High Court

তিন দশকের সম্পর্কের শেষে নীরব প্রস্থান, হাই কোর্টে বিদায় সংবর্ধনা নিলেন না বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু

তিন দশকেরও বেশি সময় কলকাতা হাই কোর্টে যুক্ত থাকার পর অবসর নিচ্ছেন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু। সাম্প্রতিক বিতর্ক ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি অসম্মানজনক ঘটনার প্রেক্ষিতে তিনি বিদায় সংবর্ধনা গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

বিচারপতি বিশ্বনাথ বসু
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ০৩:৪৭

প্রথমে আইনজীবী, পরে বিচারপতি। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে কলকাতা হাই কোর্টের সঙ্গে যুক্ত থাকার পর শুক্রবার অবসর নিতে চলেছেন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু। প্রথা অনুযায়ী, অবসরের দিনে প্রধান বিচারপতির এজলাসে সব বিচারপতি ও আইনজীবীর উপস্থিতিতে তাঁর বিদায় সংবর্ধনা হওয়ার কথা থাকলেও, সেই অনুষ্ঠান গ্রহণ করতে চাননি বিচারপতি বসু। হাই কোর্ট সূত্রের খবর, তিনি প্রধান বিচারপতিকে চিঠি দিয়ে বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন না–করার অনুরোধ জানিয়েছেন।

এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রয়েছে সাম্প্রতিক এক বিতর্কিত ঘটনা। হাই কোর্ট সূত্রে জানা গিয়েছে, বিচারপতি বসুর এজলাসে ১৬০০টি সুপার নিউমেরারি পদের বৈধতা সংক্রান্ত মামলা চলাকালীন, ওই মামলার সঙ্গে যুক্ত একাংশ চাকরিপ্রার্থী কয়েক মাস আগে প্রকাশ্যে বিচার ব্যবস্থাকে কুরুচিকর ভাষায় আক্রমণ করেন। এমনকি বিচারপতি বসুর ছবি রাস্তায় ফেলে পা দিয়ে মাড়িয়ে তাঁকে নিয়ে অসম্মানজনক মন্তব্য করা হয়। এই ঘটনায় হাই কোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত মামলা গ্রহণ করে, যা বর্তমানে তিন বিচারপতির একটি স্পেশাল বেঞ্চে বিচারাধীন।

এই ঘটনায় গভীরভাবে অপমানিত ও আহত বোধ করেছেন বিচারপতি বসু। তবে হাই কোর্ট সূত্রের দাবি, তিনি শুধু ওই ঘটনার জন্যই নয়, বরং যাঁরা একসময় তাঁর সহকর্মী ছিলেন, তাঁদের ভূমিকা নিয়েও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

বিচার বিভাগের এক আধিকারিকের বক্তব্য, ‘ওই ঘটনায় মামলা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু আইনজীবী হিসেবে বিশ্বজিৎ বসু বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ছিলেন। আর যে ঘটনায় কেবল তাঁর নয়, গোটা বিচার ব্যবস্থার সম্মান নষ্ট করার চেষ্টা হয়েছে, তাতে সেই বারের কোনও পদক্ষেপ না–দেখে তিনি মর্মাহত। বার অ্যাসোসিয়েশন কোনও রেজ়োলিউশন নেয়নি ওই ঘটনায়।’ ওই আধিকারিকদের একাংশের মতে, এমন পরিস্থিতিতে বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সেই সংগঠনের তরফে প্রশংসাসূচক বক্তব্য তিনি গ্রহণ করতে চাননি। সেই কারণেই তিনি বিদায় সংবর্ধনা না–নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রধান বিচারপতিকে চিঠি দেন।

এ ছাড়া হাই কোর্ট সূত্রে জানা গিয়েছে, বিদায় সংবর্ধনার কারণে প্রায় এক ঘণ্টা বিচারকাজ ব্যাহত হয়, এই বিষয়েও তাঁর আপত্তি ছিল। তবে প্রথা অনুযায়ী, শুক্রবার তাঁর শেষ কর্ম দিবসে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু সেরিমোনিয়াল বেঞ্চে বসবেন বলে জানা গিয়েছে।

উল্লেখ্য, অভিজ্ঞ আইনজীবীদের মতে, এর আগে ২০১৭ সালে বিচারপতি অসীম রায়ও কোনও বিদায় সংবর্ধনা না নিয়েই অবসর গ্রহণ করেছিলেন।


Share