলীয় সূত্রের খবর, জেলায় বেশ কয়েকটি আসনে তাঁদেরকে টিকিট দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস চিন্তাভাবনা করছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সিলমোহর পাওয়ার পরই তা চূড়ান্ত হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।

রাজ‍্যে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এর কাজ চলছে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করার পরে রণকৌশল কী হবে তা নিয়ে যেমন প্রস্তুতি তুঙ্গে তেমনি সম্ভাব্য প্রার্থী কারা হবেন তা নিয়েও আলোচনা ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রের খবর, উত্তর এবং দক্ষিণবঙ্গ মিলিয়ে কমকরে ১০ জন দলীয় সাংসদকে বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করানোর চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে মহিলা সাংসদেরাও রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। রাজ‍্যসভা এবং লোকসভা মিলিয়ে এই তালিকা তৈরির প্রক্রিয়া চলছে বলে সূত্রের খবর।

২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে তৃণমূল কংগ্রেস। গত পাঁচ বছরে রাজ্য রাজনীতিতে অনেকটাই পরিবর্তন এসেছে। নিয়োগ দুর্নীতি, ২৬ হাজার চাকরি বাতিল, সীমান্ত সমস্যা, বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ, আরজি কর হাসপাতালে ধর্ষণ এবং খুন, পরিযায়ী শ্রমিকদের সমস্যা-সহ একাধিক ইস্যুতে বিরোধীদের প্রশ্নের মুখে সরকারকে পড়তে হয়েছে। অন‍্যদিকে, ১৫ বছরে সরকারে উন্নয়ন, রাজ্যের প্রতি কেন্দ্রীয় বঞ্চনা, বাঙালি অস্মিতাকে হাতিয়ার করে নির্বাচনের মাঠে নামেছে তৃণমূল। রাজনীতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ বারের নির্বাচন গত বারের নির্বাচনের তুলনায় অনেকটাই আলাদা। রাজ‍্যের সমস‍্যা নিয়ে বিরোধীদের কাছে যথেষ্ট ইস‍্যু রয়েছে। প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া রয়েছে।

গত বছরে তৃণমূলের বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবির বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন। প্রতিষ্ঠাতা করেছেন নতুন রাজনৈতিক দল জনতা উন্নয়ন পার্টি। মৌসম বেনজির নূর তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দিয়েছে। সিপিএম এবং কংগ্রেসের সঙ্গে জোট হচ্ছে না বলে আপাতত জানিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি। ২৯৪টি আসনে প্রার্থী দেওয়ার কথাও জানিয়েছে। সেই আবহে মালদহ, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়ার একাংশের সংখ্যালঘু ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে বলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছে। সেক্ষেত্রে তাঁরা মনে করছেন, এ সব কারণের জন্য স্থানীয় প্রার্থীদের ওপর খুব একটা ভরসা করতে পারছে না শাসকদল। তাই দলের সাংসদ যাঁরা যথেষ্ট পরিচিত মুখ, তাঁদেরকে প্রার্থী করতে পারে তৃণমূল কংগ্রেস। যদিও শাসকদলের একটি সূত্রের দাবি, এই আলোচনার প্রাথমিক স্তরে রয়েছে। প্রার্থী কারা হবেন তা নিয়ে তৃণমূলনেত্রী তথা রাজ‍্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত নেবেন।

বর্তমানে এসআইআর নিয়ে দলীয় কাজে সবাই ব‍্যস্ত রয়েছেন। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পরে দলের রণকৌশল কী হবে তা নিয়ে শীর্ষ নেতৃত্ব ব‍্যস্ত রয়েছেন। আবার চলতি রাজ্যের বাজেটে ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পে টাকা বাড়ানো হয়েছে। টাকা বেড়ে সিভিক ভলান্টিয়ারদেরও। এ ছাড়াও, একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কথা রাজ্য বাজেটে ঘোষণা করা হয়েছে। তা প্রতিটি ব্লকে কী ভাবে প্রচার করা যায় তারও রণকৌশল ঠিক হচ্ছে। তবে সাংসদদেরা বিধানসভা নির্বাচনের টিকিট পেলে তার রণকৌশল কী হবে তা নিয়েও চিন্তাভাবনা সমান্তরাল ভাবে চলছে।


Share