Nabanna

ডিএ বকেয়া নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশ, ১০ হাজার ৪০০ কোটি জোগাড়ে চাপে নবান্ন

রায়ের আইনি দিক খতিয়ে দেখতে মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি আইনজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করছে। রিভিউ পিটিশন বা কিউরেটিভ পিটিশনের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের রায় পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।

নবান্ন
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:৫৯

সুপ্রিম কোর্ট রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ দ্রুত মেটানোর নির্দেশ দিয়েছে। বাকি ৭৫ শতাংশ কীভাবে পরিশোধ করা হবে, তা খতিয়ে দেখতে শীর্ষ আদালত একটি কমিটি গঠন করেছে, যাদের ৩১ মার্চের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। তবে এই বিপুল অঙ্কের টাকা-প্রায় ১০ হাজার ৪০০ কোটি কীভাবে জোগাড় করা হবে, তা নিয়ে চিন্তায় নবান্ন।

রায়ের আইনি দিক খতিয়ে দেখতে মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি আইনজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করছে। রিভিউ পিটিশন বা কিউরেটিভ পিটিশনের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের রায় পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।

এদিকে সামনে বিধানসভা নির্বাচন, যার জন্যও বড় অঙ্কের খরচ রয়েছে। পাশাপাশি রাজ্য বাজেটে সরকারি কর্মীদের জন্য চার শতাংশ ডিএ বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্পে ভাতা বাড়ানোর ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী, যার ফলে খরচ বেড়েছে প্রায় ২২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা এবং তা ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, বকেয়া ডিএ মেটাতে রাজ্য কি নতুন ঋণ নেবে, নাকি উন্নয়ন প্রকল্পে কাটছাঁট করবে এই নিয়ে সরকার দোটানায় রয়েছে।

সরকারি কর্মচারীদের মতে, কোনও পে কমিশনের অধীনে ১২৫ শতাংশ ডিএ পূর্ণ হলে পরবর্তী পে কমিশনে সেই ডিএ মূল বেতনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন বেসিক পে নির্ধারিত হয়। রাজ্য সরকার ২০২১ সালে ষষ্ঠ পে কমিশন অনুযায়ী বেতন চালু করে, তখন কেন্দ্রীয় কর্মীদের সপ্তম পে কমিশন কার্যকর হয়ে গিয়েছিল।

সুপ্রিম কোর্ট যে বকেয়া ডিএ মেটানোর নির্দেশ দিয়েছে, তা পঞ্চম পে কমিশন সংক্রান্ত। অভিযোগ, সেই সময়ে ৩৮ শতাংশ ডিএ দেওয়া হয়নি, যার মোট পরিমাণ এখন প্রায় ৪৩ হাজার কোটি টাকা। কনফেডারেশন অফ স্টেট এমপ্লয়িজ ফেডারেশনের সভাপতি শ্যামল মিত্র ও সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায় জানান, ২০১০ সালে বাম সরকার ছয় শতাংশ ডিএ দেয়, তখন কেন্দ্র-রাজ্যের ডিএ ফারাক ছিল ১৮ শতাংশ, যা পরে ধাপে ধাপে বাড়ে।

এছাড়া ষষ্ঠ পে কমিশনের ক্ষেত্রেও কেন্দ্র ও রাজ্যের কর্মীদের ডিএ-র ব্যবধান এখন ৪২ শতাংশ। এপ্রিলে আরও চার শতাংশ ডিএ কার্যকর হলে তা কমে ৩৮ শতাংশ হবে। ফলে ভবিষ্যতে ষষ্ঠ পে কমিশনের বকেয়া নিয়েও কর্মচারীরা আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের ভাস্কর ঘোষ বলেন, ‘আগে পঞ্চম বেতন কমিশনের বকেয়া আদায় করি। তারপরে এই বিষয়টি নিয়েও আইনজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলব।’


Share