Kolkata Municipality

বাঁশি নয়, প্যারোডির সুরে সকাল, কলকাতা পুরসভার নতুন উদ্যোগ ঘিরে তোলপাড় রাজনীতি

রোজ সকালে শোনা যাবে প্যারোডির সুর। ব্যাটারি চালিত জঞ্জাল সংগ্রহের গাড়িতে বক্সে বাজবে গান। জঞ্জাল সংগ্রহের গাড়ির মাইকে বাজানো হবে, ‘পুরসভা ডাক দিয়েছে বলছি আমি তাই, নির্ধারিত ডাস্টবিনে ময়লা ফেলা চাই। রাস্তায় ফেলবে না, মাঠে ফেলব না, হতে পারে জরিমানা তাই।’

কলকাতা পুরসভা
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২২ নভেম্বর ২০২৫ ১২:৪৩

রোজ সকালে সাফাই কর্মীর বাঁশির আওয়াজে ঘুম ভাঙে। বাঁশি বাজিয়েই তাঁরা জানিয়ে দেন তাঁরা বর্জ্য অপসারণ করতে এসেছেন। কিন্তু এবার থেকে রোজ সকালে শোনা যাবে প্যারোডির সুর। ব্যাটারি চালিত জঞ্জাল সংগ্রহের গাড়িতে বক্সে বাজবে গান। 

ব্যাটারি চালিত জঞ্জাল সংগ্রহের গাড়িতে শোনা যাবে উষা উত্থুপের গাওয়া জনপ্রিয় গান ‘উরি...উরি বাবা... প্রেম জেগেছে আমার মনে, বলছি আমি তাই... ’ এর প্যারোডি। জঞ্জাল সংগ্রহের গাড়ির মাইকে বাজানো হবে, ‘পুরসভা ডাক দিয়েছে বলছি আমি তাই, নির্ধারিত ডাস্টবিনে ময়লা ফেলা চাই। রাস্তায় ফেলবে না, মাঠে ফেলব না, হতে পারে জরিমানা তাই।’ 

বর্জ্য পদার্থ সংগ্রহের গাড়িতে বাঁশির বদলে প্যারোডি ব্যবহারের পিছনে যুক্তি দিয়েছেন কলকাতার পুরসভার কর্মীরা। তাঁদের মতে, বাঁশি দীর্ঘ দিন ধরে বাজানো হচ্ছে তাই শহরের মানুষ ওই শব্দের প্রতি উদাসীন হয়ে পড়েছেন। এ বার নতুন প্যারোডিতে মানুষের আগ্রহ বাড়বে। বর্জ্য ফেলে দেওয়ার নিয়ম সম্পর্কে সচেতন হবেন প্রত্যেকেই। 

এ বিষয়ে মেয়র ফিরহাদ হাকিম জানান, জঞ্জাল পৃথকীকরণের সমস্যা দূর করা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সচেতনতার প্রসার করা পুর বোর্ডের কাজ। যাঁরা কাজ না করে শুধু খই ভাজেন, তাঁরা অনেক কথা বলেন। পাশাপাশি, জঞ্জাল অপসারণ বিভাগের মেয়র পারিষদ তৃণমূলের দেবব্রত মজুমদার জানান, প্যারোডি সব সময়ে জনপ্রিয়। মানুষ সবসময় তা সাদরে গ্রহণ করে। তাই জঞ্জাল সংগ্রহ এবং পৃথকীকরণের কাজে আমরা প্যারোডি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। 

অন্যদিকে, এই প্যারোডি গান বাজানো নিয়ে কটাক্ষ করেছেন পুরসভার বিরোধী দলের কাউন্সিলাররা। তাঁদের দাবি, বর্তমান পুর বোর্ডের বাঁশি বাজানোর দম ফুরিয়ে গিয়েছে। সেকারণে প্যারোডির আশ্রয় নিতে হচ্ছে। এ বিষয়ে নিয়ে কলকাতা পুরসভার ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার তথা বিজেপির অন্যতম মুখপাত্র সজল ঘোষ জানিয়েছেন, পুরসভাই বলে দিচ্ছে ‘বাঁশি শুনে আর কাজ নাই।’ কারণ, ওই বাঁশির বিরুদ্ধে তো দিন দুপুরে চুরি আর রাতে ডাকাতির অভিযোগ। যাঁর চাপে হুইসেল থেকে ছোট্ট বলটা বেরিয়ে বাঁশি অকেজো হয়ে গিয়েছে, তাঁকে মুখ লুকোতে এখন প্যারোডির আশ্রয় নিতে হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, বর্জ্য পদার্থ পৃথকীকরণের জন্য কলকাতা পুরসভা সহ বিভিন্ন জেলার প্রত্যেকটি বাড়িতে অপচনশীল বর্জ্য ফেলার জন্য নীল ও পচনশীল বর্জ্যের জন্য সবুজ বালতি বিলি করেছে। কিন্তু প্রায় বাড়িতেই এই সব বালতি ব্যবহার করা হচ্ছে আটা, চাল রাখার জন্য। বহুবার বলা সত্ত্বেও মানুষকে এই বিষয়ে সচেতন করা যাচ্ছে না। তাই জঞ্জাল সংগ্রহ আর পৃথকীকরণে জনপ্রিয় গানের প্যারোডি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


Share