Fraud

প্যারামেডিকেল কোর্সে ভর্তির নামে কোটি টাকার প্রতারণা, শিলিগুড়িতে গ্রেফতার ৩ শিক্ষক

জানা গিয়েছে, ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে শিলিগুড়ির কাছে শালবাড়িতে একটি ভাড়া বাড়ি নিয়ে প্যারামেডিকেল কোর্সের নামে একটি বেসরকারি সংস্থাভর্তি প্রক্রিয়া শুরু করে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি
  • শেষ আপডেট: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০১:১৩

প্যারামেডিকেল কোর্সে ভর্তির নাম করে কয়েক কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগে তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রবিবার ধৃতদের শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতে তোলা হয়। প্রধাননগর থানার পুলিশ তাঁদের তিন দিনের জন্য হেফাজতে নেয়।

প্রধাননগর থানার আইসি বাসুদেব সরকার জানান, 'একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া ছাত্রীরা প্রতারণার অভিযোগ করেছেন। প্যারামেডিকেল কোর্সের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁদের ভর্তি নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেটা না-করে ওই সংস্থা ছাত্রীদের ভোকেশনাল ট্রেনিংয়ের কথা বলে। তদন্তে ওই সংস্থার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উঠে এসেছে। আমরা সবটাই তদন্ত করে দেখছি।' অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানের ডিরেক্টর কয়েক কোটি টাকা নিয়ে গা-ঢাকা দিয়েছেন। এ ঘটনায় রবিবার রাতে প্রধাননগর থানার সামনে প্রতারিত ছাত্রীরা ও তাঁদের পরিবার বিক্ষোভ দেখান।

জানা গিয়েছে, ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে শিলিগুড়ির কাছে শালবাড়িতে একটি ভাড়া বাড়ি নিয়ে প্যারামেডিকেল কোর্সের নামে একটি বেসরকারি সংস্থাভর্তি প্রক্রিয়া শুরু করে। চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বিজ্ঞাপন ও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার চালানো হয়। শিলিগুড়ি ছাড়াও দার্জিলিং, কালিম্পং, সিকিম ও ডুয়ার্স থেকে শতাধিক ছাত্রী সেখানে ভর্তি হন। দেড় বছরের কোর্সের জন্য এক লক্ষ টাকা ফি ধার্য করা হয়। এর মধ্যে ৩০ হাজার টাকা ভর্তি ফি এবং ছ'হাজার টাকা পোশাকের জন্য নেওয়া হত। কোর্স ফি ও পোশাকের টাকা আগাম জমা দিতে বলা হয়েছিল। কেউ এককালীন, কেউ কিস্তিতে টাকা দেন। ভর্তির পর থিওরিটিক্যাল ও পরে প্র্যাকটিক্যাল ক্লাস শুরুর কথা থাকলেও তা শুরু হয়নি। অভিযোগ ওঠে, চাপ বাড়লে শিক্ষকরা ভোকেশনাল কোর্স করানোর কথা বলেন। এ নিয়ে কয়েক দিন ধরে সংস্থার ভিতরে অশান্তি চলছিল।

শনিবার দুপুরে ছাত্রীরা ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন। খবর পেয়ে রবিবার উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জায়গা থেকে ছাত্রীরা তাঁদের পরিবার নিয়ে শালবাড়ির ওই প্রতিষ্ঠানে পৌঁছন এবং বিক্ষোভ শুরু হয়। কালিম্পং থেকে আসা শ্রমিক দীনেশ ঠাকুর জানান, মেয়েকে ভর্তি করাতে কষ্ট করে এক লক্ষ টাকা জোগাড় করেছিলেন, এখন কী করবেন বুঝতে পারছেন না। সিকিমের ছাত্রী দেবিকা সুব্বার অভিযোগ, থিওরিটিক্যাল ক্লাস হলেও প্র্যাকটিক্যাল নিয়ে স্পষ্ট কিছু বলা হচ্ছিল না। সন্দেহ হওয়ায় তাঁরা কারণ জানতে চাইলে কোনও সন্তোষজনক উত্তর মেলেনি।

রবিবার টানা বিক্ষোভের মাঝে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিন জনকে গ্রেফতার করে। ধৃতদের নাম কিরণ রাই, কেবল খাওয়াস এবং শ্রীজনা কারকে তাঁরা সকলেই ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক বলে জানা গিয়েছে। বিক্ষোভের মধ্যেই সংস্থার ডিরেক্টর পালিয়ে যান। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি বিহারের বাসিন্দা এবং তাঁর খোঁজে তল্লাশি চলছে।

শিলিগুড়ির বাসিন্দা কঙ্কণা রায়চৌধুরী উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পরে ভর্তি হন এই প্রতিষ্ঠানে। তিনি বলেন, 'গত বছর মে মাসে এখানে ভর্তি হই। এক লক্ষ টাকা কোর্স ফি, ৩০ হাজার টাকা ভর্তি ফি এবং পোশাকের জন্য ছ'হাজার টাকা দাবি করা হয়। ইতিমধ্যে ৭৭হাজার টাকা জমা দিয়েছি। নার্সিং ট্রেনিং, অপারেশন থিয়েটারের কাজকর্ম শেখানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। এখন বলছে, শুধুমাত্র ভোকেশনাল ট্রেনিং-এর সার্টিফিকেট দেওয়া হবে। আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে।'


Share