Rabindra Sarovar Kidnapping

ঋণ করিয়ে দেওয়ার নামে লক্ষাধিক টাকা নিয়ে ফেরত না দেওয়ায় অপহরণ! দাবি মুক্তিপণের, হাবরা থেকে গ্রেফতার দুই

পুরী থেকে অপহরণ করা হয়েছিল গড়িয়াহাটের এক বাসিন্দাকে। হাবরা থেকে দু’জনকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশ। চাওয়া হয়েছিল মুক্তিপণ। জানা গিয়েছে, ঋণ করিয়ে দেওয়ার নামে টাকা নিয়ে ফেরত না দেওয়ায় অপরণ করা হয় ওই ব্যক্তিকে। এর মধ্যে পলাতক এক জনকে খুঁজছে পুলিশ।

সাংবাদিক বৈঠকে দক্ষিণ-পূর্ব শাখার ডেপুটি কমিশনার ভোলানাথ পাণ্ডে।
এখন কলকাতা ডেস্ক, কলকাতা
- নিজস্ব চিত্র
  • শেষ আপডেট: ৩০ জানুয়ারি ২০২৫ ১২:০০

লোন করিয়ে দেওয়ার নামে টাকা নিয়েছিলেন। সেই টাকা ফেরত না দেওয়ায় গত আট দিন আগে অপহরণ করা হয়েছিল গড়িয়াহাটের কৌশিক লাহিড়ি এক বাসিন্দাকে। দাবি করা হয়েছিল ১৪ লক্ষ টাকার মুক্তিপণ। এ বার সেই ঘটনার তদন্তে নেমে সেই ব্যক্তিকে উদ্ধার করল কলকাতা পুলিশ। অপহরণের অভিযোগে দু’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতরা হলেন, মিঠুন বৈদ্য এবং ছারুর আহমেদ বৈদ্য ওরফে ‘চিরু’। চিত্তরঞ্জন রায় বলে এক জন পলাতক।? 

জানা গিয়েছে, বুধবার রবীন্দ্র সরোবর থানায় স্বামীর অপহৃত হওয়ার অভিযোগ দায়ের করতে আসেন শুচিস্মিতা লাহিড়ি এক মহিলা। শুচিস্মিতা জানিয়েছেন, গত ২২ জানুয়ারি তাঁর স্বামী কৌশিক লাহিড়ি অফিসের কাজে পুরীর উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। গত রবিবার তাঁর কাছে একটি অচেনা নম্বর থেকে ফোন আসে। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে পুরুষকণ্ঠ জানায়, তাঁর স্বামীকে অপহরণ করা হয়েছে। অবিলম্বে ১৪ লক্ষ টাকা দিতে হবে। না দিলে ছাড়া পাবেন না তিনি। ভয় পেয়ে স্বামীর অ্যাকাউন্টে অনলাইনে মুক্তিপণ বাবদ ৫০ হাজার টাকা পাঠিয়েও দেন শুচিস্মিতা। এর পরেও স্বামী না ফেরায় শেষমেশ বুধবার রবীন্দ্র সরোবর থানার দ্বারস্থ হন তিনি।? 

অভিযোগের ভিত্তিতে রবীন্দ্র সরোবর থানা এবং লালবাজারের যৌথ উদ্যোগে অপহৃত যুবকের খোঁজে শুরু হয় তল্লাশি। শেষমেশ উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়ার এক বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় কৌশিককে। বৃহস্পতিবার কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত নগরপাল রূপেশ কুমার জানিয়েছে, ছারুর আহমেদ বৈদ্য গত ২০২৩ সালে কৌশিক লাহিড়িকে ১৪ লক্ষ টাকা দেন। এর বিনিময় কৌশিক ছারুরকে আড়াই কোটি টাকার ঋণ করিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু বছর কেটে গেলেও কৌশিক আড়াই কোটি টাকার ঋণ করিয়ে দিতে পারেননি। ১৪ লক্ষ টাকাও ফেরত দেননি। পুলিশের দাবি, মিঠুন বৈদ্য এবং ছারুর আহমেদ বৈদ্য এবং চিত্তরঞ্জন রায় তিনজনে মিলে ষড়যন্ত্র করে। কৌশিকের পুরী যাওয়ার খবর চিত্তরঞ্জন রায় ছারুরকে দেয়। এর পর অভিযুক্তরা একটি গাড়ি নিয়ে পুরী রহনা দেয়। সেখান থেকে কৌশিক লাহিড়িকে অপহরণ করে হাবরায় নিজের বাড়িতে আনে। সেখান থেকেই মিঠুন বৈদ্য এবং ছারুর আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়। পলাতক রয়েছে চিত্তরঞ্জন রায়। তাঁকে খুঁজছে কলকাতা পুলিশ। দু’জনেই হাবড়ার রাউতাড়া থানা এলাকার ধাপধারার বাসিন্দা। ধাপধারায় ‘চিরু’র বাড়ি থেকেই উদ্ধার করা হয়েছে ওই যুবককে।? 

এ দিন সকালে দক্ষিণ-পূর্ব শাখার ডেপুটি কমিশনার ভোলানাথ পাণ্ডে জানিয়েছেন, ওই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতেরা হলেন মিঠুন বৈদ্য এবং ছারুর আহমেদ বৈদ্য ওরফে ‘চিরু’। তাঁদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৪০(২) এবং ৩(৫) ধারার অধীনে মামলা করা হয়েছে।? 

জানা গিয়েছে, ধৃতরা এবং কৌশিক লাহিড়ি সবাই সবাইকে চেনে। ধৃতরা ঋণ করিয়ে দেওয়ার জন্য গ্রাহক পাইয়ে দিতেন কৌশিককে। তবে তাঁকে অপহরণ করা পিছনে এই কারণ ছাড়া অন্য কিছু আছে কি না সে সব খতিয়ে দেখতে এখনও তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।? 


Share